আমি করোনা বলছি

May 1, 2020, 12:35 PM, Hits: 786

আমি করোনা বলছি

সামছুদ্দীন মাহমুদ, হ-বাংলা নিউজ, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে : শিরোনাম দেখে চমকে উঠলেও, হ্যা আমি করোনাই বলছি। আজ পৃথিবীর ৮ বিলিয়ন লোক আমার ভয়ে ভীত। আমার নাম শুনলে সবার গা শিউরে উঠে। প্রতিদিন লাখো কোটি গালি আমাকে হজম করতে হচেছ। আমার থেকে রক্ষা পাওযার জন্য মাস্ক থেকে শুরু করে যত প্রকারের জীবুণুনাষক এবং কোন প্রতিরোধক  বা প্রতিষেধক ব্যবস্থা নাই মানুষ ব্যবহার করছেনা। আমাকে মারার জন্য এমন কোন প্রচেষ্টা নাই মানুষ করছেনা। হয়ত একদিন আমাকে দুনিয়া থেকে খতম করার মারনাস্ত্র ও মানুষ আবিষ্কার করতে সক্ষম হবে। কিন্তু ততদিনে আমি মানুষ জাতির যে উপকার গুলি করে গেলাম তার একটা বিবরণ দিয়ে যাই। যাতে আমি মরে গেলেও মানুষ আমাকে স্মরণ করে এবং একদিন  বিশ্বব্রম্মান্ড আবারোও আমার অপেক্ষায় থাকবে। আমি আবারো  এখানে ফিরে আসবো নতুন কোনে নামে, নতুন কোন অবয়বে। তার আগে আমি বলে যেতে চাই আমি কেন এ পৃথিবীতে এলাম, কিভাবে এলাম এবং কি করে গেলাম এ পৃথিবীর জন্য। 

অনেকে মনে করছে আমার জন্ম ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে একটি মাছের বাজারে। কিন্তু আমি নিঃসংকোচে বলতে চাই, এ ধারনাটি একে বারে ভুল। আমার প্রকৃত জন্ম ১৯৬০ সালে মুরগীর মধ্যে ব্রঙ্কাইটিস ভাইরাস নামে আমি প্রথম আসি।  মানব শরীরে আমি প্রথম 

সর্দি-হাঁচি-কাশিতে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে প্রবেশ করি। মানুষের মধ্যে পাওয়া ভাইরাস দুটি ‘মনুষ্য করোনাভাইরাস ২২৯ই’ এবং ‘মনুষ্য করোনাভাইরাস ওসি৪৩’ নামে নামকরণ করা হয়।এরপর থেকে বিভিন্ন সময় আমি আরো বেশ কিছু প্রজাতির মধ্যে অনুপ্রবেশ করি এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০০৩ সালে ‘এসএআরএস-সিওভি’, ২০০৪ সালে ‘এইচসিওভি এনএল৬৩’, ২০০৫ সালে ‘এইচকেইউ১’, ২০১২ সালে ‘এমইআরএস-সিওভি’ এবং সর্বশেষ ২০১৯ সাল চীনে এসএআরএস-সিওভি-২’ (যা বর্তমানে সাধারণত নোভেল করোনাভাইরাস নামেই পরিচিত। দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আমাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ‘২০১৯-এনসিওভি’ নামকরণ করে।

তাই কেউ যদি মনে করে হঠাৎ আমার আগমন এ পৃথিবীতে তাহলে তাদের সে ধারনা ভুল। আমার বয়স ৬০ বছর। অনেক লম্বা সময় আমি মানুষকে দিয়েছি । তারা চাইলে আমাকে বিনাশ করতে পারত কিন্তু তারা আমাকে তা করেনি , আমাকে নিয়ে খেলেছে। আমাকে মারনাস্ত্র হিসাবে এক জাতি, আরেক জাতিকে এক দেশ, আরেক দেশকে ব্যবহার করতে চেয়েছে। 

আমি কিন্তু তা  চাইনি, আমি চেয়েছি সমতা। আমি চেয়েছি বিশ্ব ব্রম্মান্ডে সকল প্রানির জন্য সমান অধিকার। আমি চেয়েছি শ্রষ্টা এ বিশ্ব ব্রম্মান্ড কেবল মানুষ জাতির জন্য সৃষ্টি করেনি। লক্ষ লক্ষ প্রানি- জাতকুলের মধ্যে আমার মত একটি অনুজীবকে পাঠিয়েছেন। এ বিশ্বে সকল প্রানীর বেচে থাকার অধিকার রয়েছে। সকলের নিজ নিজ গন্ডির মধ্যে থেকে কার্যক্রম পরিচালনার অধিকার রয়েছে। কিন্তু শ্রষ্ঠার এ পৃথিবীতে মানুষ সকলের অধিকার বিলুপ্ত করেছে তাদের সুবিধার জন্য। এমনকি আমার মত অনুজীবকে ব্যবহার করতে চেয়েছে তাদের সুবিধার জন্য। 

আমাকে হয়ত প্রশ্ন করতে পারো তোমরা, তুমি কি দিলে আমাদের জন্য সবই তো নিয়ে গেলে। নিয়ে গেলে লক্ষ লক্ষ লোকের জীবন। আরো লাখ লাখ পরিবারকে করেছো নিঃস্ব। মানুষের এতদিনের প্রতাপ প্রতিপত্তি ভেংগে চুরমার করেছো। মানুষ বানিয়েছে চা‍দে আর মঙ্গল গ্রহের যাবার যান। বানিয়েছে হাইড্রোজেন বোমার মতো ভয়ঙ্কর মারনাস্ত্র । কিন্তু  আমার মত একটি অনুজীবের যাকে খুজতে হলে মাইক্রোস্কোপ লাগে তার টিটির লাগালও পাচেছ না। আমি তো মানুষের ক্ষমতাকেই চ্যালেঞ্জ করছি। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। তাহলে এটা কি মানুষের ক্ষমতার প্রতি চ্যালেঞ্জ নয়? বলতে পারো তুমি কি কেড়ে নাওনি মানুষের চোখের ঘুম, কেড়ে নাওনি লাখো পরিবারের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান। তুমি কি কেড়ে নাওনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। তুমি কি কেড়ে নাওনি লাখো পরিবারের স্বপ্নকে।  তুমি কি লক্ষ লক্ষ লোককে বেকার করোনি? তুমি কি মানুষের স্বাধীন চলাচলে একটি লোহার বেষ্টণি দাওনি।  তুমি কি কেড়ে নাওনি ক্ষমতাশালী দেশগুলির সকল ক্ষমতার দম্ভকে। তুমি কি একটি মুতির্মান আতঙ্ক হওনি?

সবই সত্যি সবই মানছি আমি।  আমার বিরুদ্ধে এসকল অভিযোগ সত্যি। আমি মানছি আমি এসব করেছি। প্রায় ২ লক্ষ লোকের প্রাণ নিয়েছি। আরো হয়ত অনেকের অনেকের নিব। কিন্তু আমি যা করেছি তা তোমরা স্বীকার করছোনা কেনো?

বলতে পারো আমার ভয়ে গত চারমাসে আরো ৫ লক্ষ লোকের জীবন বাছিয়েছো তোমরা। অহেতুক ও বেপরোয়া গাড়ী চলাচলে আরো লাখ খানেক লোকের প্রান যেতে পারত। তা আমার কারনে হয়নি। বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের যে দামামা তাতে আরো ৫ লক্ষ লোকের প্রান হানি হতে পারতো। বিশ্বব্যাপী খুন, ধর্ষন, রাহাজানী সহ বিভিন্ন অপকর্মে আরো যে লক্ষ লোকের প্রাণহানি হতে পারতো ।  বলতে পারো তা কি কমেনি? মানুষ যেভাবে বায়ু দুষণ, পানিদুষন, পরিবেশ দুষন মারাত্মক ভাবে শুরু করেছিল, তাতে কেবল মানুষের নয়, হাজার হাজার জীব বৈচিত্রের স্বাভাবিক জীবন প্রবাহের গতি কি থমকে দাড়ায়নি? গত চারমাসে তা কি কমেনি? বিশ্ব কি আবারো সকলের বসবাসের উপযোগ্য হয়ে উঠেনি? 

হয়ত একদিন তোমরা আমাকে ধ্বংশ করার কোন অস্ত্রও আবিস্কার করবে। ততদিনে আমি তোমাদের দিয়ে গেলাম এক হিংসা বিদ্বেষ মুক্ত নতুন এক বিশ্ব, যেখানে সকল প্রাণীই সমানভাবে বসবাস করবে। কারো দিকে আর কারো কোন মারোনান্ত্র প্রদর্শন করবেনা।  এক বিশ্ব, এক জাতি, এক গোত্র সর্ব্বোপরি একই পরিবার হয়ে সকলে বসবাস করবে। 

কিন্তু তোমরা যদি এ সব ভুলে গিয়ে আবারো আগের অবস্থানে ফিরে যাও, তখন আমি করোনা কথা দিচ্ছি “আমি আবার আসিব ফিরে নতুন কোন অবয়বে, নতুন কোন নামে” তোমাদেরই মাঝে।  

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ