মুক্তিযোদ্ধা ম.আ. মুক্তাদিরের চেতনা হারিয়ে যেতে দেবো না - নিউইয়র্কের স্মরণ সভায় বক্তারা

September 18, 2019, 9:57 AM, Hits: 162

মুক্তিযোদ্ধা ম.আ. মুক্তাদিরের চেতনা হারিয়ে যেতে দেবো না - নিউইয়র্কের স্মরণ সভায় বক্তারা

হ-বাংলা নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : অকাল প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ম. আ. মুক্তাদির স্মরণে আয়োজিত সভায় বক্তারা বলেছেন, যে জাতি বীরের মর্যাদা দিতে যানে না সে জাতিতে বীর জন্ম নেয় না। আর তাদের জীবনদর্শ আলোচনার মাধ্যমে দেশ এবং জাতীর জন্য নিবেদিত প্রাণ দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তুলতে হবে। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তাদিরের মতো আজকাল ত্যাগের মনোবৃত্তিত্বে কেউ রাজনীতি করেনা। দেখে মনে হচ্ছে সবাই ভোগের জন্য, অর্থ প্রতিপত্তির জন্য রাজনীতি করেন। এই ভোগের মন-মানসিকতা থেকে রাজনীতিকদের বেড়িয়ে আসতে হবে। আমরা ম.আ. মুক্তাদিরের মতো মানুষদের চেতনা হারিয়ে যেতে দেবো না। 

মুক্তিযোদ্ধা ম. আ. মুক্তাদির স্মৃতি কল্যান ট্রাষ্ট আয়োজিত মরহুম মুক্তাদিরে ২১তম মৃত্যু দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সংগঠনের আজীবন সদস্যেদের সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তারা উপরোক্ত কথা বলেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেল ৭টায় জ্যাকসন হাইটের বাংলাদেশ প্লাজা মিলনায়জনে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব প্রবীণ প্রগতিশীল রাজনীতিবিধ, বিশিষ্ট কলামিষ্ট, মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস। সভায় স্বাগত বক্তব্যে রাখেন স্মৃতি কল্যাণ ট্রাষ্টের ট্রাষ্টি শাহাব উদ্দীন। সভা পরিচালনা করেন গাজী শামসউদ্দিন এবং দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী। 

সভার শুরুতে মরহুমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সর্বজনাব তোফাজ্জুল করিম, এডভোকেট শেখ আখতাররুল ইসলাম, বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশন-এর সিইও আবু তাহের, ফখরুল আলম, এমাদ চৌধুরী, শাহীন আজমল, আব্দুল কাদির, মঈনুল হক চৌধুরী হেলাল, মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, নূরে আলম জিকু, মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, আবুল কালাম আযাদ, মোশারফ খান, এডভোকেট মজিবুর রহমান, এমাদ চৌধুরী, ইয়ামীন রশীদ প্রমুখ। 

শাহাব উদ্দীন বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে ম. আ. মুক্তাদির মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবী, ক্রীড়াবিদ, সাংবাদিক, লেখক ছাড়াও বহু গুনে গুনান্বিত ছিলেন। আর সব গুনাবলীর আলোচনা এবং মুল্যায়ন করার জন্যই গঠিত হয়েছে সাধারণ প্লাট ফর্ম বীর মুক্তিযোদ্ধা ম. আ. মুক্তাদির স্থতি কল্যান ট্রাষ্ট। এই ধারাকে যতবেগবান করা হবে ম. আ. মুক্তাদিরের আতর প্রতি যর্থাঠ শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা হবে।

উল্লেখ্য, মুক্তিযোদ্ধা আজীবন বিপ্লবী ১৯৯৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর লন্ডনে মারা যান। দেশে তার মরদেহ যথযোগ্য মর্যাদার সাথে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করার পর খুবই অবহেলায় দীর্ঘ ২৮ বৎসর চলে যায়। ২০১৬ জুলাই মাসে তারই দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা শাহাবউদ্দিন উদ্যোগে কবর চিহ্নিত করণ সহ বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করা হয়। ড. মইনুল ইসলাম, লোকমান আহমদ, এমাদ উদ্দিন, শহীদুল ইসলাম শাহীন, মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল হক, আব্দুল মান্নান, শাব্বীর আহমদ, মহসিন আলী সহ এক ঝাক সতীর্থ নিয়ে তার নামে স্মৃতি কল্যাণ ট্রাষ্ট গঠন করা হয়। তারই ধারাবহিকতায় এই সমাজসেবামুলক কাজের আয়োজন করা হয়। মূল উদ্দেশ্য হলো একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং আজীবন বিপ্লবী এভাবে হারিয়ে যেতে পারে না। 

 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ