খাদ্য সমস্যায় বিজ্ঞানীদের কথা শুনুন, নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর আহ্বান

October 27, 2019, 9:53 AM, Hits: 123

খাদ্য সমস্যায় বিজ্ঞানীদের কথা শুনুন, নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর আহ্বান

হ-বাংলা নিউজ : খাদ্য সমস্যা আগামী বিশ্বের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে রাজনীতিক ও নীতিনির্ধারকদের বিজ্ঞানীদের কথা শুনতে হবে। রোববার রাজধানীর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিনারে এ কথা বলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী স্যার রিচার্ড জন রবার্টস।

‘জিএমও ফসল: দক্ষিণ এশিয়ায় নীতি ও অনুশীলন’ শীর্ষক এই সেমিনারটি আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স বিভাগ।

সকাল সাড়ে নয়টায় শুরু হওয়া দিনব্যাপী এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আতিকুল ইসলাম। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান লায়ন বেনজির আহমেদ, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম এ কাসেম, রেহানা রহমান ও ইয়াসমীন কামাল।

সেমিনারের শুরুতে প্রধান আলোচক নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী স্যার রিচার্ড রবার্টস বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটাতে কৃষিতে উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। আর দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে জিএমও (জেনেটিক্যালি মডিফায়েড অর্গানিজম) পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত ফসল হতে পারে অন্যতম বড় সহায়ক।’

রিচার্ড রবার্টস বলেন, ‘জিএমও নিয়ে অনেকের ভুল ধারণা আছে। এসব ভুল থেকে বেরিয়ে আসতে হলে জিএমও সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা জরুরি। জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর সংখ্যাও। জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে দ্রুত ফসলের উৎপাদন বাড়ানো যেমন যায়, তেমনি দুর্যোগপ্রবণ জমিতে উৎপাদন উপযোগী ফসলের নতুন জাত উদ্ভাবনও সম্ভব। এ ছাড়াও খাদ্যশস্যে ভিটামিন ও বাড়তি পুষ্টি যোগ করাও সম্ভব এই পদ্ধতিতে।’

তবে খাদ্য সমস্যা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বিজ্ঞানীরা যত চেষ্টাই করুন না কেন নীতিনির্ধারকেরাই শেষমেশ আসল সিদ্ধান্ত নেবেন, তাই মানবজাতিকে ক্ষুধামুক্ত করতে হলে রাজনীতিক ও নীতিনির্ধারকদের বিজ্ঞানীদের কথা শোনার আহ্বান জানান নোবেলজয়ী এই বিজ্ঞানী।

ব্রিটিশ এই জীববিজ্ঞানী ১৯৪৩ সালে ইংল্যান্ডের ডার্বিতে জন্ম নেন। ১৯৬৭ সালে ফিলিপ অ্যালেনের সঙ্গে তিনি ইউক্যারিওটিক ডিএনএতে ইন্ট্রন আবিষ্কার ও জিন স্পলাইসিং-এর প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেন। এই আবিষ্কারের জন্য ১৯৯৩ সালে তাঁরা চিকিৎসায় যৌথভাবে নোবেল পান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘জেনেটিক্যালি ইঞ্জিনিয়ার্স খাদ্য ও শস্য নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক মতামত আছে। আমাদের দুপক্ষেরই মতামত শোনা উচিত। এটা নিয়ে যেসব ভুল ধারণা চালু আছে, সেসব নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করে এর সুফলগুলো কাজে লাগানো উচিত।’

কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মঙ্গাকবলিত এলাকায় জেনেটিক্যালি ইঞ্জিনিয়ার্স ফসল ফলিয়ে খাদ্য সমস্যা নিরসন করা যেতে পারে। শিগগিরই জিএমও প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভাবিত গোল্ডেন রাইচ বা সোনালি ধান এ দেশে চাষের জন্য ছাড়পত্র পেতে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বিশ্বের সেরা এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম না থাকার বিষয়টি হতাশাজনক উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্স ওয়ার্ক চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েদের সবচেয়ে বড় সমস্যা কমিউনিকেশন স্কিল কম।’ কমিউনিকেশন নিয়ে কোনো পাঠ্যবিষয় না থাকায় তারা কমিউনিকেট করতে পারছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এই সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ইসমাইল হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী প্রধান মো. কবির ইকরামুল হক, সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্সের পরিচালক অধ্যাপক তৌফিক এম. হক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ