করোনাভাইরাসে মৃত্যুহার কম, আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ

January 31, 2020, 2:57 PM, Hits: 141

করোনাভাইরাসে মৃত্যুহার কম, আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ

হ-বাংলা নিউজ : বিশ্ববাসীর জন্য নতুন আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। এরই মধ্যে প্রায় ১০ হাজার মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। কেবল চীনেই মারা গেছেন ২১৩ জন। আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হলেও মৃত্যুহারের দিক থেকে এখনো সার্সের মতো মহামারি আকার ধারণ করেনি করোনাভাইরাস। তবু কেন এত আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এটি?

বিজনেস ইনসাইডার ডট কমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০২ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (সার্স) ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৭৭৪ জন মারা গিয়েছিলেন। সার্সে আক্রান্তদের মধ্যে সেবার ৯.৬ শতাংশ রোগীই মারা গিয়েছিলেন। আর করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন প্রায় ২ শতাংশের মতো মানুষ। কিন্তু ৮ মাসে সার্সে যত মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন, মাত্র এক মাসেই করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা তা ছাড়িয়ে গেছে। এ থেকেই বোঝা যায়, করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও এই ভাইরাসের কারণে মানুষের মারা যাওয়ার হার সার্সের মতো অতটা ভয়াবহ নয়।

চিকিৎসকেরা বলছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অনেকেই ইতিমধ্যে পুরোপুরি সুস্থ হয়েছেন। চীন কর্তৃপক্ষ বলেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন তাঁদের বেশির ভাগই হয় বয়স্ক ব্যক্তি, না হয় বিভিন্ন অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম ছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিন্তু আতঙ্কিত না হয়ে মানুষের উচিত দ্রুত সতর্ক হওয়া। এই রোগ থেকে দূরে থাকার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা নতুন কোনো পরামর্শ দিচ্ছেন না, বরং প্রাত্যহিক কাজগুলোই গুরুত্বের সঙ্গে পালন করতে বলছেন। খাওয়ার আগে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নেওয়া, মাস্ক ব্যবহার করা, গণপরিবহন এড়িয়ে চলা- এসব পদক্ষেপের মাধ্যমেই করোনাভাইরাসকে অনেকটা দূরে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন তাঁরা।

ভার্জিনিয়ার জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব স্বাস্থ্য ও মহামারি সংক্রান্ত বিভাগের অধ্যাপক আমিরা রোয়েস বলেছেন, সঠিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বদলে করোনাভাইরাস নিয়ে অযথা আতঙ্ক ছড়ালে সেটি বরং সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির পেছনে মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ও জড়িত। মহামারি ইবোলা ভাইরাসের প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন মনোবিদ পল স্লোভিক বলেছেন, ইবোলা ভাইরাসের সময়েও এমন আতঙ্কময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। মানুষের মনে ঢুকে গিয়েছিল, এই রোগ অনিরাময়যোগ্য ও অপ্রতিরোধ্য। যদিও সার্স কিংবা করোনাভাইরাসের তুলনায় ইবোলা সত্যিকার অর্থেই অনেক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। ১৯৭৬ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে ৩৩ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন ইবোলা আক্রান্ত হয়ে, যাদের বেশির ভাগই আফ্রিকান। মৃত্যুহারও ছিল অনেক বেশি, ২৫ শতাংশ থেকে শুরু করে কোথাও কোথাও ৯০ শতাংশে গিয়েও ঠেকেছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েকটি কারণে করোনাভাইরাস নিয়ে এত আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্রথমত, নতুন ভাইরাস হিসেবে আগের যেকোনো ভাইরাসের তুলনায় এটি দ্রুত শনাক্ত করা গেছে। ইতিমধ্যে এর প্রতিষেধক তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভাবনীয় উন্নতির কারণে অতীতের মতো এখন কোনো রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কম। তাই সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দিয়েছেন বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকেরা। 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ