লাগোর্ডিংয়া ম্যারিয়ট ফোবানা কনভেনশনে ঐক্যের আহবান \ ২০২০ সালের সম্মেলন মন্ট্রিয়ল

September 5, 2019, 10:23 AM, Hits: 141

লাগোর্ডিংয়া ম্যারিয়ট ফোবানা কনভেনশনে ঐক্যের আহবান \ ২০২০ সালের সম্মেলন মন্ট্রিয়ল

সালাহউদ্দিন আহমেদ, হ-বাংলা নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : ঐক্যবদ্ধ ফোবানা আর ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রত্যয়ে নিউইয়র্কের লাগোর্ডিয়া মারিয়ট হোটেলে অনুষ্ঠিত হলো তিন দিনব্যাপী ৩৩তম ফোবানা কনভেনশন-২০১৯। ৩০-৩১ আগষ্ট ও ১ সেপ্টেম্বর এই কনভেনশনের কর্মকান্ড চলে। গত ৩০ আগষ্ট শুক্রবার সন্ধ্যায় ঐক্যের আহবানে এই কনভেনশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী, অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা। এদিকে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের ফোবানা কনভেনশনের ভেনু নির্ধারিত হয়েছে কানার মনিট্রয়েল।

এই কনভেনশনের আয়োজক সংগঠন হচ্ছে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মন্ট্রিয়েল। এই কনভেনশনের কনভেনর মনোনীত হয়েছেন এজাজ আক্তার তৌফিক। কনভেনশনের শেষ দিন ১ সেপ্টেম্বর রোববার অনুষ্ঠিত ফোবানার স্টিয়ারিং কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে। বাংলাদেশী আমেরিকান ফেন্ডশীপ সোসাইটি অব নিউইয়র্ক আয়োজিত তিন দিনের ফোবানা কনভেনশনের অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো সেমিনার, কাব্য জলসা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রভৃতি।

কনভেনশনের কনভেনর শাহ নেওয়াজের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফোবানার ভাইস চেয়ারম্যান আলী ইমাম শিকদার। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক ডেপুটি মেয়র আব্দুস সালাম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন  ফোবানা এই অংশের স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসন খান, প্রধান উপদেষ্টা মোর্শেদ আলম, এটর্নী মঈন চৌধুরী, বিশিষ্ট সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী, নিউইয়র্ক বাংলাদেশী লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি আসিফ বারী টটুুল প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কনভেনশনের সদস্য সচিব ফিরোজ আহমেদ। 

উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন। এছাড়াও ফোবানা’র এক্সিকিউটি সেক্রেটারী কাজী আজম সহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও অতিথিদের মধ্যে আতিকুর রহমান ইউসুফজাই সালু, ডা. মাসুদুর রহমান, গিয়াস আহমেদ, মিজানুর রহমান জসিম ভূইয়া, কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন, মোহন জব্বার এনএনবিসি’র চেয়ারম্যান উত্তম দে ও মেম্বার সেক্রেটারী শহীদুল ইসলাম ঠান্ডু, সাবেক চেয়ারম্যান আবু লিয়াকত হুসেন ও ডা. ইবরুল চৌধুরী মে  উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীন্দ্র নাথ রায় ও শহীদ হাসান সহ বাংলাদেশের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী কনক চাঁপাও উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন। 

কনভেনশন উদ্বোধনের পর বাংলাদেশের সকল শহীদে স্মরণে এক মিনিটি নিরবতা পালন করা হয়। এরপর বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এসময় বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত নতুন প্রজন্মের তিন তরুণী যথাক্রমে মুনতাহা, ফারিয়া ও সৈয়দা মেহজাবীন তিন দেশের পতাকা বহন করেন। বর্ণাঢ্য এই পরিবেশনা উপস্থিত সবার মন কাড়ে। কানাডা ছাড়াও নিউইয়র্ক সহ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাইষ্টেট রাজ্যের তিন শতাধিক বাংলাদেশী সপরিবারে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন বলে কনভেনশন আয়োজক কর্মকর্তাদের দাবী। 

এর আগে ফোবানা কনভেনশনে অতিথি, সুধীবৃন্দ ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বাগত জানান গোলাম মোস্তফা ও মাকসুদুল হক চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাদেক হোসেন খোকা প্রবাসী বাংলাদেশীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশ-জাতি ও পরিবারের কল্যাণে অবদান রাখার আহবান জানিয়ে বলেন, ফোবনাতেও ঐক্য হওয়া জরুরী। প্রবাসে আমাদের ঐক্যের মধ্য দিয়ে আমাদের ঐতিহ্য তুলে ধরতে হবে। ফোবানাকে রাজনীতি মুক্ত রাখতে হবে। ফোবানা কনভেনশন দেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশেরও ভ‚মিকার রাখতে পারে। তিনি নতুন প্রজন্ম সহ ভিনদেশীদের মাঝে বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরার আহŸান জানান। 

কনভেনশনের বিভিন্ন দিনে উপরোক্ত অতিথি ছাড়াও কানা থেকে আগত ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান এজাজ আক্তার তৌফিক, আবু জুবায়ের দারা, বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা বাবুল আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আব্দুস সালাম বলেন, আমরা বাংলাদেশের মানুষ রাজনীতির বাইরে না। আবার ভিন্ন মতের রাজনীতি করেও দেশ-জাতির স্বার্থে আমরা ঐক্যবদ্ধ হওয়া ও ঐক্যবদ্ধ থাকার দৃষ্টান্ত দেখাতে পারি। ফোবানা এমন-ই সংগঠন যেখানে রাজনীতি নয়, ঐক্যবদ্ধ থাকাই জরুরী। 

মোহাম্মদ হোসেন খান তার বক্তব্যে বলেন, যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ফোবানার জন্ম তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে আমরা লক্ষ্যভ্রষ্টও হয়নি। আজ ফোবানা বিভক্ত এটাই সত্য। তিনি বাস্তবতা আর সাংগঠনিক ভিত্তির আলোকে ফোবানাকে ঐক্যবদ্ধ করার আহŸান জানান। 

কনভেনর শাহ নেওয়াজ বলেন, ফোবানা কনভেনশন উত্তর আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্লাটফর্ম। সবাই মিলে আজ আমরা কনভেনশন সফল করতে পেরেছি এটাই আমাদের স্বার্থকতা। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

এবারের কনভেনশন নিয়ে ফোবানা’র সাবেক চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান ইউসুফজাই সালু এই ইউএনএ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে বলেন, আমরা ফোবানায় ঐক্য চাই বলেই ফোবানা আর এনএবিসি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। যার ফলশ্রæতিতে লাগোর্ডিয়া ম্যারিয়েটে ৩৩তম ফোবানা কনভেনশন হলো। এতে সত্যের জয় হয়েছে, সবাই ঐক্যের পথে আসছেন। তিনি বলেন, আর যারা ঐক্য চায় না তারা ফোবানা-কে বিভক্ত করে পৃথক সম্মেলন করেছে, মামলা করেছে। আর মামলার পরেও আমরা সফলকাম হয়েছি। এজন্য তিনি লাগোর্ডিয়া ফোবানা কনভেনশনের সাথে সংশ্লিস্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উদ্বোধনী দিনে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে নৃত্যাঞ্জলীর শিল্পীবৃন্দ। এই পর্ব পরিচালনা করেন চন্দ্রা ব্যানার্জী। আরো ছিলো ৩৫ জন শিল্পীর পরিবেশনায় ‘চলো যাই লাগোর্ডিয়া ম্যারিয়টে’ ফোবানার থিম সং। 

কনভেনশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন, নিউইয়র্ক ষ্টেট সিনেটর লিরয় কমরি, ব্রæকলীন বরো প্রেসিডেন্ট এরিক এডাম, সিটি কাউন্সিম্যান কস্টা, কানা থেকে আগত এজাজ আকতার তৌফিক ও আবু জোবায়ের দারা, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাউথ জার্সীর আব্দুর রফিক চৌধুরী প্রমুখ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন আতিকুর রহমান ইউসুফজাই সালু,  ড. শওকত আলী, নাসীর আলী খান পল, আবু জাফর মাহমুদ, গিয়াস আহমেদ, কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন, জসিম ভূঁইয়া, ডা. ইবলুর চৌধুরী, মেরী জোবাইদা, বদরুন নাহার খান মিতা, ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান অপু,

এদিকে এই কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বাংলাদেশ মঞ্জুরী কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. এস এম এ ফয়েজ সহ বিশেষ অতিথিদের মধ্যে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমান ও খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান ড. সিদ্দিকুর রহমান সহ অনেক অতিথিই কনভেশন যোগ দেননি। তারা কেনো যোগ দেননি তার সঠিক কোন কারণ জানা যায়নি। তবে কনভেনশনের আয়োহন নেতৃবৃন্দ জানান, তাদের সম্মতিতেই অতিথি হিসেবে প্রচার করা হয়। অপরদিকে ড. সিদ্দিকুর রহমান বিভক্ত ফোবানায় যাতে যোগ দিতে না হয় এজনই তিনি কনভেনশনের কয়েকদিন আগেই ব্যক্তিগত আর দলীয় কাজের অজুহাতে ঢাকায় চলে গেছেন বলে নির্বরযোগ্য জানান। পাশাপাশি এই কনভেনশনে বিএনপি দলীয় বা বিএনপি মনোভাবাপন্ন নেনতৃবৃন্দের সংখ্যাধিক্য থাকায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সহ আওয়ামী মনোভাবাপন্ন নেতা-কর্মীরা এতে যোগ দেননি বলে সূত্রটি জানায়। সূত্র মতে, দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকেও লাগোর্ডিয়ার ফোবানায় যোগ না দিতে মৌখিক নির্দেশনা ছিলো বলে অপর একটি সূত্র জানায়।   

কনভেশনের দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত পানি বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন। সেমিনারে কী নোট স্পীকার ছিলেন আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটির চেয়ারম্যান ও ফোবানা’র সাবেক চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান ইউসুফজাই সালু। ডা. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এতে অংশ নেন। 

এছাড়াও ‘বেকারত্ব ও জলবায়ু পরিবর্তন’, ‘ফাউন্ডেশন অব ইয়্যুথ লীডারশীপ অ্যান্ড হ্যাবিটস অব সাকসেসফুল’ এবং ‘গণতন্ত্রের সঙ্কট বিপর্যস্ত বাংলাদেশ’ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারগুলোতে প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন, বিশিষ্ট রাজনীতিক আব্দুস সালাম, বিশিষ্ট সাংবাদিক মনজুর আহমদ, সাংবাদিক মঈনুদ্দীন নাসের, সাপ্তাহিক ঠিকানা’র প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, সাপ্তাহিক বাঙালী সম্পাদক কৌশিক আহমদ, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, মূলধারার রাজনীতিক মোর্শেদ আলম, লেখক মাহমুদ রেজা চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। কবিতা জলসায় কবিতা আবৃত্তিতে অংশ নেন হোসনে আরা জিমি, এলিনা, সেলিম ইব্রাহীম, জুলি রহমান, শাহ আলম দুলাল প্রমুখ। 

কনভেনশনের দ্বিতীয় দিনে মূলমে  বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিনেতা বাবুল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আগ্রাসী ষড়যন্ত্র চলছে। এই আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। দেশের শিল্প-সংস্কৃতি ধ্বংসের পায়তারা চলছে। এর বিরুদ্ধে দেশ ও প্রবাসের সকল বাংলাদেশীকে রুখে দাঁড়াতে হবে। পরে তিনি একটি নাটকের অংশ বিশেষ এককভাবে অভিনয় করে দেখান। 

কনভেনশনের শেষ দিনে ‘অ্যাওয়ার্ড গিভিং সেরমনি’ অনুষ্ঠিত হয়।  এতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীন্দ্র নাথ রায়, কাদেরী কিবরিয়া ও শহীদ হাসান ছাড়াও কমিউনিটিতে বিশেষ অবদান রাখায় সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, আবু জোবায়ের দারা, এজাজ আক্তার তৌফিক, মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর মাহমুদ সহ মোহাম্মদ হোসেন খান, শাহ নেওয়াজ, আলী ইমাম শিকদার, কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম ও ফিরোজ আহমেদ-কে ফোবানা ক্রেস্ট দিয়ে সম্মানিত করা হয়। 

বিভিন্ন দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী কনক চাঁপা ও এসআই টুটুল, জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানী, চিত্র নায়িকা শাহনুর ছাড়াও অংশ নেন শিল্পী হৈমন্তী, স্বীকৃতি, পপিমনা, মাহফুজা মম, খালিদ, লাবনী, খালিদ, রানু নেওয়াজ, শাহ মাহবুব, চন্দ্রা রায়, কৃষ্ণা তিথি, খায়রুল ইসলাম সবুজ, মরিয়ম মারিয়া, প্রমিতাজ, লাবনী, কামরুজ্জামান বকুল, ডা. নার্গিস রহমান, তানজিব আহমেদ সজিব, প্রিয়া ইসলাম, সেলিম ইব্রাহীম, জোহা চৌধুরী, শারমীন সুলতানা, ফেরদৌসী ইকরাম, আজিজুর রহমান, ডা. লিপি, নিপা জামান, ফরহাদ আদনান, মিলন কুমার, রিয়া রহমান, ভাস্কর, এস নাইম, এম এ সাদেক, শাকিলা খান (মন্ট্রিয়ল) ও সারেগামাপা’র শিল্পী সুপ্রতিপ এবং উপস্থাপক ইসমাইল খন্দকার প্রমুখ। এছাড়াও মনোজ্ঞ যাদু প্রদর্শণ করেন বাংলাদেশ থেকে আগত যাদু শিল্পী রাজিব বসাক। তার যাদু উপস্থিত শত শত দর্শক-শ্রোতাকে মুগ্ধ করে। আরো ছিলো নানান রকমের স্টলের দোকান। 

কনভেনশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা উপস্থাপনায় ছিলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট উপস্থাপক খন্দকার ইসমাইল সহ গোলাম মোস্তফা, শেখ সিরাজুল ইসলাম, শামসুন্নাহার নিম্মি, শিরিন বকুল, প্রতিমা সুমি, কামরুজ্জামান বাবু ও উৎপল চৌধুরী। কনভেনশন উপলক্ষ্যে ‘আগন্তক’ শীর্ষক একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। 

এদিকে লাগোর্ডিয়া মারিয়ট হোটেলে অনুষ্ঠিত ফোবানা কনভেনশন স্থল ঘুরে দেখে গেছে নিউইয়র্ক সহ ট্রাই ষ্টেট এলাকার বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী সপরিবারে অংশ নেন। তবে তাদের মধ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রতিই আগ্রহ ছিলো বেশী। কনভেনশনের সভা-সেমিনারে উপস্থিতি ছিলো কম। ৭টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে রাত ৯টায়। অবশ্য অনুষ্ঠান দেরীতে শুরু করার জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে দর্শক-শ্রোতাদের কাছে দু:খ ও ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। অপরদিকে এই কনভেনশনে প্রবাসী শিল্পীদের যথাযথভাবে সম্মান দেয়া ও মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে একাধিক শিল্পী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। 

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিল্পীদের পরিবেশনার পাশাপাশি প্রবাসী শিল্পীদের পরিবশেনাও দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। প্রবাসীদের শিল্পীদের কন্ঠে বাংলাদেশ ছাড়াও দেশের জনপ্রিয় শিল্পী রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমীন, সৈয়দ আব্দুল হাদী, শাহনাজ রহমতউল্লাহ প্রমুখের গান ফুটে উঠে।

রোববার মধ্যরাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিন দিনের ফোবানা কনভেনশনের সমাপ্তি ঘটে। শেষ দিনে সফল ফোবানা উপহার দেয়ার জন্য ফোবানা’র ষ্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন খান ও এক্সিকিউটি সেক্রেটারী কাজী আজম, কনভেনর শাহ নেওয়াজ ও সদস্য সচিব ফিরোজ আহমেদ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ