মতামত

February 29, 2020, 12:38 PM, Hits: 750

মতামত

খায়রুজ্জামান মামুন, হ-বাংলা নিউজ, হলিউড থেকে : একটা দেশের সাথে আরেকটা দেশের সম্পর্ক গড়ে ওঠে মুলত পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ের উপর ভিত্তি করে। তার মোধ্য অন্যতম হলো পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভৌগলিক অবস্হান, বানিজ্যক লেনদেন এবং রাজনৈতিক/অর্থনৈতিক জোট গঠন ও সহযোগীতা দেওয়া নেওয়া  ইত্যাদি। সে অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কটাও তেমনই একটা কিছুর মানদন্ডের উপর ভিত্তি করে হওয়ারই কথা ছিল। 

♦️এই দুই দেশের সম্পর্কের কথা উঠলেই আমাদের তরফ থেকে সর্বপ্রথমে একটা যুক্তি সবসময় দেওয়া হয় যে ভারত বাংলাদেশর স্বাধীনতা যুদ্ধের সবছেয়ে বড় মিত্র! ১৯৭১ সালে ভারত আমাদের পাশে না দাঁড়ালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রাপ্তি প্রলম্বিত হত।কথা একেবারে মিত্যে নয়।আর এজন্যে বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের প্রতি জাতি হিসেবে আমাদের কৃতজ্ঞ থাকাই বান্চনীয়। পাশাপাশি বিশ্বায়নের এই যুগে এসে আমাদেরকে গভীরভাবে লক্ষ রাখতে হবে বন্ধু রাষ্ট্র হিসাবে ভারত আমাদের সাথে আসলে কেমন আচরন করছে(এটা রাজনৈতিক/অর্থনৈতিক যাই হোক না কেন)। সুচারু ভাবে পর্যবেক্ষন করে দেখতে হবে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহায্য করার পেছনে তাদের কোন কু-মতলব ছিল কিনা। উপলব্ধিতে আসা প্রয়োজন আসলে ভারত প্রশ্নে আমরা সঠিক অবস্থানে আছি তো? আর এই উপলব্দির জন্যে আপনাকে আমাকে পররাষ্ট্র বিষয়ক বিশেষজ্ঞ বা কোন মহা পন্ডিত হতে হবে না। বিগত ৪৮ বছরে তারা যে আচার আচরন আমাদের প্রতি করেছে তার একটা মোটামোটি চিত্র দেখে হিসাব কষলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে সব। দুরদর্শী চিন্তা সম্পন্ন বেশীরভাগই একমত হবেন যে ভারত আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশকে সাহায্য করার চেয়ে চিরশত্রু পাকিস্তানকে দুর্বল করে দেওয়া ছিল তাদের তাৎক্ষনিক উদ্দেশ্য। আর এই সাহায্য করার সুযোগ নিয়ে সেসময় স্বাধীন হওয়া ভৌগলিক ভাবে ছোট্ট, অর্থনৈতিক ভাবে সম্ভাবনাময় এবং দুর্বল প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসাবে করায়ত্ব রেখে আজীবন লুটেপুটে খাওয়া ছিল এর সুদুর প্রসারী পরিকল্পনার অংশ। যা এখন দৃশ্যমান। 

♦️কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাষ্টনায়ক মোদীর সাম্প্রতিক কর্মকান্ডে ভারত জুড়ে তো বটেই, এমনকি সারা বিশ্বে যে ক্ষোভ উদগিরিত হচ্ছে তার প্রভাব বাংলাদেশেও খুব জুড়ালো ভাবেই আঁচড় কেটেছে। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে(এমন কি ভারতের ঘোরতর সমর্থক যদিও মুখ খুলে বলতে পারছে না) সকলের অন্তরকেই আহত করছে। প্রায় সকল মহল থেকেই জোড় দাবী উঠছে মুজিববর্ষ পালনের অনুষ্টানে মোদীকে যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তা প্রত্যাহার করে নিতে অন্যথায় প্রতিহত করার ঘোষনা দিয়েছে কয়েকটি গোষ্টী/মহল। আসলে এর বাস্তবতা কি? এটা কি বর্তমান বাস্তবতায় এই সরকারে পক্ষে আদৌ সম্ভব? বেগম খালেদা জিয়া প্রনব মুখার্জিকে উপেক্ষা করার পরিনতি দেখে ক্ষমতসীনরা নিশ্চই দাবার চালে ভুল করবেন না। এর উত্তরটা ইতিমোধ্যেই ক্ষমতাসীন দলের দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তির মুখ থেকে বের হয়ে এসেছে। যুক্তি হিসাবে সেই ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের বিষয়টাকেই সামনে নিয়ে আসা হয়েছে।যদিও আসল কারণ এটা না। অন্যদিকে যারা মোদীকে প্রতিহত করার কথা বলছে তারাও হয়ত জানে সেই শক্তি বা সামর্থ এর কোনটাই তাদের নেই। 

তবুও নিজেদের নৈতিক অবস্থান থেকে বিবেকের তাড়নায় বলছেন অথবা ভাবছেন আর যাই হোক না কেন সরকার কে অন্তত নৈতিক ভাবে চাপ প্রয়োগ করা তো গেল। কোন রাজনৈতিক কারনে নয়, বরং একজন মুসলমান হিসেবে, বিবেকের তাড়নায় একজন সৃষ্টির সেরা জীব “মানুষ” হিসেবে যারা মোদীর আমন্ত্রণ কে প্রত্যাহার করার দাবী জানাচ্ছে তার প্রতি পূর্ন সমর্থন রইল। আর যাই হোক, যার শাসন ব্যাবস্থার অধীনে তার রাষ্ট্রের একটা নির্দিষ্ট ধর্মের লোকদের(আমার ভাই/বোনদের) উপর এহেন জঘন্যতম বর্বরতা চালানো হলো এরকম একজন জঘন্য রাষ্ট্রনায়ককে অন্তত আমার জন্মভুমিতে আমি স্বাগত জানাতে পারি না। প্রিয় মাতৃভুমিতে নরপিশাচ মোদীর আগমনকে তাই অগ্রিম ধিক্কার জানিয়ে রাখলাম। 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ