সোলাইমানির শোক মিছিলে ‘আমেরিকার ধ্বংস’ কামনা

January 4, 2020, 2:30 PM, Hits: 567

 সোলাইমানির শোক মিছিলে ‘আমেরিকার ধ্বংস’ কামনা

হ-বাংলা নিউজ : ইরানের সামরিক কমান্ডার মেজর জেনারেল কাশেম সোলাইমানি, ইরাকি আধা সামরিক হাশেদ আল-শাব্বি বাহিনীর প্রধান আবু মাহদি আল মুহান্দিস ও তাদের সঙ্গে নিহত ব্যক্তিদের লাশ নিয়ে শোক মিছিল করেছে বাগদাদ। আজ শনিবার স্থানীয় সময় সকালেই ইরাকের রাজধানী বাগদাদের পথে নামে শোকার্ত জনতার ঢল।

গতকাল শুক্রবার ভোরে বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেনারেল সোলাইমানির গাড়িবহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় সোলাইমানিসহ ১০ জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন ইরানের ও পাঁচজন ইরাকের। ইরাকের পাঁচজনের মধ্যে রয়েছেন আবু মাহদি আল-মুহানদিস, যিনি ইরানের সমর্থনপুষ্ট খাতিব হেজবুল্লাহ গ্রুপের কমান্ডার এবং ইরাকি মিলিশিয়াদের একটি জোট পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিটের নেতা ছিলেন।

বাগদাদে শোক মিছিলে যোগ দিতে ভোর থেকেই লোকজন জড়ো হতে শুরু করে। তাদের হাতে ছিল ইরাকি এবং মিলিশিয়া বাহিনীর পতাকা। তারা 'আমেরিকার মৃত্যু চাই' স্লোগান দেয়। শহরের অনেক রাস্তাজুড়ে মিছিল চলে।

এএফপির খবরে বলা হয়, শোক মিছিলে ইরাকের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদেল মাহদি ছাড়াও ইরানপন্থী শীর্ষ কর্মকর্তারা যোগ দেন। প্রথমেই নিহত ব্যক্তিদের কফিনগুলো নেওয়া হয় উত্তর বাগদাদের শিয়া মাজারে। সেখানকার লোকজনের পরনে ছিল কালো পোশাক। হাতে ছিল ইরাক ও হাশেদ আল-শাব্বি বাহিনীর পতাকা, হাতে ছিল সোলাইমানি এবং ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি।। তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি জানায়। এরপর কফিনের বহর নিয়ে যাওয়া হয় পবিত্র কারবালা শহরে। আর শেষ হয় নাজাফে। সেখানে ইরাকের নিহত পাঁচজনকে দাফন করা হবে।

আজ স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় সোলাইমানির লাশ ইরানে পাঠানো হবে। ইরানে সোলাইমানির মৃত্যুতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার মধ্য ইরানের কেরমান শহরে তাঁর দাফন হবে।

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মিলিশিয়া সদস্যদের মৃত্যুর জেরে ক্ষোভ জানাতে বিক্ষোভকারীরা গত মঙ্গলবার ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের বাইরের দিকের দেয়াল ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দূতাবাসের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়েন। ইরাকে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও অন্য কর্মীদের দূতাবাস থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন দাবি করে, জেনারেল সোলাইমানির অনুমোদনেই ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে হামলা হয়েছে।

পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলা হয়, বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের লোকজনকে রক্ষায় প্রেসিডেন্টের নির্দেশনায় ইরাকে সোলাইমানিকে হত্যা করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। ভবিষ্যতে ইরানের হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করতেই জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের যেকোনো স্থানে তার লোকজন ও স্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রাখবে।

সোলাইমানির মৃত্যুতে ‘বড় ধরনের প্রতিশোধ’ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

৬২ বছর বয়সী জেনারেল সোলাইমানিকে সাম্প্রতিক সময়ের বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত সমরবিদ মনে করা হচ্ছিল। তিনি মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো সমরজগতের বিশেষ নজরে ছিলেন। সিআইএ-মোসাদের হিটলিস্টে সোলাইমানি ছিলেন বলে বিভিন্ন খবরে জানা যায়।

জেনারেল সোলাইমানি নিজ দেশ ইরানে হাজি কাশেম নামে পরিচিত। তিনি রেভল্যুশনারি গার্ডের একজন কমান্ডার হলেও অলিখিতভাবে তাঁর পদমর্যাদা দেশটির যেকোনো সামরিক কর্মকর্তার ওপরে ছিল।

রেভল্যুশনারি গার্ডের ‘কুদস্ ফোর্স’ সোলাইমানির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছিল। ২১-২২ বছর ধরে বাহিনীটি গড়ে তোলেন তিনি।

‘কুদস্ ফোর্স’ অপ্রচলিত যুদ্ধের জন্য তৈরি একটা বৃহৎ ‘স্পেশাল অপারেশন ইউনিট’। এই ফোর্সের প্রধান কর্মক্ষেত্র মূলত ইরানের বাইরে। কুদস্ ফোর্স ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হন সোলাইমানি।

সোলাইমানি তাঁর বাহিনীর পুরো কাজকর্মের জন্য আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কাছে জবাবদিহি করতেন। খামেনি জেনারেল সোলাইমানিকে ‘অর্ডার অব জুলফিকার’ পদক দেন। বিপ্লব-উত্তর ইরানে এই খেতাব তিনিই প্রথম পান।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফরেন পলেসি’ জার্নাল ২০১৯ সালে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পেশার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একটি তালিকা করে। এই তালিকার সমর খাতে জেনারেল সোলাইমানিকে প্রথম স্থানে রাখা হয়। মার্কিন প্রশাসন এই ইরানি জেনারেলকে একজন ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে বিবেচনা করে আসছিল। তিনি মার্কিন সরকারের কালো তালিকায় ছিলেন। তিনি ইসরায়েল ও সৌদি আরবেরও মাথাব্যথার কারণ ছিলেন। 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ