ক্ষমা করে দিয়েন

March 30, 2020, 12:31 PM, Hits: 255

ক্ষমা করে দিয়েন

খান শওকত, হ-বাংলা নিউজ : মনটা ভালো নেই। খুব কান্না পাচ্ছে। কেন জানি বলতে ইচ্ছে করছে: কম খরচে যুদ্ধজয়ের মরনঘাতি মারনাস্ত্রের নাম করোনা ভাইরাস। ঘর বাড়ি সব অক্ষত থাকবে, শুধু মানুষ মরে শেষ হয়ে যাবে।

করোনা ভাইরাসটি অন্যসব ভাইরাস থেকে ১০ গুন বেশী ভারী। তাই উড়ে চলে যাচ্ছেনা। মাটিতে পড়ে থাকছে। পুকুরে বা নদীতে থাকছে, মাছেরা খাচ্ছে, ফসলের সাথে মিশে যাচ্ছে, ফল মুলের সাথে মিশে যাচ্ছে। আবারো তা ফিরে আসবে আমাদের শরীরে। হয়ত একটি সময় থেমে যাবে করোনা ভাইরাসের এই ভয়াবহতা। কিন্তু এই বিষাক্ত জৈবজীবানুর জন্য অনেকদিন পর্যন্ত সবজী, ফল, মাছ, গবাদীপশু, বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা ভোগ করবে মানব জাতি।

আরেকটি সংবাদে হতাশাই বেড়ে গেলো। সুস্থ্য হয়ে আবারও করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন চীনের অনেক মানুষ। অর্থাৎ একই অবস্থা ঘটবে সারা পৃথিবীতে। মরন ছাড়া কোন পথ নেই এ মানবজাতির। বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্থা বারবার সাবধান করেছিলো জৈব রাসায়নিক মারনাস্ত্র তৈরী করলে তা বিশ্বব্যাপী মহামারিতে রুপ নেবে।

আমেরিকার বিখ্যাত গবেষক ফ্রান্সিস বয়েল এক সাক্ষাতকারে দাবী করেছেন, করোনা ভাইরাস হচ্ছে জৈব মারনাস্ত্র! চীনারা তাদের ইউহান BSL-4 ল্যাবে এই ভাইরাসটা তৈরীর সময় দূর্ঘটনা বশত: তা ছড়িয়ে পড়ে।

বিভিন্ন তথ্য প্রমান দেখে মনে হচ্ছে, করোনা ভাইরাস চীনের পূর্ব পরিকল্পিত আবিস্কার। প্রথমে নিজের দেশের শুধু বিশেষ একটা এলাকার কিছু দরীদ্র লোক কমিয়েছে। সরকারি হিসেবে প্রায় ৪ হাজার। এরা সব সাধারন মানুষ। এরপর সারা পৃথিবীতে তারা ভাইরাসটি ছড়িয়ে দিয়েছে। এখন দুই শতাধিক দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা পঙ্গু করছে। এরপর নিজের দেশে আগে থেকেই যেসব ভ্যাকসিন তৈরী করা আছে ঐগুলো বিশ্বব্যাপী এক্সপোর্ট করে মানি মেক করবে, এবং নিজেকে ১০০% স্বয়ং সম্পূর্ন করে পুরো বিশ্বকে নিয়ন্ত্রন করবে। হয়ে যাবে বিশ্ব মোড়ল। এই অভিযোগে সবাই চীনের দিকে আঙ্গুল তুলছে। ওদিকে চীন বলছে অন্য দেশের নাম। কাজটা যেইই করুক না কেন, এমন অপ: রণকৌশলের মরন খেলায় এ পৃথিবীটা বসবাসের অযোগ্য হবার দ্বারপ্রান্তে।

চীনের উহান থেকে উৎপন্ন হওয়া ভাইরাস পৌঁছে গেল পুরো বিশ্বে, কিন্তু বেজিং ও সাংহাই এ তা প্রবেশ করতে পারলো না! অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কানাডার প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী এবং ব্রিটেনের যুবরাজ চার্লসসহ বিশ্বের বড় বড় নেতা, এমনকি হলিউড তারকারাও করোনা দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। জার্মানে করোনার প্রকোপে দেশের অর্থনীতির দুশ্চিন্তায় মন্ত্রী থমাস শেফার আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত চীনের কোন নেতা বা কোনো সামরিক কমান্ডারকেও স্পর্শ করেনি করোনা ভাইরাস! কেন?

করোনা বিশ্ব অর্থনীতিকে ইতিমধ্যে ধ্বংস করে দিয়েছে, হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ এই রোগে ভুগছে এবং কোটি কোটি মানুষ ঘরে বন্দি হয়ে পড়েছে, অনেক দেশ লক ডাউন হয়ে গেছে। ঘোর আতংকে কাটছে সারা বিশ্বের প্রতিটি প্রহর। কিন্তু চীন?

করোনার ভাইরাসটি চীনের উহান শহর থেকে উৎপন্ন হয়েছিল, এবং এখন বিশ্বের প্রতিটি কোণে পৌঁছেছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় ভাইরাসটি চীনের রাজধানী বেইজিং এবং অর্থনৈতিক রাজধানী সাংহাইয়ে পৌঁছায়নি। অথচ শহরগুলির মধ্যে খুব একটা দূরত্ব নেই। যেমন, দুরত্বের হিসাবটি করলে যা পাওয়া যায়: উহান থেকে সাংহাই = ৮৩৯ কি: মি:, উহান থেকে বেজিং = ১১৫২ কি: মি:, উহান থেকে মিলান = ১৫০০০ কি: মি:, উহান থেকে নিউইয়র্ক = ১৫০০০ কি: মি:, উহান থেকে ইটালি = ৮৬৯৫ কি: মি:, উহান থেকে ভারত = ৩৬৯৫ কি: মি:, আর উহান থেকে ইরাণ = ৫৬৬৭ কি:, মি:। বহুদূরের দেশগুলোতে করোনা পৌছে গেল খুব অনায়াসে। অথচ চীনের বেইজিং বা সাংহাইয়ে পৌছালোনা। কারন কি?

বেইজিং এমন এক শহর যেখানে চীনের সমস্ত বড় বড় নেতা বসবাস করেন, সামরিক নেতারা বসবাস করেন, যারা চীনের শক্তি তারা এখানে বাস করেন। বেইজিংয়ে কোনও লক ডাউন নেই, এখানে সব খোলা রয়েছে, করোনার কোনও প্রভাব নেই। আর সাংহাই হল সেই শহর যা চীনের অর্থনীতি পরিচালনা করে। এটি চীনের অর্থনৈতিক রাজধানী। এখানে চীনের সমস্ত ধনী ব্যক্তি বাস করে। এখানে কোনও লক ডাউন নেই, এখানে করোনার কোনও প্রভাব নেই। করোনা পুরো বিশ্বে পৌঁছে গেলেও বেজিং ও সাংহাই পৌঁছাতে পারলোনা।

পুরো বিষয়টি বিশ্লেষন করলে কি পাওয়া যায়? কারো না কারো অপ: রণকৌশলের মরন খেলায় এ পৃথিবীটা আজ মহাবিপদে আছে। তাইনা? এজন্যেই বুকভরা কষ্টে আজ কেন জানি বলতে ইচ্ছে করছে: এ সুন্দর পৃথিবীটা আমরাই ধ্বংস করে ফেললাম।

শোনা যাচ্ছে, চীনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মামলা করবে ৮৫টি দেশ। বর্তমানে ২০০ টির বেশি দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে। করোনা বাদুর কিংবা খাদ্যঅভ্যাস থেকে ছড়ায়নি, এটা চীনের জৈব রাসায়নিক অস্ত্র। বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং বিশ্বব্যাপী গনহত্যা। জৈব রাসায়নিক অস্ত্রের নেতিবাচক ব্যাবহার হিসাবে চীনের বিরুদ্ধে মোট ৮৫টি দেশ মামলা করার ঘোষনা দিয়েছে। (সূত্র: রয়টার্স)।

চীন চাচ্ছে আগামী ২০৩০ সাল থেকে সারাবিশ্বে তারা নেতৃত্ব দেবে। সেজন্যই তারা জৈব রাসায়নিক অস্ত্র হিসাবে বিভিন্ন ভাইরাসের চাষ করে আসছিলো তাদের ল্যাবে। করোনা তার ভিতরে অন্যতম। চীন করোনা ভাইরাসের ধংসলীলার পরিক্ষা নিলো এবং পরিপূর্ণ ভাবে সফল হল। একমাত্র উত্তর কোরিয়া ছাড়া কোনো দেশই চীনদের ষড়যন্ত্র বুঝতে পারলো না। উত্তর কোরিয়া আক্রন্ত ১১জনকে গুলি করে হত্যা করে দেশ করোনা মুক্ত রাখছে, এবং বিশেষ গবেষনা করে জানতে পারলো এটা খাদ্যাভ্যাসের কারনে হয়নি, তাই কিম জং উন প্রথমেই চীনের বিরুদ্ধে মামলার ঘোষনা দিয়েছে। এরপর ৮৪টি দেশ তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে।

একটু অবাক হবেন এটা জানলে যে একের পর এক বিদেশী মিডিয়া ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউ ইয়র্ক টাইমস, দা গার্ডিয়ান সহ আরো অনেক দেশের মিডিয়াকে দেশ থেকে বেড় করে দিচ্ছে যাতে তারা চীনের কোনো খবরই না করতে পারে। অন্যদিকে ইতালি, ব্রিটেন, ফ্রান্স, আমেরিকা, ইরান ক্রমশঃ ভয়াবহ স্টেজে পৌঁছাচ্ছে। আমেরিকা, ইউরোপের স্টক মার্কেট ও ক্র্যাশ করে গেছে। বিশ্ব জুড়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। পুরো যেন সিনেমার মতো সাজানো। সন্দেহ জাগে সবটা সত্যি সাজানো নয় তো? নিজের ঘর কিছুটা পুড়িয়ে বিশ্ব কে জ্বালিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত নয় তো?? বিশ্বকে ভয়ানক বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে নিজে অধীশ্বর হবার চক্রান্ত নয় তো?

শুনেছিলাম লংকা পোড়াতে গিয়ে হনুমান নিজের ল্যাজে আগুন লাগিয়ে ছিলো। উহান হনুমানের ল্যাজের মতো ব্যবহার হলো না তো? যদি সত্যিই বিশ্বের অধীশ্বর হবার জন্য এই ভাইরাসকে চীন হাতিয়ার করে থাকে তাহলে অবাক হবার কিছু থাকবে না। সত্যিটা হয়তো খুব তাড়াতাড়ি বেরোবে, কিন্তু তখন বিশ্বের মেরুদন্ড থাকবেতো চীনের সামনে দাঁড়ানোর জন্য? এখনই উচিত গোটা বিশ্বের এক হওয়া, চীনকে বিশ্ব জুড়ে বয়কট করা। বিশ্বের সমস্ত দেশের আর্থিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ উসুল করার জন্য চীন কে অর্থনৈতিক অবরোধ এর আওতায় আনা। আমার বিশ্বাস জাতিসংঘের আসন্ন ৭৫তম সাধারন অধিবেশনের মুল আলোচ্য বিষয় হবে করোনা ভাইরাস। কিন্তু তাতে হবেই বা কি?

আমি নিউইয়র্কে থাকি গত ৩০ বছর। এমন বিপদজনক অবস্থা এখানে কখনোই দেখিনি। এখন যেন এ শহর এক মৃত্যু উপত্যাকা! প্রতি ঘন্টায় এখানে ৫ জন করে মারা যাচ্ছেন মরনঘাতী করোনায়। নিউইয়র্কের ৮০% মানুষ মে মাসের শেষ নাগাদ করোনায় আক্রান্ত হবে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ হুশিয়ারি করেছে। আশেপাসের প্রিয় মুখগুলো চলে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে মৃত্যু বুঝি দরজায় দাঁড়িয়ে। এই বুঝি উঠলো বলে, এসে গেছি চলো যাই।

অনেক স্বপ্ন অপুরন রয়ে গেল। ৩০টা বছর প্রবাসে পার করলাম পরিবার পরিজনের জন্য। শীঘ্রই বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ করার ইচ্ছা ছিলো। তা মনে হয় আর হলোনা। জানিনা আর দেখা হবে কিনা। কাউকে কোন কষ্ট দিয়ে থাকলে আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন।

জাতিসংঘের একটি আন্তঃসংস্থা নথিতে বলা হয়: করোনাভাইরাসের বিস্তার প্রশমন ও অবদমনে জরুরী পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে “৫ লাখ থেকে ২০ লাখ” মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

জন্ম হয়েছে যখন মরতেতো হবেই। এজন্য ভয় কিসের? কথা হলো, করোনা ভাইরাসে মৃতদের লাশ দাফন নিয়ে সমস্যা অনেক। স্বাস্থ্যবিধিতে হাত দিয়ে লাশ ধরার নিয়ম নেই। করোনা 'ছোঁয়াছুঁয়ি' রোগ হওয়ায় সেবাকর্মীরা সমাধিকর্মে অনাগ্রহী। সন্তান তার বাবার মৃতদেহ দেখবে না, কোন বাবা তার সন্তানের মৃতদেহ ছুঁতে পারবে না, চরম কষ্টের। এমন মৃত্যু কারোরই কাম্য নয়। তবুও বাস্তবতাকে মেনে নিতেই হবে।

আপনারা সবাই সাবধানে থাকুন আর মহান শ্রষ্টাকে ডাকুন। তিনিই শেষ ভরসা। হে আল্লাহ তুমি আমাদের সন্তানদের হেফাজতে রাখো। সারা দুনিয়ার মাসুম বাচ্চাদের হেফাজতে রাখো। আমিন ।

“হে খোদা দয়াময় রহমানুর রাহিম, হে বিরাট হে মহান হে অনন্ত অসীম!” 

 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ