আশুরা ১০ সেপ্টেম্বর! ইতিহাসের আলোকে কারবালার হত্যা কান্ড!

September 1, 2019, 1:46 PM, Hits: 648

আশুরা ১০ সেপ্টেম্বর! ইতিহাসের আলোকে কারবালার হত্যা কান্ড!

হ-বাংলা নিউজ : ইসলামী রাষ্ট্রের ৪র্থ খলিফা হযরত আলি( রাঃ) দ্বায়ীত্ব গ্রহনের পর রাজধানী ইরাকের ঐতিহাসিক কুফা নগরীতে স্থানান্তর করেন!পরবর্তীতে তিনি খাওয়ারিজদের হাতে নিহত হন! তার ইন্তেকালের পর কুফার অধিবাসীরা ইমাম হাসান (রাঃ) কে ও দামেস্কের(সিরিয়ার) অধিবাসীরা মোয়াবিয়া (রাঃ) কে খলিফা মনোনীত করেন! ইসলামের ইতিহাসে মুসলিম সাম্রাজ্যে এই প্রথম বারের মত এক রাস্ট্রে দুই খলিফার আবির্ভাব ঘটে এবং উভয় পক্ষ এক রক্তক্ষয়ী গৃহযূদ্ধের দিকে অগ্রসর হয়! ইতিপুর্বে মুসলমানদের মধ্যে জামাল ও সফিন গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতা চিন্তা করে পূণরায় রাক্তপাত এড়াতে ইমাম হাসান ৬ মাসের মাথায় স্বেছায়, বিনা রক্তপাতে পদত্যাগ করে মদীনায় ফিরে যান! এখানে উল্লেখ করা আবশ্যক যে রাজনৈতিক কারণে ক্ষমতার দ্বন্ধে খোলাফায়ে রাশেদুনের পর সাহাবায়ে কেরাম গৃহযূদ্ধে জড়িয়ে পড়েন! ইতিপূর্বে যথেস্ট রক্তপাত হওয়ার কারণে এবং মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ চিন্তা করে ইমাম হাসান(রাঃ) এই সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন যদিও তিনি ছিলে আহ্লে বাইত ও মোয়াবিয়ার চেয়ে অধিকতর যোগ্যতা সম্পন্ন জ্ঞানী ছিলেন এবং সব দিক থেকে যোগ্যতম ব্যাক্তি ছিলেন! তবে তার এই সিদ্ধান্তে কুফাবাসি মনক্ষূন্ন হন এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থে শেষ পর্যন্ত্য নীরব থাকেন! ইমাম হাসান(রাঃ) রক্তারক্তির মাধ্যমে ক্ষমতা চাননি! যদিও শিয়া টু আলী(রাঃ) বা আলীর সমর্থগণ চাচ্ছিলেন আহ্লেবাইত থেকেই পরবর্তী খলিফা হবেন! এখানে উল্লেখ করা জরুরী যে শিয়া টু আলী প্রথম দিকে রাজনোইতিক সংঘটন ছিল, ধর্মিয় কোল আক্বিদা বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে শিয়াইজম আসেনি! সম্পূর্ণ রাজনোইতিক কারণে এর আবির্ভাব! ইমাম হাসান(রাঃ) ছিলেন অধিকতর ধর্ম ভীরু জ্ঞানি ফরহেজগার এবং ক্ষমতা লোভী ছিলেন না! তাই তিনি আহ্লেবাইত যোগ্য ও জ্ঞানী ,খেলাফতের যোগ্য উত্তরসূরী হওয়া স্বত্বেও এই দাবী থেকে সরে আসেন! যদিও তার এই সিদ্ধান্তে ইমাম হোসেন (রাঃ) অখূশী হলেও বড় ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে কোন উচ্চবাচ্য করেননি! গোড়ার দিকে শিয়া টু আলী কোন ধর্মীয় আক্বিদা বিশ্বাস বা থিয়লজির উপর প্রতিস্টিত ছিলনা! ছিল রাজনৈতিক মতবাদ! যেমন রিপাব্লিকান-ডেমোক্রেট, বিএনপি-আওয়ামী লীগ! তাদের রাজনৈতিক মতবাদ ছিল পরবর্তী খলীফাগণ আহ্লেবাইত থেকে নির্বাচিত হবেন!তারা ছিলেন অধিকতর যোগ্য ও সর্ব্জন শ্রদ্ধেয় ! ইমাম হাসান ও হোসেন(রাঃ) কে স্বয়ং হুজুর (সঃ) "সাইয়িদী শবাবে আহ্লিল জান্নাহ" বা জান্নাতে যূব সমাজের নেতা হিসেবে অভিহীত করেছে! (যদিও জান্নাতে সবাই যুবক)! ইমাম হাসান ছিলেন ইমাম হোসেনের চেয়ে অধিকতর বিচক্ষণ তাই তিনি ক্ষমতা নিয়ে মোয়াবিয়ার সাথে মোকাবেলা না করে মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থে নিজের স্বার্থ কোরবাণী দেন! রাষ্ট্রের কাজ থেকে অব্যাহতি নিয়ে মদীনায় দ্বীনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন! আহ্লে বাইত বা নবী করিম(সঃ) এর পরিবার বলতে আলীর অনুসারি শিয়ারা কেবলমাত্র আলী ও ফাতিমার বংশদের বুঝে থাকেন! তবে আমরা নবীর(সঃ) এর বিবিগণকেও আহ্লে বাইত হিসেবে গণ্য ও অতি উচূ মর্যাদার আসনে দেখি! পাক কালামে বার বার "ইয়া নিসা আন্নবি ইয়া নিসা আন্নবি" বার বার উ;ল্ল্যেখ আছে! সূতরাং বিবিগণ ও আহ্লেবাইত ইহাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই এবং উচ্চ মর্যাদার কারণে আহ্লে বাইতের সদস্যদের জাকাত প্রদান নিষিদ্ধ! অবশ্য হাসান হসেন ইবনে আলী(রাঃ) আহ্লে বাইতের সেন্টার বা ক্রিম!

এদিকে মোয়াবিয়া তার জীবদ্দশায়ই বার বার ঘোষনা দেন তার ওফাতের পর তার পূত্র ইয়াজিদই হবেন পরবর্তী শাসন কর্তা!

মোয়াবিয়া  ওফাতের পর পূর্ব ঘোষনা অনুযায়ী তার পূত্র ইয়াজিদ শসন ক্ষমতা গ্রহন করেন! ইয়াজিদ ইবনে মোয়াবিয়া ইবনে আবুসুফিয়ান ইবনে উমাইয়া! বনু হাসেম অর্থাৎ কুরাইশদের মতই উমাইয়া সম্প্রাদায় তৎকালে নেতৃস্থানীয় আরব ট্রাইব সম্মানিত গোস্টী! স্মরণ করুন আবু সূফিয়ানের কারণে বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়! অপরদিকে ইয়াজিদ মোয়াবিয়া (রাঃ) মত বিশিষ্ট সাহাবীর সন্তান যে নাকি মাত্র ২০ বছর বয়সে রুমান শহর(বর্ত্মান ইস্তাম্বুল) কনস্টান্টিনোপল অভিযানের নেতৃত্ব দেন , তিনি আবু সূফিয়ানের ও নাতী! হাদিস শরিফে আছে নবী করিম(সঃ) বলেন " আমার উম্মাহর যে দলটি সর্ব প্রথম রুমান সিটি/সিজারের শহর অর্থাৎ কনস্টান্টিনোপল আক্রমন করবে তারা ক্ষমা প্রাপ্ত হবে! ইয়াজিদের পক্ষে ইহা একটি প্লাস পয়েন্ট বলে ঔতিহাসিকগণ মনে করেন! সে এই ছোট্ট বাহিনীর কমান্ডার ছিল যদিও অভিযান সফল হয়নি! উল্লেখ করা আবশ্যক যে মোয়াবিয়া একজন বিশিষ্ট সাহাবী! তার নিয়ত বা উদ্দ্যশ্য দিয়ে প্রশ্ন তুলার সাহস আমাদের নেই! হয়তো তিনি মুসলিম উম্মাহর মঙ্গলের কথা চিন্তা করেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন! তবে তাদের ভূল রাজনোইতিক সিদ্ধানের খেসারত মুসলিম উম্মাহকে রক্ত দয়ে পরিশোধ করতে হয়েছে ! আমি আবারো পরিষ্কার ভাষায় বলে চাই এগুলি ছিল তাদের রাজনোইতিক সিদ্ধান্ত, ধর্মিয় নয়! আর রাজনিতি নিশ্চিত ভাবে মানুষকে অপ্রিয় করে তুলে! সরল মনেই কোন কোন সময় সিদ্ধান্ত হতে হয় যার ফলাফল অনেক ক্ষেত্রে কুফল বয়ে আনে! আমি এখানে রাজনোইতিক ইতিহাস আলোচনার চেস্টা করছি ধর্মীয় নয়!

সে যাক মূল প্রসঙ্গে আসা যাক, ইয়াজিদ ক্ষমতা গ্রহনের পর আবারও ফূসে উঠেন কূফাবাসী! তারা আলীর সমর্থক বা শিয়া টু আলী হিসেবে আলীর পরিবারের প্রতি সহানুভূতিশীল! তারা আগের মতই দাবী করছেন আলহেবাইত বা নবীর পরিবারবর্গই মুসলিম জাহানের শাসনকর্তা হবেন! স্মরণ করা যেতে পারে যে তখন পর্যন্ত্য শিয়াইজম একটি পলিটিক্যাল মোভমেন্ট বা রাজনোইতিক আন্দোলন যারা আহ্লেবাইতের প্রতি অয়ানুগত্যশীল এবং তাদের দাবী হুসেনই হবেন পরবর্তী শাসন কর্তা হবেন আলীর পরিবার থেকি! কোন রকম ধর্মীয় থীয়লজী আক্বিদা বা বিশ্বাসে ভিত্তি তাদের ছিলনা! সম্পূর্ণ রাজনোইতিক সংঘটন শিয়া টু আলি(রাঃ)। অর্থাৎ আলীর পার্টি দল বা সমর্থক!

এদিকে মক্কা ছিল অপেক্ষাকৃত উমাইয়াদের নিয়ন্ত্রণহীন! মদীনার গভর্ণর ইমাম হূসেন(রাঃ) কে ডেকে পাঠান এবং ইয়াজিদের অনুকূলে বায়াত গ্রহন/আনুগত্য প্রকাশ ও পর দিন জুম্মার খূতবাহ দিতে চাপ সৃস্টি করেন! প্রচন্ড চাপে ইমান হূসেন কিছুটা সময় চিন্তা ভাবনা করার অজূহাতে! মক্কা অপেক্ষাকৃত নিরাপদ হওয়ায় ঐরাতেই তিনি পরিবার সহ মদীনা ত্যাগ করে মক্কায় চলে যান! চারিদিকে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে হূসেন ইয়াজিদের পক্ষে বায়াত গ্রহনে অস্বীকৃত জানিয়ে মদীনা ত্যাগ করেছেন! এই সংবাদ কুফায় পোউছালে কুফাবাসী আনন্দিত ও উল্লসিত হন! আগেই বলেছি মক্কা মদিনা মোয়াবিয়ার আমল থেকেই বিদ্রহী ছিলেন! তারা ইমাম হাসানের স্বেচ্ছা পদত্যাগ ভাল ভাবে নেননি! তবে সরাসরি বিদ্রোহ ও করেননি! আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছেন! আবার মোয়াবিয়াও তার রাজধানী দামেস্কে স্থানান্তর করে মক্কা মদীনাবাসিকে ঘাটাঘাটি করেননি! আলীর পরিবাওরকে যথেস্ট সম্মানের চোখে দেখেছেন সহীহ করেছেন! হাসান তার শেষ জীবন আল্লাহর আরাধনায় ব্যাস্ত ছিলেন! তিনি ছিলেন অত্যান্ত পহেরগার ও বিচক্ষন এবং সব চেয়ে যোগ্য আহ্লে বাইত! মুসলিম উম্মাহ যথেস্ট সাফার করেছে ইতি মধ্যে তাই তিনি আর কস্টের কারণ হতে চাননি ক্ষমতার লরাই করে! দুনিয়ার পরিবর্তে আখিরাতকেই প্রাধান্য দিয়ে বিনা রক্তপানে মোয়াবিয়াকে মেনে নিয়ে ছিলেন! তবে হূসেন ইয়াজিদকে সহজ ভাবে মেনে নেননি! কুফাবাসী তাদের আবেগ উত্তেজনা ধরে রাখতে পারেননি! তারা দূত মারফত চিঠি পত্র পাঠাতে শুরু করেন যার সারমর্ম হচ্ছে "আহ্লান ওয়া সাহ্লান ইয়া হুসেন" হে নবীর নাতি তুমি আস আমরা কুফাবাসী তোমার পক্ষে আছি! আমরা তোমার নেতৃত্বে ইয়াজিদকে পরাজিত করব! তারা নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে পত্র পাঠাতে থাকেন! পরবর্তী দুই সপ্তাহে প্রায় ৬০ খানা পত্র এসে হূসেনের হাতে পৌছায়!  ... (চলবে)

  

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ