হে মহাকাল

January 6, 2020, 12:16 PM, Hits: 168

হে মহাকাল

হে মহাকাল

ফজলুল কাদির


আমি ছিলাম ধ্যানে, বীণা হাতে একান্তে

কা নজংঘা বুকে ধারণ করে তার

সর্বোচ্চ শেখরে বসে মগ্ন সাধনে সুরের দিব্যজ্ঞান

হঠাৎ একটা করুন আর্তনাদে কে যেন বলে যায়

“হে বন্ধু বিদায়”! পেছন ফিরে দেখি

মহাকাল তার নিষ্ঠুর হাতে নিজ বুকে দিয়েছে ঠুকে

আরও একটি কঠিন পেরেক কেড়ে নিয়ে গেল

আরও একটি বছর চিরতরে

রক্তাক্ত ক্ষত বিক্ষত হৃদয়ের জমিন

অসহায় নির্বোধ চিত্তে তাকিয়ে থাকি অর্থহীন দীর্ঘ নিঃশ্বাসে

ছায়া পড়ে নতুন সূর্যোদয়ে নিবিড় চেতনার অঙ্গনে,

হায় মহাকাল,

তোমার সঙ্গীতে শুধুই বাজে প্রস্থানের সুর

যার যাওয়া আছে আসা নেই

এ জগত সংসার শূন্য থালা হাতে নির্বাক

দাঁড়িয়ে থাকে অবাক পাথর সময়

তবুও চলছে নিরন্তর সম্মুখে গতি প্রকৃতির নিয়ম চিরন্তন

অসহায় হাহাকারে মুখ থুবড়ে পড়েছে

চির বি ত করুণা-ধারা প্রত্যাশী এ ধরণী

কে জানে কতকাল!

হে মহাকাল, হে পথিক পাবন

হে প্রেমময়, হে ঐশ্বর্য্যবান,

আমার একটি শেষ আবেদন জেনো প্রাণের বাসনা

হৃদয়ের কথা সংগ্রামী কবি মনের অতৃপ্ত কামনা

একটুখানি সময়, অষ্ট প্রহরের একটি দিন আমায় দাও,

এইসব চেনা দিনরাত্রি নয়।

বিশ্ব ব্র²ান্ডের নিয়মেরও বাহিরে

সৌর বর্ষের বাহিরে, সূর্য বর্ষেরও বাহিরে

যেখানে বসবাস করে যুগ যুগান্তের সব কবি

হাজার বছর ধরে, ছন্দ নিয়ে করে খেলা

ছান্দসিক যেমন মরুর বুকে দূরন্ত ঘোড়ার খুরের তালে তালে

শব্দহীন শব্দে ভরে তোলে আঙ্গিনার চারিধার,

আর লিখে যার মৃত সব কবিতা নিরবে নিভৃতে অবিরাম,

সেই কবিদের মেলায় আমি হব একমাত্র জীবন্ত কবি

এবং লিখে যাব একটি জীবিত কবিতা “আমি এসেছি”

সেই কবিতাটি একমাত্র সেই কবিতাই পারে

একদম থামিয়ে দিতে তোমার মহিমান্বিত অভিযাত্রা

উদভ্রান্ত মহাপ্রলয় ঘোষণা কবে আমার অস্তিত্ব বারবার

রাজসিক উন্মাদনায় হে মহাকাল

সে হবে এক অনিবার্য্য নান্দনিক বিপর্য্যয়

প্রথম ছন্দপতন তোমার চলার ইতিহাসে

সেই আদি থেকে এবং আদিম সভ্যতার পূর্ণজন্ম বিশ্ব চরাচরে। 

 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ