হামলার আশঙ্কায় মার্কিন শহরে শহরে সতর্কাবস্থা

January 4, 2020, 2:20 PM, Hits: 420

হামলার আশঙ্কায় মার্কিন শহরে শহরে সতর্কাবস্থা

হ-বাংলা নিউজ : ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার জের ধরে কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে উৎকণ্ঠিত আমেরিকার সাধারণ জনগণও। প্রতিশোধ নিতে গিয়ে ইরান কী করবে, এ নিয়ে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। ৩ জানুয়ারি রাত থেকেই আমেরিকার বড় বড় নগরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। অনেক নগরে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

মার্কিন বিমান হামলায় সোলাইমানির মৃত্যুর পর বিশ্বজুড়ে আমেরিকার নাগরিকদের ওপর ইরানের প্রতিশোধ নিয়ে আশঙ্কা বিরাজ করছে। নিউইয়র্ক নগর ও লস অ্যাঞ্জেলেসের আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে তাঁদের আশঙ্কার কথা বলেছেন।

নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাজিও ৩ জানুয়ারি সকালেই বলেন, নগরে কোনো ‘বিশ্বাসযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট হুমকির’ তথ্য তাঁদের কাছে নেই। তারপরও সর্বত্র পুলিশকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কার্যত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছি।’

মেয়র ডি ব্লাজিও বলেন, ‘বাস্তবতা এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা এখন অনেক শক্তিশালী হুমকির মুখোমুখি।’ ইরান ও তাদের পক্ষের লোকজন বহুদিন থেকেই আমেরিকায় হামলা চালানোর চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরান হয়তো শুরুতেই নিউইয়র্কে সরাসরি কোনো হামলা করবে না। তবে তাদের মিত্রপক্ষ এমন হামলা চালাতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

আমেরিকার সবচেয়ে বড় নগরের এই মেয়র বলেন, পাল্টাপাল্টি হামলা হামলার মধ্য দিয়ে এবারের ঘটনা শেষ হচ্ছে না। অপ্রচলিত যেকোনো হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সাইবার অ্যাটাকসহ আগে দেখা যায়নি এমন কোনো গণবিধ্বংসী হামলারও আশঙ্কার কথা জানান তিনি।

আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর লস অ্যাঞ্জেলেস। এই নগরেও টহল জোরদার করা হয়েছে। সর্বত্র পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। যদিও জানানো হয়েছে, ইরানের পাল্টা হামলা বা হুমকির কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের কাছে নেই। ‘এলএপিডি ইরানে বিকাশমান ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করছে’—৩ জানুয়ারি গভীর রাতেই লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ এক টুইটে জনগণকে এমন তথ্য জানিয়েছে। স্থানীয়, কেন্দ্রীয় ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী অংশীদারদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও এলএ জানিয়েছে পুলিশ।

লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ৩ জানুয়ারি বলেছে, লস অ্যাঞ্জেলেস অঞ্চলে হামলার সম্ভাবনা কম। ইরান আমেরিকার বাইরেই প্রথম প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন।

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কাউন্সিল বলছে, তেহরান ‘সঠিক সময়ে ও সঠিক জায়গায়’ কাশেম সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ নেবে। আমেরিকার সাধারণ লোকজনও মনে করছে, ইরানি প্রতিক্রিয়া হয়তো বাঁধা ছকের বাইরে কিছু হতে পারে, হয়তো ইরান নিছক একটা হামলা করার জন্যই হামলা চালাবে না। সামনের দরজা দিয়ে না হলেও হামলা যে অবশ্যম্ভাবী—এ কথাই এখন শঙ্কা আর উৎকণ্ঠার সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে আমেরিকানদের মধ্যে। 

 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ