জাহাঙ্গীর বাবু'র কয়েকটি সমসাময়িক কবিতা

October 11, 2019, 9:02 AM, Hits: 462

জাহাঙ্গীর বাবু'র কয়েকটি সমসাময়িক  কবিতা

জাহাঙ্গীর বাবু'র কয়েকটি সমসাময়িক  কবিতা 


খামোশ, চুপ,ওদের আছে নিউক্লিয়ার!

জাহাঙ্গীর বাবু

সীমান্ত ওদের,আমাদের পড়শীর।

আমাদের জন্য কাঁটা তার,

ওদের জন্য পড়শী বাড়ি,পরকীয়ার ঘর।

শুধুই শুধুই করি মাতম,আহাজারি।

ওরা পারে,ওরা মারে,আমরা মরি।

আমাদের সীমান্ত আমরা ভুলে যাই

গরু মরে,ব্যাপারী,চোরাকারবারী মরে,

সীমান্তবাসী মরে,মরে ফেলানীরা

আমরা পড়শী ছাড়া চলতে পারিনা।

দিতে হয় যা চায়,আনতে পারিনা।

কেন পেঁয়াজ ইলিশের কিসসা ভুলে গেলেন।

তিন দিকে ওরা,এক দিকে সাগর

দাবড়ানি দিলে কোথায় যাবেন?

স্বাধীনতা তখন সাঁতার কাটবে,

কুলে দাঁড়িয়ে ওরা বাঁশি বাজাবে।

আপনি, আমি মরব,আমরা মরব!

ওরা শাঁক বাজাবে,ওরা যা চাইবে

তাই হবে,ওদের গুলিতে আমাদের

মরণ।ওদের জয়োল্লাস।

অমরেশ পুরির অট্টহাসিতে শ্রীদেবীর সর্বনাশ।

আমরা স্বাধীন,আমাদের স্বাধীনতায়

ওদের বল,বন্ধত্বের হাত,আজীবন

দিতে হবে খেসারত।

সিকিম,নেপাল,কাশ্মীর যেমন

তারা ভাবে, বাংলাদেশ ও তেমন ।

আনাড়ি,অথুর্ব বিরুধী দল, পল্টনে বসে

ঝাড়েন ঝাড়ি,আপনারা কি করেছিলেন,

ভাবছেন ভুলে গেছি? ওরা ক্ষমতাশালী

পড়শী।ফেসবুক,বক্তৃতার মঞ্চ,টিভি,

টকশো আর সীমান্তের সীমানা এক নয়।

ওখানে মরতে হয়।

আচার,পাচারে ভাগ বাটোয়ারায় কম

পড়লেই মরতে হয়।ধরে নিয়ে যায়,

নাম হয় এপার হতে ওপারে ঢুকে গেছে!

ওরা আমাদের ভেতর এসে নিয়ে যায়,

যখন হিসাবে কম পড়ে যায়।

পড়শী শক্তিশালী আমরা দুর্বল,

ওরা পেঁয়াজ কাটলে আমাদের চোখে

পানি।আসুন,ওরা মারুক,আমরা মরি।

আসুন,দুই দেশ মিলে সাম্যের কবিতা

পড়ি। সিনেমা বানাই,প্যান্থারের পোষ্টার দেখি।

আমরা সীমান্তে মরব,ওরা ঊলু ধ্বনি দিবে।

ওরা আমাদের মেরে প্র‍্যাক্টিস করে।

ওদের বন্দুকের নল সোজা,টার্গেট পাক্কা,

আমাদের ধরেছে জং,তাই পাই অক্কা।

স্বাদেশী ভাই বোনেরা,জানেন ওরা মারবে,

তাও লাইন অফ কন্ট্রোল,সীমানা ভুলে

কেন যান মরতে।

গায়ে মানেনা,আপনি মোড়ল!

নদীর নাম পরিবর্তন,অন্যের আন্দোলন

নিজের করন,আর কতকাল,শুধুই ভেজাল!

বন্ধ করেন হালের প্যানপানানি

ফেনী নদীর কত কিউসেক পানি!

রাডার,গ্যাস এই সব ভুলে যান। জীবন বাঁচান।

আরো কত দিতে হবে,স্বাধীনতার সাহায্যের জের!

যেই আসবে ওই চেয়ারটায় তাদেরকেও দিতেই হবে।

তখন বাকীরা তিন নম্বর বাচ্চার মতো ম্যা ম্যা করবে।

ওদের দেশে আমরা ঢুকছি,

ওরা মারছে। এটা ওদের অধিকার।

ওরা আমাদের ভেতর ঢুকলে, পড়শীর অধিকার

বন্ধুত্বের নয়তো পরকীয়ার।

দুইয়ে দুইয়ে ছয়, নয়,হিসাব বরাবর

কারণ ওদের আছে নিউক্লিয়ার।

ওদের কত গুলো উপাদান এ দেশে আসে,

বন্ধ করলে উপায় কি আছে?

স্বাধীনতা,মুক্তিযুদ্ধ থেকে অদ্যাবধি

ওই ক্ষমতার চেয়ারে পড়শীর হাত আছে

আপোষ করে নীরবে সয়ে গেলে,

উজাড় করে দিয়ে গেলেই সংসারে শান্তি।

ভোগে নয়,ত্যাগেই শান্তি।ওম,শান্তি।

ওদের অনেক বড়, কষ্ট হলেও চেপে যান।

ফেসবুক টাইপ, গালবাজি,গলাবাজিতে

শক্তি নয়,অর্থনৈতিক আর সমর শক্তিতে

নিঃস্ব যখন-একদম চুপ।

খামোশ, চুপ,ওদের আছে নিউক্লিয়ার!



বিচারকের হবে কড়া বিচার


বিচারক আখেরাতে

তোমার বিচার হবে কঠিন!

দুনিয়ার বিচার করে যাও।

যা ইচ্ছা তাই।

মরবে মানুষ যেহেতু

প্রাণী যেহেতু

সবার বিচার হবে পরকালে।

তুমি কি ছাড় পাবে?

এই দুনিয়ায় অভিনয় করে যাও!

হে খুনী, ছাড় পাবে ভেবেছ!

খুন করো,খুন করো

কষ্ট দাও,মানুষ হয়ে মানুষেরে

কষ্ট দাও,দুনিয়ার সুখ করে নাও।

এ জগতে বিচার পায় না দূর্বল

সবলের হাতেই সকল ক্ষমতা।

বিচার হবে আখেরাতে,রোজহাশরে

কেয়ামতের মাঠে।বিচার হবেই হবে।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি

আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়

মুহাম্মদ সঃ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল

আল্লাহ সত্য,নবী সত্য,

আখেরাতের বিচার হবে সত্য,সত্য,সত্য।

তুমি যেই হও,অপরাধের সাজা হবেই

এ জগতে বিচারক বিক্রি হয়

আইন বিক্রি হয়,পরকালে

বিচারকের হবে কড়া বিচার।



নতুন সংবাদে পুরাতনের অপমৃত্যু


কষ্ট লয়ে চলে গেলে পরপারে

অত্যাচারে নির্যাতনে অভিমানে ।

রেখে গেলে পুরাতন প্রশ্ন নতুন করে।

জন্ম মৃত্যুর মালিক কে? কার হাতে?

হে অচেনা আপন ঢেকে দিলে সদ্য প্রয়াত

সদ্য সমাপ্তের দেনা পাওনার হিসেব নিকাষ।

হালখাতার জেরের হিসাবে।

মুছে গেলো জঘন্য অপরাধ

কত মায়ের মমতার চোখের নোনা পানিতে।

মন্থর হলো গতি ধর পাকড়ের!

বাবার বুক ভাঙ্গা আর্তনাদে।

ওপারে ভালো থাকিস

নতুন প্রহসনের পান্ডুলিপি আসছে

অপেক্ষায় আছি দেখার।

কে জানে কার আসে খবর ওপারে যাবার।

আমরা যে কোন সংবাদে দু'চার দশ দিন

অতিরিক্ত সোচ্চার।

তার পর নতুন সংবাদে পুরাতনের অপমৃত্যু

আবার নতুনের ঢাকাঢাকি হাঁকাহাকি,

নয়তো হুজুগের দল আমি,নিজ কর্মে ব্যাস্ত ।

এই আমাদের জীবন,কেউ খুন করে,

কেউ খুন হয়।পাপ গাভীন হলে যা হয়।

প্রশ্ন রয়ে যায়,উত্তর অজানা রয়ে যায়।



রুখে দাঁড়ান


যে নৃশংস হত্যার খবর পাই

ফুটেজ দেখি,প্রতিবাদ দেখি

তাতে বিচলিত হই,কষ্ট পাই,

প্রতিবাদী হই,উষ্মা প্রকাশ করি।

যে হত্যা,খুনের খবর পাইনা,

ফুটেজ দেখিনা,প্রতিবাদ ও হয়না।

সে খুনের বিচার ও হয়না!

এট লিষ্ট ধর পাকড়ের নাটক ও দেখিনা।

রাজনীতিবিদ বদরা,নিজেরা

কিছু করতে পারেন না,তাই ইস্যু

পেলেই হিসু করেন।বক্তব্য ঝাড়েন,

আরে মিয়া চুপ করেন,নিজেদের

ক্ষমতার আমল ইয়াদ করেন।

আমরা এ দেশেই ছিলাম।

অন্যায়ের প্রতিবাদ আপনাদের পুর্বে

সহকর্মী,সহপাঠি,সমব্যাথীরাই করেন।

আপনারা রঙ দেন!

ইস্যু করে লাভ নেই,খুন,হত্যার

জাষ্টিফিকেশন করে লাভ নেই।

কোন হত্যাই কাম্য নয়।

খুনের ফাঁসি চাই।বিচার চাই।

খুনীরা কোন দলের নয়।দলই খুনীদের

পক্ষ নেয়,দল খুনীদের মুক্ত করে।

দল অপরাধীর পক্ষ নেয়,খুনীদের

ব্যাবহার করে বলেই,খুন বাড়ে,খুনী বাড়ে।

ষড়যন্ত্র বুঝেন,দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার

শেকড় খোজেন।

ঘটনার অন্তরালের ঘটনা দেখেন।

দায়ী আমি,আপনি আমরা সবাই

কেন? নিজের গায়ে কোপ না পড়লে

আমরা প্রতিবাদ করিনা। তাই আপনি,

আমি খুন হই প্রতি মুহুর্তে।

কিভাবে,চোখ বন্ধ করেন,ভাবেন

বেশীনা,জাষ্ট সিক্স মান্থ,

ওয়ান বাই ওয়ান,হোয়াট হ্যাপেন্ড।

ঘরের শত্রু বিভীষণ খোজেন।

এ সব নতুন নয়,অতি পুরাতন

রুখে দাঁড়ান,না হয়, আমিও খুন হবো,

আপনিও খুন হবেন।



রাজনীতি


মিথ্যা বলে যাই,অহংকার করে যাই

অতীত ভুলে যাই,অত্যাচার করে যাই

ক্ষমতা আমার চিরস্থায়ী

অমর আমি নিজেরে ভাবি।

তাই অপরাধ করে যাই,আমার বিচার হবেনা

হবে শুধু প্রহসন,আমি ক্ষমতার একজন।

আমি সাধু,বিরোধী,বিপক্ষের সব শয়তান

ক্ষমতার দাপটে এক সাথে

মুঠোয় ধরি আসমান,জমিন!

কে আল্লাহ, কে সৃষ্টিকর্তা

কিসের পরকাল,

এ দুনিয়ায় আমি কাল মহাকাল!

অপরাধ করাই আমার কাজ

খুন,রাহাজানি,হত্যা,প্রতারণা,শিক্ষা আমার,

আমি খলনায়ক গডফাদার!

নেতা গড়ি,নেতার পদ চুম্বন করি

পিতা মাতাহীন জারজ আমি

সৃষ্টি নয় ধ্বংস চাই আমি

আমি অর্থ চাই,বিত্ত চাই

লুট,হরিলুট করতে প্রতিশোধ নিতে

সমর,সংঘাত মানুষ আর পৃথিবীতে অশান্তি চাই

শর্টকার্ট ধনী হবার রাস্তা এটাই

মায়ের কোল করি খালি,পিতার পিতৃত্ব করি ছিনতাই

আমি মুখোশধারী শয়তান,ওয়াদা ভঙ্গকারী,

গনতন্ত্র লয়ে সাপলুডু খেলি

সংবিধান বানাই,কাটাই,মাড়াই

যা ইচ্ছা তাই করি

আমার স্বাধীনতা দেয়ার নামে স্বাধীনতা কেড়ে নেই

চেতনা বিক্রি করি,ধর্ম লয়ে যুদ্ধ বাঁধাই

অমানুষকে মানুষের শিরোনাম দেই

মানুষকে ফাঁসিতে ঝুলাই,রক্তে রাঙ্গাই

ভাষা,ধর্ম,মুক্তি যুদ্ধ আমার রঙ্গিন ঘুড়ি

আমার হাতে নাটাই,যখন মন চায় ইচ্ছে মতো উড়াই।

আমি স্বার্থপর।

নিজ দলের হলেই অন্যায়কে

সমর্থন করে যাই,আমিই রাজনীতি,

খুন,দুর্ণীতি আমার মুলনীতি

আমি এ কালের রাজনীতি।

আমার পরিচয় রাজনীতি।



আমি

আমজনতা


মিথ্যেবাদী নেতা নই বলে,আমি আমজনতা।

আগ বাড়িয়ে অতিরঞ্জিত,দুঃস্বপ্নের

উচ্চমার্গীয় অসম্ভব কথা বলিনা বলে

সরকারের উচ্চ পদের কর্তা নই বলে

ঘুষ খাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া।

সরকারী বেসরকারী ইয়া বড় ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার,

অফিসার নই বলে আমি আমজনতা।

প্রিয় জনের মুখে আহার,লজ্জা নিবারনের বস্ত্র 

মাথা গোজার ঠাই,শিক্ষা,চিকিৎসার

খরচ জোগাতে দেশে ছেড়ে প্রবাসে যাই

অশিক্ষিত মূর্খ,লোভী,আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ,

শিক্ষিত,অতি শিক্ষিত

মানবতা বিহীন,প্রতারক,বিবেকহীন,

অমানুষ,কঞ্জুস,জুয়াড়ি,তেলবাজি,

সন্ত্রাসী চাঁদবাজ,গরীবের হক মেরে খায় যারা

তাদের কাছে কর্মের

তালাশ করি বলেই,আমি আমজনতা।

আমি কর্মের তালাশে ছুটি রাস্তায়, আকাশে,জলে,

তাই চোখের জলে আগুন জ্বলে।

একান্নবর্তী টানা পোড়নে বেড়ে উঠা বলেই

আমি আমজনতা।

বোল প্লটাইনা,রোল বদলাই না,নিপেড়ীত,

নির্যাতিত,অপমানিত বলেই আমি আমজনতা।

দল বাজ, ধান্দাবাজ,সাংবাদিক,লেখক,

কবি,সাহিত্যিক নই বলে,আমি আমজনতা।

পত্র পত্রিকায়, স্যাটেলাইট টিভি শোতে মিথ্যা,

ফালতু কথা বলিনা বলেই

আমি আমজনতা,ম্যাঙ্গো পিপল।

বড় কাজ পাইনা,ছোট কাজ করিনা।

সত্য বলতে ভয় পাই,কাপুরুষ হয়ে বেঁচে রই,

ধনীর দুলাল,দুলারী নই,

প্রতিবাদে নিজেকে গুটিয়ে রাখি!

খুনী হতে পারিনা,

মাদক নেইনা বলে আমি আমজনতা।

কর্ম হারাবার ভয়ে,বেঁচে থাকার জন্য

পরিবারকে বাঁচাবার জন্য মানুষ হয়ে

মানুষের দ্বারস্ত হই।উপায় আছে কি?

প্রশ্ন করা যায় না,বিধাতাকে মনে মনে

মনের ঘরে মৃত্যুর ভয়,পরকালের ভয়।

মুখে বলি,আল্লাহ মহান,আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ট

সব কিছুর মালিক আল্লাহ,

তিনি এক অদ্বিতীয়,মোহাম্মদ (সঃ)

শেষ নবী,আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।

আল্লাহর হুকুম ছাড়া জগতে কিছুই হয়না।

মানুষ দিতে পারেনা,নিতে পারেনা।

মানুষ উসিলা,মাধ্যম মাত্র।

আফসোস স্রষ্টা রেখে সৃষ্টির গুন গাই।

মানুষ হয়ে মানুষের গুন কীর্তন করি!

নেতার কথা বলে মুখে ফেনা তুলি

মানুষ হয়ে মানুষের চাপিয়ে দেয়া

নিয়ম মানি বলেই,আমি আম জনতা।



শিক্ষার্থীর রক্ত কেন শিক্ষার্থীর হাতে?


শিক্ষালয়ে শিক্ষা নিতে এসে খুণ

এই কি আমাদের শিক্ষার গুন!

শিক্ষালয়ে খুন নয় নতুন

এই খুণা খুণী অনেক পুরাতন।

শিক্ষালয়ের রাজনীতি করছে খুণী তৈরী!

বন্ধু, সহপাঠি,দলের পরিচয়ে

কেউ হচ্ছে খুণ,কেউ হচ্ছে খুণী!

শিক্ষার্থী কেন খুণ,কেন হয় খুণী?

খুণের পাঠশালার নাম কি রাজনীতি!

দলের পরিচয় কি মানব জীবনে বড়

মানুষের পরিচয় কেন নয় মনুষত্ব্য।

মানুষের ক্ষমতা কত দিন?

মানুষ বাঁচে যত দিন।

পরকালের নাই ভয় এ কেমন মানুষ?

খুণীরা মানুষ নয়,পরিচয় খুণী, অমানুষ।

দলনেতার দায়িত্ব কি খুণী তৈরী করা

শিক্ষালয়ে পাঠিয়ে পিতা,কেন হয় সন্তান হারা!

কোন ক্ষমতার দাপটে,কোন ক্ষমতার লোভে

শিক্ষার্থীর রক্ত কেন শিক্ষার্থীর হাতে !

মনুষত্ব্য কেন নয় বিরাজমান

মানুষের জীবনে,অকালে ঝরে প্রাণ,

সন্তানের রক্ত কেন মায়ের আঁচলে?

শিক্ষালয় অভিশপ্ত শিক্ষার্থী রক্তে!

বিচার হীনতা,বিচারের দীর্ঘ সুত্রিতা,

দলীয় পরিচয়ে ছাড়া পাওয়া

খুণের পর খুণ চলছে অনবরত।

শিক্ষার্থীর হাতে অস্ত্র কে দেয় তুলে?

শিক্ষার্থী জ্ঞাণের সাধনা না করে

কেন নেতার পদলেহন করে,স্লোগান ধরে,

পূজা করে, অর্থের তালাশ করে!

শুধু প্রশ্ন আছে,উত্তর কে দেবে ?

শিক্ষার্থীরা বুঝবে কবে-

যে মা নয় মাস গর্ভে করেছে ধারণ

নিজে না খেয়ে, না পরে সন্তান করেছে লালন,

যে পিতা জীবনে সর্বস্ব লুটিয়ে যে সন্তানকে,

শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে চেয়েছে,

মানুষের মতো মানুষ করতে চেয়েছে

বৃদ্ধ বয়সে যে সন্তান হবে ভরসার হাত

সে সন্তান কেন হয় খুণী নয়তো লাশ!

কবে হবে খুণা খুণীর অবসান!

পুত্র পিতা অভিশপ্ত তুমি

তোমার সন্তান হবে খুন,নয়তো খুনী।

কেঁদোনা মা জননী

এক মায়ের সন্তান হয় খুন

আরেক মায়ের সন্তান খুনী!

খুণের বিচারে তাৎক্ষণিক হোক ফাঁসি,

রাজনীতি বিদদের মায়ের কোল খালি

করার কে দিয়েছে অধিকার?

কে দেবে উত্তর,প্রশ্ন আছে নেই উত্তর!



ন্যায় বিচার কোথায়?


আলো আর আঁধারের কাছে

পরাজিত চিরকাল,এ জীবন ক্ষণকাল।

জীবন সংগ্রাম আমৃত্যু; দুনিয়া নয়

ন্যায় বিচারের জন্য পরকাল।

কিছু স্মৃতি অমলিন, কিছু স্মৃতি আংশিক রঙ্গিন,

বাঁচবো আর কদিন!

কষ্টের পাহাড় বুকে দাফন করে

হাসির রেখা জোর করে টেনে ঠোঁটে;

বেঁচে থাকা,ভালো থাকার নিদারুন

অভিনয়,সুখের আশায়,কষ্টের সাথে যন্ত্রণার পরিনয়।

মানুষের আদালতে চোখে পট্টি

ন্যায়ের তারাজুতে,

অমানুষ আজ মানুষের বেশে

তবু বিচারের আশা মানুষের কাছে!

বিচারের কাঠ গড়ায় আপনজন

প্রিয়জন,বিনিময়ের চালাচালি!

নিরপরাধ প্রকোষ্টে,কন্ডেমসেলে,

ফাঁসির দড়িতে,অপরাধী চলে বুক ফুলিয়ে!

পীড়িত নির্যাতিত কাঁদে বিচারের দাবীতে!

আল্লাহর আদালত মহান আদালত

সে আদালতে কেউ কাহারে না চিনিবে;

সেই শাস্তি অনন্তকাল,অনন্তকাল

ধর্মের অমীয় বানী কে শোনে?

অমানুষের দরবারে মানুষের বিচার

দুনিয়ার দস্তুর কে টলাবে?

অমানুষ আজ মানুষের বেশে

তবু বিচারের আশা মানুষের কাছে!

আলো আর আঁধারের কাছে

পরাজিত চিরকাল,এ জীবন ক্ষণকাল।

জীবন সংগ্রাম আমৃত্যু;দুনিয়া নয়

ন্যায় বিচারের জন্য পরকাল।

পরকাল কে দেখেছে! বিশ্বাস, আছে।

পরকাল আছে।



উম্মাদ


লাল লাল রক্তমাখা কচি গোস্ত

ছিঁড়ে খায় শুকুনের পাল!

তাকিয়ে থাকি,অন্ধ বলে থাকি নির্বাক!

ওরা বলে,পথভ্রষ্ট উম্মাদ।

মাংসের গন্ধ আমায় নেশাতুর

করে না,চোখে রক্ত ঝরায়।

ভূমিকম্প নেই, বুক কাঁপে দুরু দুরু।

হৃদয়হীন, মনের মাঝে সাইক্লোন!

বাঁচার জন্য বেইমান,

বাঁচাবার জন্য নির্লজ্জ্ব!

ওরা সাধু,ওরা শয়তান।

দুনিয়ায় তাদের হেরেমের আরাম।

হিংসায় গা জ্বলে। চোখ পোড়ে!

বুদ্ধি বেশ্যাদের স্বেচ্ছাচারী বয়ান!

লজ্জিত মাইক্রোফোন,বেহায়া সংবাদ পর্দা!

শৌর্যহীন দানার পুত্র সাধ!

শেয়ালের হাঁক ডাক,দল বেঁধে

কুকুরের ধাওয়া,পালটা ধাওয়া

কানামাছি ভোঁ ভোঁ,

যাকে পারিস তাকে ছো।

কষ্ট গুলো জীবনের শাপ-লুডুর পাতায়

দোল খায়, মই বেয়ে উঠে তর তর। 

শাপ,অভিশাপ হয়ে করে আশীর্বাদ!

ক্ষুদার্ত দরিদ্রের ভালে ধনী নামের শিরোনাম।

শাসনের রাজটিকা কপালে এঁটে,

শোষনের পেয়ালায় চুমুক দেয় ভন্ড,প্রতারক,সাধু!

ভাগ্যের মাংসের দোলায় ওরা খোঁজে উষ্ণতা,কি বিভৎসতা!

প্রকৃতি আর কৃত্তিমতার নির্যাতনে

ঘামের শিহরণ আপাদমস্তক

নোনা জলের কাব্যে দরিদ্রের দীর্ঘশ্বাস।

দারিদ্রতার অসীম উপহাস!

শুকরিয়া জ্ঞাপন,শোষিতের প্রার্থণায়!

লুটেরা লুটে,ওরা লাট,

ললাটে বিন্দু বিন্দু শ্বেদ আহত শ্রমিকের!

অবমুল্যায়িত শ্রম মূল্য শ্রম বাজারে।

ভোগের পন্যে লজ্জার আর্তনাদ!

কাগুজে বিবেক,মানবতা,বিশ্বাস

সাজানো প্রহসনে আমি এক নটরাজ।

নটির কাছে প্রণয়ের প্রতিদান অনাকাংখিত।

ঋণের বোঝা জীবনের শুরু থেকে শেষ!

শকুনের চোখে চিক চিক করে স্বাধীনতা,

পরাধীনতার জিঞ্জিরে বাঁধা উদোরের স্বার্বভৌমত্ব!

বিশ্বাসের ঝান্ডায় রক্ত,অর্থ,বিত্ত,স্বীয় স্বার্থ!

অবিশ্বাস শুদ্ধতায়, দ্বীন,দীনহীন।

চেতনার বাজার রমরমা।

বানিজ্য ভালোবাসায়,উদোর যন্ত্রণায়

দেশপ্রেম,আগ্নেয়াস্ত্র সাম্যের গানের

ঝোলায়

নগ্ন তরবারি শব্দবানে,আগাম ঠিকানা 

কবর,চিতা,শশ্মানে।

লাল লাল রক্তমাখা গোস্ত

ছিঁড়ে খায় শুকুনের পাল!

মান আর চিত্র ক্ষত বিক্ষত।

ধর্ষিত মাতৃভূমি, তাকিয়ে থাকি

অন্ধ বলে থাকি নির্বাক! 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ