বসন্ত এসে গেছে, করোনা যাবে কবে ?

March 21, 2020, 11:47 AM, Hits: 144

বসন্ত এসে গেছে, করোনা যাবে কবে ?

সুব্রত চৌধুরী, হ-বাংলা নিউজ,আটলান্টিক সিটি থেকে : ক্যাসিনো শহর হিসাবে বিশ্বে সমধিক পরিচিত নিউজারসির আটলান্টিক সিটি। সারা বিশ্বের বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের পদভারে যে শহর সারাক্ষন গমগম করতো, করোনা আতংকে সেই শহরটা এখন কার্যতই ফাঁকা।এই শহরের অধিবাসীরা কার্যত গৃহবন্দী,যদিও পুরো শহর এখনও লক ডাউন হয়নি। আটলান্টিক সিটির  সব স্কুল , কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, বন্ধ শেষে সব ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।শহরের অধিকাংশ মসজিদ বন্ধ। আটলান্টিক সিটির মেয়র মার্টি এসমল  ইতোমধ্যে জরুরি অবস্হা ঘোষনা করেছেন।নিউজারসি রাজ্যের গভর্নর এর নির্দেশে আটলান্টিক সিটির প্রানভোমরা ক্যাসিনোগুলোও বন্ধ । করোনার আতংকে শহরের সাধারণ মানুষ সহ প্রবাসী বাংলাদেশীদের  মধ্যে একটা চাপা আতঙ্ক আছে।প্রতিদিনের চেনা চারপাশ কেমন যেন বিবর্ণ হয়ে গেছে। পথঘাট, দোকানপাট, শপিং মল, দর্শনীয় স্থানগুলো খাঁ খাঁ করছে। কোথাও কেউ নেই।প্রবাসী বাংলাদেশীরা  অবসরে  দোকান, রেস্তোরাঁগুলোতে আড্ডা দেন না। কমিউনিটি ভিওিক বা রাজনৈতিক কোনো সভায় মিলিত হন না।

প্রকৃতির নিয়মে  এখন আটলান্টিক সিটিতে  বসন্ত। আটলান্টিক মহাসাগর পরিবেষ্টিত   এই শহরটি এই সময়ে  অপরূপ হয়ে ওঠে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের জন্য এ সময়টা সবার   খুব প্রিয়। আকাশ আর মহাসাগর দুই-ই স্বচ্ছ নীল। অন্য যে কোনও সময়ে এমন দিনে আটলান্টিক সিটির বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সাথে তাল মিলিয়ে রাস্তায় প্রচুর লোক দেখা যেত।ভিনদেশীদের ভিড়ও বেশ নজর কাড়তো।বোর্ডওয়াকে অনেকেই বেড়াতে আসতেন,জগিং করতেন,বাইক চালাতেন।  কিন্ত আটলান্টিক সিটির প্রান ভোমরা ক্যাসিনোগুলো বন্ধ থাকায়  এই বছর এই শহর বড় নির্জন, খুব বেশি নিস্তব্ধ। তাই ফুল ফুটলেও করোনার কারনে এ শহরে এখনও বসন্ত এল না।এই ব্যাপারটি অনেককে পীড়া দেয়, কারো কারো কন্ঠে ঝরে পড়ে আক্ষেপ।প্রবাসের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী শীলা আজিজ বলেন, বিগত বছরগুলোতে বসন্তের প্রতীক্ষায় থাকতাম শীতের জীর্ণতা  কাটিয়ে প্রকৃতির  সাথে  তাল মিলিয়ে কখন পেখম মেলবো । আর এবছর সম্পূর্ণ  ভিন্ন অবস্হা।বসন্তের সাথে তাল মেলাতে পেখম মেলা দূরের কথা,করোনা আতংকে বাসায় কার্যত গৃহবন্দী।তারপরও বসন্ত বন্দনায় অবচেতন মনে গুনগুনিয়ে উঠি, ‘আহা আজি এ বসন্তে........’।

আটলান্টিক  সিটি হাই স্কুলের দ্বাদশ গ্রেডের কৃতী ছাএী তিলানজলী কর্মকার বলেন, প্রতিবছর স্কুলের বসন্তকালীন ছুটির অপেক্ষায় থাকতাম কখন স্কুল ছুটি হবে।ছুটিকালীন সময়ে পরিবারের  সবার সাথে বেড়াতে যেতাম,বন্ধু বান্ধবদের সাথে ঘুরে বেড়াতাম।কিন্ত এবার বসন্তকালীন ছুটিটা এসেছে করোনার অভিশাপ নিয়ে,তাইতো আক্ষেপ আছেই।তারপরও ঈশ্বর এর কাছে প্রার্থনা করি করোনার অভিশাপ থেকে পৃথিবীর সবাই যেন তাড়াতাড়ি মুক্ত হয়।

আটলান্টিক সিটির প্রবীন কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব সাব্বির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, প্রকৃতির নিয়মে এখানে বসন্ত এসে গেছে।অন্যান্য বছরগুলোতে বসন্ত এলে আমরা শীতের জীর্ণতা থেকে বেরিয়ে এসে সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মেতে উঠতাম।কিন্ত এবছর করোনা আতংকে সবাই গৃহবন্দী,অজানা শংকা তাড়া করছে সবাইকে। এই শহরে আমার দীর্ঘদিনের বসবাস, এমন মৃত্যুপুরী আগে দেখিনি কখনো। আল্লাহর কাছে আমি প্রতিনিয়ত দোয়া করছি এই করোনা আতংক থেকে তিনি যেন বিশ্ববাসীকে তাড়াতাড়ি মুক্ত করেন।আমরাও যেন বসন্তের নতুন পএ পল্লবের মতো আগের মতো নিজেদেরকে বিকশিত করতে পারি।

        করোনা ভাইরাস এর ভয়াবহ  দুর্যোগ কাটিয়ে নতুন দিনের ভোরের অপেক্ষায় আছে আটলান্টিক  সিটির প্রবাসী বাংলাদেশীরা সহ সবাই।  যার যার সৃষ্টিকর্তার  কাছে সবাই প্রার্থনা  করছেন করোনা রোগমুক্ত একটি নতুন সূর্যোদয়ের জন্য, যে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে করোনা রোগ,শোক মুছে  যাবে জীবনের ক্যানভাস থেকে,অনেকের মনের ভিতর ঘুরপাক খেতে থাকা প্রশ্ন ‘বসন্ত এসে গেছে, করোনা যাবে কবে?’ এর জবাব পেয়ে যাবে। 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ