এক তিক্ত অভিজ্ঞতার বাক্য "এটা বাংলাদেশ"

December 9, 2019, 12:47 PM, Hits: 477

এক তিক্ত অভিজ্ঞতার বাক্য  "এটা বাংলাদেশ"

জাহাঙ্গীর বাবু , হ-বাংলা নিউজ : বিদেশ ফেরত ছোট, বড় প্রকৌশলী ভাই,বোনেরা দেশে কাজ করার পুর্বে ভাববেন,এটা বাংলাদেশ।কাজের টেনশনে আপনি নির্ঘুম থাকলেও আপনার সহযোগীরা তাদের নিয়মিত প্রাকটিসে ঘুমাবেন নাক ঢেকে। দারুন একজন বস আর পরিবেশ পেয়েছিলাম।স্বাধীনতাও ছিলো বেশ। যা এ দেশে হয়তো কল্পনার বাইরে। সমস্যা,হলো, অন্যখানে,কাজের সব উপাদানের যথার্থ মিশ্রণ না হলে কাজে ভালো হবেনা কোন্ দিন।

সড়ক ব্যাবস্থার আজো এতো দুরাবস্থা একটা মালামালের গাড়ি পৌছতে স্বল্প দুরত্বেও বাহাত্তর ঘন্টা পার হয়ে যায়,ঢালাইয়ের গাড়ির ট্রাভেল টাইম চল্লিশ মিনিট হলেও তিন ঘন্টা ব্যায় হয় রাস্তায়! এক ঘন্টার এপ্লাই টাইমে লাগে তিন,চার ঘন্টা,গুনগত মান থাকবে কি করে। তার উপর মাথায় ঢুকেছে শ্রমিক ভাইদের,স্যার,এটা বিদেশ না বাংলাদেশ।

বিদেশে প্রতিটি শ্রমিক ভাইয়ের গায়ের ঘামে ডাংরি চটচটে, এখানে মনে হয় বেড়াতে এসেছে ( সবাই না,) কাজে সেইফটির জন্য চাপ দিলে,হাফপ্যান্ট পরে কাজ করে।জানি সময় লাগবে,এট লিষ্ট পাবলিক সেক্টরে,গ্রাম,থানা,উপজেলায় লুঙ্গি আর স্যান্ডেলেই প্রজেক্ট খতম।কোটি কোটি টাকার প্রজেক্টে বি এস সি ইঞ্জিনিয়ার দুর,ডিপ্লোমার ও দরকার নেই! কি বলব,এটা বাংলাদেশ!

স্বার্থের জন্য মানুষ নীচে নামবেই,এটা মানুষ আর দুনিয়ার রীতি।আপনি উঠতে চাইলে টেনে নামাবার লোকের অভাব হবেনা।কথায় টকশো আর ফেসবুক গরম সহজ,রাজপথ কঠিন।অনিয়ম,দুর্ণীতি ভরপুর দেশে ঘরের ঠিক রাখবো কি করে? শিক্ষাটাই যেখানে দুর্ণীতির,নকলের,ঠেলায় পাশ,ঘুষের সেখানে থাকনা,এটা বাংলাদেশ।

ভালো কিছু করা যেন অসম্ভব,অথচ বেশী ব্যায়ে বিদেশীরা মেগা প্রজেক্ট করে দুধ মালাই খেয়ে যাচ্ছে! আপনি কাজ চাইতে গেলেই সর্ব নিন্ম পজিশনের জন্য সাপ্লাইয়ারের মাধ্যে উৎকচ বানিজ্য,সুপারিশ ছাড়া পারবেন না! এটা বাংলাদেশ!

কাজের পরিবেশ,সময় সীমাবদ্ধতা, কর্মক্ষত্রে নিরাপত্তা,কাজের গুনগত মান,প্রতিবদ্ধকতা,বাজেট,ইত্যাদি নিয়েই একটি প্রজেক্ট শেষ করতে হয়।দেশ,আর বিদেশ সবখানেই এক।আমাদের দেশে প্রথম চ্যালেঞ্জ মন,মানসিকতা।পরের গুলি একেক জনের কাছে একেক রকম।

কর্ম যেখানে শত্রু সেখানে।অন্তর থেকে আত্মবিশ্বাসে কাজ করবেন,নষ্ট বিবেক

ষড়যন্ত্র করবেই!সারা বিশ্বে বাংলাদেশীরা বিদেশীদের সাথে তাদের নিয়মে,প্রযুক্তিতে কাজ করছে,দিন রাত আমাদের ছেলে মেয়েরা পরিশ্রম করছে,

সন্মানিত হচ্ছে।আমার দেখা,মধ্য প্রাচ্য সিঙ্গাপুরে,বিদেশী বড় ডিগ্রীধারীদের সাথে বাংলাদেশী এস এস সি,এইচ এস সি,তার চেয়েও কম পড়া শোনা জানা, ছেলেরা নিজেদের কর্ম দক্ষতার পরিচয় দিয়ে কাজ করছে।ডাক্তারী বা অন্যান্য বিষয়ের মতো ইঞ্জিনিয়ারিং এর বইয়ের ভাষা ভিন্ন  হলেও নিয়ম ফর্মুলা বিষয় বস্তু এক।কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিজের এবং পরিবারের জন্য। কাজের সময়সীমা সিডিউল চেজ করা, প্রাকৃতিক কিংবা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলা,যন্ত্রপাতির অভাব,রাস্তাঘাটের জ্যাম আমাদের দেশের প্রধান অন্তরায়।

শতভাগ শুদ্ধ,আর সিদ্ধ পৃথিবীতে কেউ নেই,তারপর ও চেষ্টা করতে দোষ কি।আমরা তো বিদেশে কাজ করা একই মানুষ। দেশে কাজ করতে এসে চাকরী পাওয়াটা ছিলো বিড়ম্বনা,যাও কাজ জুটে, চোখ,কান খোলা রেখে কাজ করাটা অন্যায়। আমাদের শুনতে হয়,এটা বিদেশ না, বাংলাদেশ!

মানে কি?  সীমাবদ্ধতা যতোই থাক, দায়বদ্ধতা কিন্তু থাকতেই হবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে,ডিজিটাল হচ্ছে,

বিদেশীরা এ দেশে কাজ করতে এসে মাখন খেয়ে যাচ্ছে,কার জন্য?  নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন নিরাপদ সড়কের দাবী করে কার শত্রু?  নিশ্চই সাধারণ জনতার নয়?

ইচ্ছা থাকলে নিজের সেরাটা দেয়ার উপযুক্ত পরিবেশ আজো নেই বাংলাদেশে। আমরা যারা বিদেশ ছিলাম,আমাদের বিদেশে ফেরত যেতে হবে।নয়তো থাকতে হবে বেকার,দেশে থেকেও মরবেন,বিদেশ থেকেও লাশ হয়ে আসবেন।

আরে ভাই দৃষ্টি ভঙ্গি বদলান,সমাজ,দেশ সব বদলানো সম্ভব।

বিদেশীরা ফাক ইউ কি এমনি বলে কথায় কথায়।ফাক ইউর ও ওজন আছে ম্যান।

নিরাপদ, নিরাপত্তার কথা বললেই,এটা বাংলাদেশ,বিদেশ না,সময় মতো কাজের কথা বললেই শ্রমিক ভাই বলে, স্যার, এটা বাংলাদেশ। আসলেই এটা বাংলাদেশ।তবে ফাঁকি আর নিন্মমানের মানসিকতার জন্য বুক উঁচিয়ে বলতে পারিনা, হ্যা,এটাই বাংলাদেশ।

কর্মক্ষত্রে কাজের পরিবেশ পাওয়া সত্যি ভাগ্যের ব্যাপার।একা কিছুই করা যায়না,সব ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন। জানি,এটা সৌদি,সিঙ্গাপুর না,বাংলাদেশ। কাজের মানুষ গুলি কিন্তু একই।বিদেশ থেকে।ফিরে আসা মানুষদের কাজের সুযোগ দিলে আপনাদের ক্ষতি হবে না।তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে আপনাদের লস হবেনা।

বগলে ইট নিয়ে নামাজ পড়লে হবেনা। দোষ আমার দেশের নয়,দোষ আমার,আপনার। 

 
সর্বশেষ সংবাদ
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ