ইউএস কংগ্রেসওম্যান প্রার্থী মিতার ফান্ড রেইজিং অনুষ্ঠিত

October 9, 2019, 12:37 PM, Hits: 99

ইউএস কংগ্রেসওম্যান প্রার্থী মিতার ফান্ড রেইজিং অনুষ্ঠিত

সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, হ-বাংলা নিউজ, নিউইয়র্ক খেকে : ইউএস কংগ্রেস-এর ডিস্ট্রিক্ট-১৪ থেকে আগামী নির্বাচনে প্রাইমারীতে কংগ্রেসওম্যান প্রার্থী বদরুন নাহার খান মিতা তার নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের জন্য কমিউনিটির সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর জ্যাকসন হাইটসে অনুষ্ঠিত তার দ্বিতীয় তহবিল সংগ্রহ সভা থেকে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন। উল্লেখ্য, কমিউনিটির পরিচিতি মুখ, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার সাবেক সভাপতি বদরুন নাহার খান আগামী নির্বাচনে কংগ্রেসওম্যান পদে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার প্রতিদ্ব›দ্বী হিসেবে রয়েছেন এই সময়ের আমেরিকার রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত তরুণ রাজনীতিক এবং প্রথমবারের মতো নির্বাচিত কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ।

নিউইয়র্কের বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট মইনুল ইসলামের উদ্যোগে আয়োজিত এই তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে মূলধারার কয়েকজন রাজনীতিক সহ বাংলাদেশ সোসাইটি, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা, বাংলাদেশ বিয়ানীবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতিসহ বিভিন্ন জেলাভিত্তিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠানে ডেমোক্রেটিক পার্টির কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট লিডার অ্যাট লার্জ এটর্নী মঈন চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী, কমিউনিটি নেতা আজিমুর রহমান বুরহান, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট ফিরোজ আহমেদ, সিটি কাউন্সিলের আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার

অনুষ্ঠানে কমিউনিটি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা রফিক উদ্দিন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর মাহমুদ, আহমদ হোসেন খান, বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহ নেওয়াজ, মাসুদুর রহমান, ফাহাদ সোলায়মান, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট কাজী নজরুল ইসলাম, কাজী আজম, রফিকুল ইসলাম, মাসুদুর রহমান, মোহাম্মদ আলী, সিরাজুল ইসলাম, তিতুমির রহমান, হেলাল খান, মোহাম্মদ সবুজ, মোদাব্বির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম। মে  সপরিবারে উপস্থিত ছিলেন বদরুন নাহার খান।

অনুষ্ঠানে বদরুন নাহার খান মিতা বলেন, আমার সঙ্গে আজ আপনারা কমিউনিটির সব নেতা আছেন। আমি আগামী নির্বাচনে আপনাদের সবার সহযোগিতা কামনা করছি। আপনাদের সবার সম্মিলিত চেষ্টাই পারে আগামী নির্বাচনে আমাকে বিজয়ী করতে। কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্ব করতে পারলে মূলধারার রাজনীতিতে আমাদের কণ্ঠ আরও সোচ্চার হবে। আমেরিকায় বাংলাদেশী কমিউনিটি এগিয়ে চলেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছে। কংগ্রেসে কেন আমাদের একজন প্রতিনিধিও থাকবে না? কংগ্রেসে আমাদের একটি পথ তৈরি করতে পারলে হাজার পথ তৈরি হবে। আমি সেই পথের সূচনা করতে চাই। আমি সফল হলে আপনারা সফল হবেন। তিনি বলেন, অ্যাম্পাওয়ারমেন্ট অনেক জরুরি। এ জন্য কমিউনিটির সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষত নারীদের এগিয়ে আসতে হবে।

এটর্নী মঈন চৌধুরী বলেন, আগামী জুন মাসে ‘নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা এখন থেকে কাজ শুরু করলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। নেতাদের এন্ডোর্সমেন্ট পাওয়ার জন্য বিষয়টি খুব জরুরী। তিনি বলেন, সাবেক কংগ্রেসম্যান জোসেফ ক্রাউলির অর্থ ছিল। কিন্তু অর্থ দিয়ে সব সময় সবকিছু হয় না। তার প্রমাণ আমরা গত নির্বাচনে পেয়েছি। সবকিছু থাকা সত্তে¡ও নতুন একজন প্রার্থীর কাছে ক্রাউলি পরাজিত হন। তিনি বলেন, অনেকেই অনেক কথা বলতে পারেন। কিন্তু আমাদের কমিউনিটিতে এমন একটি ভবন আছে, যেখানে একই ভবনে ভোটার রয়েছেন ৫০০ জন। এসব বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। উৎসাহিত করার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা করতে হবে।

আজিমুর রহমান বুরহান বলেন, বাংলাদেশকে পরিচিত করে তোলার জন্য কাজ করছেন বদরুন নাহার। তিনি জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপি ছিলেন। এখন কংগ্রেস নির্বাচনে লড়ছেন। এ জন্য অর্থের প্রয়োজন। তাই সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। 

রুহুল আমিন সিদ্দিকী বলেন, মিতা (বদরুন নাহার) যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন, তাতে তাকে উৎসাহিত না করলে আমাদের এগোনো সম্ভব হবে না। আমাদেও কমিউনিটি বড় হচ্ছে। এখন দরকার ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়া। 

ফিরোজ আহমেদ বলেন, আমরা কমিউনিটিতে সামাজিক সংগঠন নিয়ে কাজ করি। কিন্তু অনেকে ভোট কেন্দ্রে যাই না। তিনি কমিউনিটির বিভক্তি এড়িয়ে এক প্ল্যাটফর্মে এসে যৌথভাবে সবাই যেন তাকে সহযোগিতার আহŸান জানান এবং সবাইকে ভোটার হয়ে ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার অনুরোধ করেন। 

ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার তার বক্তব্যে বদরুন নাহার মিতাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তিনি বাংলাদেশী-আমেরিকান কমিউনিটির জন্য নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। তাকে নিয়ে ইতিমধ্যেই নিউইয়র্ক টাইমস ও ফক্স চ্যালেন সহ আমেরিকার প্রধান প্রধান সংবাদমাধ্যম সংবাদ পরিবেশন করেছে। তিনি আলোচনায় উঠে এসেছেন। এখন সবার সহযোগিতা দরকার। 

মইনুল ইসলাম তার বক্তব্যে মিতার জয়লাভের জন্য কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ সহ সকল বাংলাদেশী-আমেরিকানদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। 

 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ