রেমডেসিভির ব্যবহারকারী চিকিৎসকের মতামত

May 8, 2020, 3:25 PM, Hits: 141

রেমডেসিভির ব্যবহারকারী চিকিৎসকের মতামত

হ-বাংলা নিউজ : ফ্লোরিডার মেমোরিয়াল হেলথ কেয়ার সিস্টেমের প্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. আবদুর রহমান বেগ বলেছেন, রেমডেসিভির একটি ভাইরাসপ্রতিরোধী ওষুধ। এই ওষুধ প্রয়োগে ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি রোধ করা যায়। ২০১৬ সালে ইবোলা এবং ২০১৭ সালে সার্স কোভিড টু ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সাফল্যের পর করোনা প্রতিরোধেও সফলতা মিলছে । গত মঙ্গলবার এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে ডা. আবদুর রহমান বেগ এসব কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) গত ২৯ এপ্রিল করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় রেমডেসিভির ওষুধটি পরীক্ষামূলক জরুরি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এর আগে অবশ্য ফ্লোরিডার হলিউড মেমোরিয়াল হেলথ কেয়ার সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি হাসপাতালের একটি মেমোরিয়াল রিজওনাল হসপিটালের ডাক্তাররা রেমডেসিভির দিয়ে কোভিড-১৯ আক্রান্ত এক রোগীর চিকিৎসায় সফলতা পেয়েছেন।

ডা. বেগ কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ হওয়ায় ওই রোগীকে সরাসরি চিকিৎসা দিয়েছেন। ফলে রেমডেসিভির ব্যবহার এবং ওই রোগী নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন তিনি। তিনি জানান রেমডেসিভির ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাঁদের হসপিটালের ছিল এক্সপ্যান্ডেড অ্যাকসেস প্রোটোকল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা ইএপি।

প্রসঙ্গক্রমে ডা. বেগ বলেন, বেনজামিন ব্রুমফিল্ড নামের ৬৬ বয়সী ওই ব্যক্তি ১ এপ্রিল ভর্তি হন। করোনা সংক্রমণ ছাড়াও তাঁর নানা ধরনের জটিলতা ছিল। প্রাথমিকভাবে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন দেওয়া হলে তাঁর অবস্থার অবনতি হয়। পরে অবশ্য চিকিৎসকেরা রেমডেসিভির ব্যবহার করে কাঙ্ক্ষিত ফল পান।

কিডনি সমস্যা থাকায় তিনি ওই রোগীকে চিকিৎসা দেন। তবে তাঁর কিডনির কার্যকারিতা ৩০ শতাংশের ওপরে ছিল বলেই তাঁকে রেমডেসিভির দেওয়া হয়। না হলে তা সম্ভব হতো না বলে জানান আবদুর রহমান।

এই প্রসঙ্গের রেশ ধরেই আবদুর রহমান স্পষ্ট করেছেন যে করোনা আক্রান্ত হলেই এই ওষুধ দেওয়া যাবে না। এটা প্রযোজ্য মুমূর্ষু রোগীর ক্ষেত্রে। অর্থাৎ ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৪ শতাংশের নিচে নেমে গেলে, অক্সিজেন দিতে হয়, কিংবা একমো বা ভেন্টিলেশন-নির্ভর হলে, সেই রোগীকেই এই ওষুধ দেওয়া যাবে।

ডা. বেগের অভিমত, এই ওষুধ শিরার মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। ফলে এই ধরনের ইন্ট্রাভেনাস ওষুধের ক্ষেত্রে যেমন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে, এ ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। এ ছাড়া লিভারের ট্রান্সমিনেজ এলিভেশন হতে পারে। তাই লিভার ফাংশন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি। এর বাইরে বিস্তারিত কিছু এখনো জানা যাচ্ছে না। অবশ্য, এই ওষুধ যত বেশি ব্যবহার হবে, তত এর সম্পর্কে সম্যক অবহিত হওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে, রেমডেসিভির চিকিৎসকদের আশাবাদী করে তুলছে। সামনে আরও কার্যকর কিছু আসবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে এর আগ পর্যন্ত এবং অবশ্যই প্রতিষেধক আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত আবদুর রহমান আশা করছেন রেমডেসিভির হয়ে উঠতে পারে করোনা চিকিৎসায় কার্যকর ব্যবস্থা। 

 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ