বিশ্বজুড়ে ইউনেস্কো বাংলাদেশ যৌথ প্রয়াসে মুজিববর্ষ উদযাপনের আহ্বান ও আমাদের পররাষ্ট্রসীমাবদ্ধতা

December 1, 2019, 12:40 PM, Hits: 264

বিশ্বজুড়ে ইউনেস্কো বাংলাদেশ যৌথ প্রয়াসে মুজিববর্ষ উদযাপনের আহ্বান ও আমাদের পররাষ্ট্রসীমাবদ্ধতা

দেলোয়ার জাহিদ, হ-বাংলা নিউজ : বিশ্ব জুড়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপিত হবে . ইউনেস্কো- (জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ) বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে মুজিববর্ষ উদযাপনের এ যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে । বছরব্যাপী নানা আয়োজনে মুজিববর্ষ উদযাপনের এ ঘোষনাটি যেন একটি নিছক আনুষ্ঠানিকতায় পরিনত না হয় এর জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়কে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত, শক্তিশালী এবং দৃশ্যমান ভুমিকা নিতে হবে।

বিশ্বমানের কোন ইভেন্টের পরিকল্পনা করার মতো অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের নেই বললেই চলে। কীভাবে বিশ্বমানের মুজিববর্ষ ইভেন্টটির পরিকল্পনা করা যায় এনিয়ে বোদ্ধা মহলে ব্যাপক আলোচনা পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে।

বিশ্ব ব্র্যান্ড এবং সৃজনশীল শিল্পের জন্য বাংলাদেশের  কোন প্রকল্পের একটি ধারনা নিয়ে লেখক, গবেষক যখন ব্যস্ত তখন অনেকটা কাকতালীয় ভাবেই প্রকল্পের একটি শক্তিশালী উপাদান সামনে চলে এসেছে। যুগে যুগে পরীক্ষামূলক স্রষ্টাগন আমাদের সমাজে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলি পর্যবেক্ষণ করে থাকেন, প্রায়শই ক্লায়েন্টের শিল্পে পরিবর্তন আনেন এবং কোনও ক্লায়েন্টের ব্যবসা, ব্র্যান্ড বা পণ্য সম্পর্কে সত্যতা খুঁজে পাওয়ার চেয়ে অন্য কোন কিছুতেই স্থির হন না। আপনি যখন ইভেন্টটিকে অনন্য করে তোলতে চান তখন এমন কোনও কিছু খুঁজে পান, যা নিশ্চিত একটি বাধ্যকারী উপায়কে হাইলাইট করা হয়েছে এবং তা ওভাবে লক্ষ্য করা গেছে।

মুজিববর্ষকে ওয়ার্ল্ডের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলির সাথে যেমন-সামসুং, নোকিয়া, ম্যাক্লারেন, রোভিও এবং এসকে -২-এর মতো কোন ব্রান্ডকে যেমন তুলনা করা যায় না তেমনি কোন রাজনৈতিক ব্যক্তি, বা তার আদর্শ, কর্মকান্ডকে বিশ্বমান অনুযায়ী উপস্থাপন ও সহজসাধ্য নয়।

ব্র্যান্ডিং  সমস্যা আজকের বৈশ্বিক পরীক্ষামূলক বিপণন শিল্পে  মারাত্মক । আমরা গবেষক হিসাবে বিষয়গুলোকে দেখেছি, চিন্তাবিদ হিসেবে নয়। ঘটনা এবং পরীক্ষামূলক বিপণন বর্তমানে বিপণন যোগাযোগের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল রূপ এবং পুরো শিল্পের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি । যদি কোনও ইভেন্টের আয়োজন করতে হয় তবে আপনি জানেন যে সবকিছুই পরিকল্পনা করে করা যায় না এবং আপনাকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতেই হবে। বলা যায় যে, বাইরের দিকে আপনাকে শান্ত ও ভিতরে ও আপনাকে শান্ত থাকা উচিত।

সাধারনভাবে কোনও অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে অন্ততঃ ১০টি বিষয়  মনে রাখা উচিত।

১. উদ্দেশ্য এবং ফর্ম্যাট নির্ধারণ করা, ২. পরিকল্পনার প্রতি পর্যাপ্ত মনোযোগ দেয়া ৩. অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির জন্য বাজেট ৪. অতিথিকে আনন্দদায়কভাবে চমকে দেয়া ৫. অবস্থানটি পরীক্ষা ও বিকল্প  পরিকল্পনা রাখা ৬. দায়িত্ব বরাদ্দ ৭. ইভেন্টটি সম্পর্কে দর্শক শ্রোতাদের জানান দেয়া ৮. পরিষেবায় মনোযোগ ৯. ইভেন্টের ২৪ ঘন্টা আগে চূড়ান্তভাবে চেক করে নেয়া ১০. প্রতিক্রিয়া জিজ্ঞাসা করা/মূল্যায়ন

এটি খুবই স্পষ্ট, আমাদের একটি লক্ষ্য থাকা উচিত। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর কাছে আমরা কি জ্ঞান পৌঁছে দিতে চাই এবং কিভাবে; অংশীদারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা; অতিথিদের নান্দনিক ভাবে উপস্থাপন? ইভেন্টটির ফর্ম্যাটটি এসব উত্তরের উপর নির্ভর করে: ধারণা, সময় এবং সময়কাল, দলের মধ্যে ভূমিকা, বিতরণ, হলের বিন্যাস, এবং সাউন্ড সহ অনেক কিছুই একটা সাধারন ইভেন্ট আয়োজনে প্রয়োজন। কিন্তু বিশ্ব জুড়ে এ আয়োজনকে তুলে ধরতে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ ইতিমধ্যে প্রচারনামূলক নানাহ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

বিশ্বের ১৯৫টি দেশের কাছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশের তৎসময়ের ঘটনা প্রবাহ কে তুলে ধরার প্রয়াস নিয়ে ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়েছে।  বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ ব্রান্ডিং এ বিশ্বায়িত এ কর্মসূচিটি একটি অন্যতম পদক্ষেপ যার মাধ্যমে বাংলাদেশ তার ইতিহাস, ঐতির্হ্য, অর্থনীতি, ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে পারবে। যেমনটি হচ্ছে ইউনেস্কো ঘোষিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের মধ্য দিয়ে।

আগামী ১৭ মার্চ, ২০২০ রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে বছরব্যাপী অনুষ্ঠেয় ‘মুজিববর্ষ’ জাতীয় অনুষ্ঠানমালার (বিকাল ৪টায়) উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে। যার মধ্যে রয়েছে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের ফ্লাইপাস্ট, ১০০ শিল্পীর অংশগ্রহণে যন্ত্রসংগীত, বাংলা এবং ইংরেজিতে থিম সং পরিবেশন, ৫৫ মিনিটের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং লেজার শো।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্যারিসে ২০৬তম ইউনেস্কো নির্বাহী বোর্ডসভায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ইউনেস্কোর সঙ্গে যৌথভাবে উদযাপনের প্রস্তাব সংস্থাটির সাধারণ সভার ৪০তম অধিবেশনে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। তবে এই প্রস্তাবে দুই সদস্য রাষ্ট্রের লিখিত সমর্থনের প্রয়োজন পড়ে। বাংলাদেশের এই প্রস্তাবে ভারত, জাপান, কিউবা, নেপাল ও পোল্যান্ড লিখিত সমর্থন দেয়। ফলে ২০৬তম বোর্ডসভায় প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

প্যারিসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন, প্রথম সচিব নির্ঝর অধিকারী, ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধিদল প্রস্তাবনাটি প্রস্তুতে সহায়তা করেন। 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ