একের পর এক মামলা-মোকদ্দমা.......বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন স্থগিত

October 9, 2019, 12:25 PM, Hits: 102

একের পর এক মামলা-মোকদ্দমা.......বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন স্থগিত

সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, হ-বাংলা নিউজ, নিউইয়র্ক খেকে : একের পর এক মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়ায় আবার স্থগিত হয়ে গেলো যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের আমব্রেলা সংগঠন হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ সোসাইটি’র দ্বি-বার্ষিক (২০১৯-২০২০) নির্বাচন। সোসাইটির উদ্ভুত পরিস্থিতিতে নির্বাচন শুধু স্থগিত-ই হয়নি, সেই সাথে সোসাইটির নির্বাচন অনিশ্চিতও হয়ে পড়েলো বলে সচেতন প্রবাসীরা অভিমত প্রকাশ করেছেন। এদিকে সোসাইটির নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে গত ৫ অক্টোবর শনিবার প্রদত্ত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সোসাইটির নির্বাচন স্থগিত করার কথা ঘোষণা করা হয়ে। তবে কেনো বা কি কারণে এই নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে তার কোন ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।

ফলে এবার নিয়ে সোসাইটির নির্বাচন দু দফা পিছিয়ে গেলো। ইতিপূর্বে প্রথম দফায় ২০১৮ সালের ২১ আক্টোবর রোববার এই নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সোসাইটির নির্বাচনে দুই প্রার্থী ও একজন সদস্যের মামলার এবং অপর এক সাবেক কর্মকর্তার মামলার প্রেক্ষিতে ঐ নির্বাচন পিছিয়ে যায়। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন দ্বিতীয় দফা ২০ অক্টোবর রোববার নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন। এরই মধ্যে সোসাইটির নানা অনিয়ম ও গঠনতন্ত্র না মানা সহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে একজন আজীবন সদস্য ও  সাবেক এক কর্মকর্তার পৃথক মামলার প্রেক্ষিতে নতুন করে জটিলতার সৃষ্ট হয়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন সোসাইটির নির্বাচন স্থগিত করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

উল্লেখ্য, সোসাইটির নির্বাচনে ‘নয়ন-আলী’ ও ‘রব-রুহুল’ দুটি প্যানেল ছাড়াও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আরো দুজন প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। গত বছরের ২১ অক্টোবর বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যকরী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিলো। নির্বাচন ঘিরে সদস্য/ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন ২৭,৫১৩ জন। এর মধ্যে ৪৮৮ জন আজীবন সদস্য/ভোটার রয়েছেন। সাধারণ ভোটার হচ্ছে ২৭,০২৫ জন।

বাংলাদেশ সোসাইটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জামাল আহ্মেদ জনি শনিবার প্রেরীত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, নিউইর্য়কস্থ বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক-এর সম্মানিত সদস্য/সদস্যাদের সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পূর্ব নির্ধারিত ২০ অক্টোবর, ২০১৯ বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ নির্বাচন অনিবার্য কারন বশত: স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচনের পরবর্তী তারিখ যথাসময়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে। অপ্রত্যাশিত ও অনাকাঙ্খিত বিলম্বের জন্য নির্বাচন কমিশন দুঃখ প্রকাশ করছে।

জানা গেছে, নির্বাচনে সোসাইটির কার্যকরী পরিষদের ১৯টি পদে ‘নয়ন-আলী’ প্যানেল থেকে ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতায় অবতীর্ণ হলেও পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাছাইকালে এই প্যানেলের দু’সদস্যের মনোয়নপত্র বাতিল করা হয়। অপরদিকে ‘রব-রুহুল’ প্যানেলের ১৯জন প্রার্থীরই মনোনয়ন বৈধ বলে বিবেচিত হয়। নির্বাচন কমিশনের চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় ‘নয়ন-আলী’ প্যানেলের ১৭ জনের নাম প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে নির্বাচন ঘিরে সোসাইটির তিন সদস্য আলী আকবর, জিআর চৌধুরী ও শফিকুল ইসলাম গত বছরের (২০১৮ সাল) ১৮ অক্টোবর নিউইয়র্কের কুইন্স সুপ্রীম কোর্টে মামলা (ইনডেক্স নং ৭৮০৭/২০১৮) করেন। মামলার প্রেক্ষিতে মাননীয় আদালত নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন। মামলার বাদীদের মধ্যে দু’জন ‘নয়ন-আলী’ প্যানেলের সদস্য প্রার্থী ছিলেন, ত্রæটির কারণে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিলো। মামলার বিবাদী ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক ও নির্বাচন কমিশনের প্রধান এসএম জামাল ইউ আহমেদ এবং সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যকরী পরিষদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ঘিরে দায়েরকৃত মামলা খারিজ হয়ে যায়। এর ফলে সোসাইটির নির্বাচন আয়োজনে সকল বাধা দূরীভূত হয় বলে সোসাইটি সূত্র জানায়। মামলা খারিজ হয়ে যাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন আগামী ২০ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ পুননির্ধাণ করে। 

এরপর বাংলাদেশ সোসাইটির নানা অনিয়ম সহ সোসাইটির গঠনতন্ত্র মোতাবেক পরিচালিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ কুইন্স কাউন্টির সুপ্রীম কোর্ট অব নিউইয়র্কে দু’টি মামলা দয়ের করা হয়েছে (ইনডেক্স নং ৭১৬০৫২/২০১৯ তারিখ: ০৯/১৮/২০১৯, অন্যটির ইনডেস্ক নং ৭১৬০৫৪/২০১৯)। মামলায় সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দিকী সহ কার্যকরী পরিষদের সকল কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে। মামলার বাদী সোসাইটির আজীবন সদস্য নীরু এস নীরা এবং সাবেক কর্মকর্তা ওসমান এ চৌধুরী।  এই মামলার ব্যাপারে বাদীদ্বয় বলেছেন, বাংলাদেশ সোসাটিতে চলছে নানা আর্থিক অনিয়ম ছাড়াও সঠিকভাবে নেতৃত্বে দিতে কর্মকর্তাদের যোগ্যতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন। সোসাইটির অনিয়ম দূর করতেই তারা আইনের আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। উল্লেখিথ দুই মামলায় ১৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবী করা হয়েছে। মামালায় জয়ী হলে এই অর্থ নীরা রব্বানী বা ওসমান চৌধুরী ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করবেন না। এই অর্থ সোসাইটির কল্যাণে ব্যয় হবে বলে জানা গেছে। 

এদিকে বাংলাদেশ সোসাইটি একের পর এক মামলায় জড়িয়ে পড়ার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝে ক্ষোভ ছাড়াও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা সোসাইটি-কে রক্ষায় সোসাইটির সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যথাযথ উদোগ গ্রহণের দাবী করেছেন।

 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ