ইন্টার স্টেট বিএনপি যুক্তরাষ্ট্র এর উদ্যোগে জাতিসংঘের সামনে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির লক্ষ্যে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ

March 5, 2020, 11:44 AM, Hits: 117

ইন্টার স্টেট বিএনপি যুক্তরাষ্ট্র এর উদ্যোগে জাতিসংঘের  সামনে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির লক্ষ্যে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ

কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম, হ-বাংলা নিউজ : গত ২ মার্চ ইন্টার স্টেট বিএনপি যুক্তরাষ্ট্র কার্য্যকরী কমিটির উদ্যোগে জাতিসংঘের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র চেয়ারপারর্সন গণতন্ত্রের নেত্রী, সা¤্রাজ্যবাদ, সামাজিক সা¤্রাজ্যবাদ, উপ-সা¤্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও আগ্রাসনবাদ বিরোধী আন্দোলন ও সংগ্রামে আপোষহীন দেশনেত্রী বাংলাদেশের জনগনের মা বেগম খালেদা জিয়াকে স্বৈরাচারী খুনী এবং গণতন্ত্র হত্যাকারী শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও জেল থেকে নিঃশর্ত মুক্তির লক্ষ্যে স্মরণকালের বৃহত্তম প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশের মূল এবং সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সকল স্তরের সম্মানিত নেতা এবং কর্মী, সমর্থক এবং শুভানুধায়ী ও সর্বস্তরের প্রবাসী বাংলাদেশী জনগণ।

এই ঐতিহাসিক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের সম্মানিত সেক্রেটারি জেনারেল অনটোনিও গুতারেজ এর কাছে গণতন্ত্র পুর্নউদ্ধার এবং দেশনেত্রী ও তিন বারের নির্বাচিত বয়োবৃদ্ধ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং তার দলের সকল নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং সকল রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য স্বারক লিপি দেওয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম ও পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ। উল্লেখিত প্রতিবাদ ও বিক্ষোব সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সকল সম্মানিত নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তৃতা করেন। উল্লেখিত প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ জাতিসংঘ সহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহŸান জানিয়ে বলেন যে, বাংলাদেশ নিয়ে প্রতিবেশী হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র ভারতীয় শাসক গোষ্ঠী এক গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে এই দেশটির ফ্যাসিষ্ট ও মুসলমান নিধন ও খুনী রাষ্ট্র প্রধান বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৈৗমত্ব নিজদের নিয়ন্ত্রনের লক্ষ্যে আমাদের দেশের স্থল, জল ও আকাশ পথের উপর তাদের সার্বিক কর্তৃত্ব নিয়ন্ত্রন নিশ্চিত করেছে। আমাদের সেনাবাহিনী, আমাদের পুলিশ, আমাদের বিজিবি, আমাদের সিভিল প্রশাসনসহ সকল ক্ষেত্রে তারা তাদের আধিপত্য ও আগ্রাসনবাদী নীতি কার্যকর করার জন্য অসংখ্য দেশ বিরোধী চুক্তিপত্র বাস্তবায়ন করেছে। এই সব দেশ বিরোধী এবং জাতীয় স্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ডে গত এক যুগেরও বেশী সময় ধরে কাজ করছে ভারতের লালিত পালিত ও আশ্রিত নিশীত রাতের ভোটার বিহীন অবৈধ সরকার এবং সরকার প্রধান খুনী শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, তাদের ভারতীয় শাসক গোষ্ঠী বাংলাদেশকে একটি অঙ্গরাজ্য বানানো এবং অবাধ লুন্ঠন করার জন্য সর্ব প্রথমেই আমাদের দেশ মাতা জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৈৗমত্ব রক্ষার মহান আপোষহীন নেত্রী জণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা বানোয়াট মামলা দিয়ে গ্রেফতার এবং কারা বন্দি করা হয়। এই মহান নেত্রীর গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে আমাদের জাতীয় স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সুমহান গণতন্ত্রকে কারা বন্দি করা হয়েছে। তার গ্রেফতারের ফলে দেশের গণতন্ত্র, মানব অধিকার, আমাদের বিচার ব্যবস্থা, আমাদের বাক ব্যক্তি, সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা সহ সকল অধিকার আজ ভুলণ্ঠিত এবং নির্বাসিত।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তিন বারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বেগম খালেদা জিয়ার মত একজন বয়োজৈষ্ঠ নেত্রী পৃথিবীর কোন জেলখানায় বন্দি নেই। আমরা মানবিক কারণে বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তিসহ তার সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং দলের সকল নেতা কর্মীদের মিথ্যা মামলা ও রাজবন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘ সহ বিশ্বি নেতৃবৃন্দের কাছে আহŸান জানাচ্ছি। নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তৃতায় আরো বলেন যে, বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ সরকার প্রধান এবং তার দল ও ভারতীয় ‘র’ এর সমন্বয়ে দেশে পরিকল্পিতভাবে মামলা হামলা ঘুম, খুন হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে সমগ্র দেশ এবং জাতিকে একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। বলা যায়, বাংলাদেশের সরকার হচ্ছে ‘র’ এর সমন্বয়ে গঠিত একটি  ভারতের বদ্ধিষ্ণু সরকার। এই দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, পরাষ্ট্রনীতি, ব্যবসা বাণিজ্য সহ সব কিছুই দিল্লির ফ্যাসিষ্ট শাসকদের নির্দেশে পরিচালিত। দেশ এখন দিল্লি থেকে শাসন করা হচ্ছে।

এই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তাগণ বলেন, বিশ্বব্যাপী আজ মানব হত্যার হলি খেলা চলছে, এই সুযোগটি গ্রহণ করেছে অশিক্ষিত ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনা ও তার দল এবং সরকার। এটা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১১ এর মর্মাত্মিক ও দুঃখজনক ঘটনার পর থেকে। স্বৈরশাসক প্রধান শেখ হাসিনা এই সুযোগ নিয়ে নিজের ক্ষমতাকে দীর্ঘ আয়ু এবং ক্ষমতাকে নিশ্চিত করার লক্ষ্য ভারতের এজেন্ডা একটির পর একটি বাস্তবায়ন করে আসছে। ভারতকে খুশী করার জন্য দেশের জ্ঞানী গুনী নেতা ও প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধাদের ফাঁসি দিয়েছেন, বক্তাগণ বলেন, বাংলাদেশের সেনাবাহনিী ও বিজিবি আজ ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বিএসএফ এর বদ্ধিষ্ণু অংশে পরিণত হয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশ আজ একটি কারাগার ও মৃত্যুর উপতক্যা।

আজ স¤্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো চীন ঠেকাও নীতি গ্রহণ করায় বাংলাদেশের সব কিছু আজ ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে। মনে হচ্ছে বাংলাদেশকে ভারতের কাছে লিজ দিয়েছে। এই চীন বিরোধী সা¤্রাজ্যবাদী নীতি কি শেষ পর্যন্ত চীনের অর্থনৈতিক রাজনৈতিক আগ্রাসনের হাত থেকে বিশ্ব এবং বাংলাদেশকে রক্ষা করতে পারবে?

বক্তাগণ বলেন, আজ বাংলাদেশের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হচ্ছে ভারতীয় পররাষ্ট্র নীতির আদলে। নেতৃবৃন্দ বলেন যে, বাংলাদেশের জমি দখল করে ভারতীয় আগ্রাসনবাদী ফ্যাসিষ্ট শাসকরা তাদের বিমান বন্দর প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে। আমাদের নদী বন্দর গুলোসহ বঙ্গপোসাগরের সকল সম্পদ ভারত ও চীন এবং সা¤্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর হাতে তুলে দিয়ে আমাদের জাতীয় অর্থনীতির সকল পথ বন্দ করে সরকার প্রধান ফ্যাসিষ্ট হাসিনা ও তার দল নিজদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, দুই কোটি টাকার মিথ্যা মামলা দিয়ে দেশের বয়জৈষ্ঠ এবং আপোষহীন দেশনেত্রী ও তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিহিংসার জন্য জেলে নেওয়া হয়েছে। অথচ দুই কোটি টাকা আজ ৯ কোটি টায় পরিণত হয়েছে। আর সরকারের প্রধান এবং তার ছেলে, মেয়ে, মেয়ের জামাই, পুত্র সজীব, বোন ও দলীয় মন্ত্রী এমপিরা হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে পাচার কওে ব্যবসা-বাণিজ্য, বাড়ী ক্রয় করে নিজদের স্বর্গরাজ্য প্রতিষ্ঠা করছে। এবং দেশে ব্যাংক ডাকাতি, ব্যাংক লুট করে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার ও দুর্নীতি মামলায় মন্ত্রী, এমপি ও নেতাদের বিভিন্ন মেয়াদী জেল জরিমানা হয়েছে। তারা নির্বিঘেœ মন্ত্রীত্ব ও নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রশ্ন হচ্ছে তা হলে বেগম খালেদা জিয়া জেলে কেন? দেশে ব্যাংক ডাকাতি, ব্যাংক লুট করে, লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছেন। বৃটিশ শাসন আমলেও এইভাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার লুটপাট হয়নি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ভারতীয় দালাল সেনা বাহিনী ও বিজিবি প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের দেশ প্রেমিক সেনা বাহিনীকে হত্যা কা হয়েছে। তার বিচার এবং তদন্ত রিপোর্ট সূর্য্যরে মুখ আজও দেখেনি। কারণ এই হত্যাকান্ডের সাথে শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামীলীগ এবং ভারতীয় শাসক গোষ্ঠী জড়িত ছিল। বক্তাগন বলেন, সময় হলে সকল হত্যাকান্ড ও লুটপাটের বিচার হবে।

উল্লেখিত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের তারুন্যের প্রতীক ভবিষ্যত প্রধানমন্ত্রী আমাদের নেতা বাংলাদেশ জাতীয়তবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান নতুন শ্লোগান দিয়েছেন “ গেইট ব্যাক বাংলাদেশ’ এই শ্লোগানের বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বিএনপি দেশব্যাপী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন (বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী রাজনীতি আদর্শ) বাস্তবায়নই পারে স্বৈরশাসক এবং ভারতীয় দালাল আওয়ামী লীগ শাসক সরকারের পতন ঘটাতে।

সভায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সকল সকল শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও সকল  অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন. সভায় বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাট, সাধারণ সম্পাদক: জিল্লুর রহমান জিল্লুু ,সাবেক আন্তজাতিক সম্পাদক ও সহসভাপতি : গিয়াস আহমেদ , সিনিয়র সহ সভাপতি : প্রফেসর দেলোয়ার হোসাইন, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য: রফিকুল ইসলাম দুলাল, যুগ্ম -সম্পাদক : আনওয়ারুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক: বাকির আজাদ, যুগ্ম সম্পাদক ফারুক চৌধুরী, মাহমুদ চৌধুরী, ইন্টার স্টেট বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি: সালেহ চৌধুরী, ইন্টার স্টেট বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক: এম.এ. খালেক আকন্দ, যুবদল সভাপতি:জাকির চৌধুরী, যুবদল সাধারণ সম্পাদক :আবু সাঈদ আহমেদ, শ্রমিক দল সভাপতি:জাহাঙ্গীর আলম,  শ্রমিক দল সাধারণ সম্পাদক: আনোয়ারুল ইসলাম শাহীন, মুক্তিযোদ্ধ দলের সাধারণ সম্পাদক:সুরুজ্জামান, ফোরাম সভাপতি: নাসিম আহমেদ, সাইদুর খান, খালেক আখন্দ, খুলকুর রহমান, আনোয়ার হোসাইন, শেখ হায়দার আলী, রেজাউল আজাদ ভূইয়াঁ, সাইফুর খান হারুন, কাওসার আহমেদ, ফারুক হোসাইন মজুমদার, জাফর তালুকদার, হুমায়ুন কবির, শামীম মাহমুদ, বি এম বাদশা, এবাদ চৌধুরী, হেলালুর রহমান, জামিলুর রহমান, তানভীর হাসান খান প্রিন্স, মোস্তাক আহমেদ, ওয়াহেদ আলী মন্ডল, হুমায়ুন কবির, আবদুর রহিম, মোস্তফা আহমেদ, মীর মশিউর রহমান, মোফাজ্জল ভ‚ইয়া, আবুল কালাম, রুহুল আমিন, মোহাম্মদ জহির, এমদাদুল ইসলাম, এয়াকুব আলী, আজিজুল ইসলাম, আবুল বাশার, উত্তম বণিক, কয়েস আহাদ, মীর সিরাজুল ইসলাম, রিংকু চৌধুরী, সরকার সালাউদ্দিন, ফরিদ খন্দকার, তামিম চৌধুরী, সৈয়দ গোসী হোসেন, জাবেদ উদ্দিন, মহিদুর রহমান মহিত, রিয়াজ মাহমুদ, মীর মিজান, দেওয়ান কাওসার, মজিবুর রহমান, হারুনুর রশিদ, মুরসালিন হোসাইন, আসলাম উদ্দিন, হোসাইন সোহেল, প্রফেসর ইকবাল চৌধুরী সহ আরো অনেক প্রমুখ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ