জিয়াউর রহমানঃ মানুষের অন্তরে তিনি আজো বেঁচে আছেন

May 28, 2020, 11:57 AM, Hits: 237

জিয়াউর রহমানঃ মানুষের অন্তরে তিনি আজো বেঁচে আছেন

আব্দুল কাইয়ুম, হ-বাংলা নিউজ : শহীদ জিয়া একটি বৈপ্লবিক চেতনার নাম। জিয়া একটি ইতিহাস।জিয়া একটি প্রতিষ্টান।জিয়া একটি রাজনৈতিক দর্শন। জিয়াউর রহমানের সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দেশপ্রেম ছিল অতুলনীয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জিয়াউর রহমান একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে স্বীকৃত। আমৃত্যু যুদ্ধ করেছেন ক্ষুধা, দারিদ্র্য, শ্রেণীবৈষম্য ও নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে। জাতিকে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখিয়েছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট জিয়া খালকাটা কর্মসূচি, সবুজ বিপ্লব, শিল্প উন্নয়ন এবং যুগোপযোগী ও আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে স্বনির্ভর বাংলাদেশের ভিত রচনা করেন। মহান প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের ইতিহাস অন্যরকম হতো। 

বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার হীন উদ্দেশ্যেই জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছিল। এই ক্ষণজন্মা সিংহ পুরুষ দেশপ্রেম, যোগ্যতা, দক্ষতা এবং মহৎ কর্মের কারণে অল্প সময়েই জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করেছিলেন। আজো আছেন মানুষের অন্তরে। দেশকে ভালোবেসেছিলেন হৃদয় উজাড় করে। তিনি জাতিকে একটি আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদাবান জাতি হিসেবে গড়ে তোলার প্রাণপণ চেষ্টা শুরু করেছিলেন। কিন্তু ১৯৮১ সালের ৩০ মে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশকে চিরদিনের জন্য দুর্বল ও পঙ্গু করে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছিল।

মাত্র পাঁচ বছর বা তার একটু বেশি সময় তিনি রাষ্ট্র সংস্কার কিংবা রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলেন। এই অল্প সময়ে তিনি যুগান্তকারী  বড় বড় কাজ করে গেছেন। জাতীয় জীবনের প্রতিটি অঙ্গনে, প্রতিটি বিষয়ে বড় রকমের একটা ঝাঁকুনি দিয়ে গেছেন। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, কৃষি,শিল্প, শিক্ষা, সংস্কৃতি,ক্রীড়া, নারী ও শিশু সবকিছুতেই একটা বিপ্লব ঘটিয়ে গেছেন। গোটা জাতিকে তিনি একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন। তাঁর সততা,দেশপ্রেম, কর্তব্যনিষ্ঠার কারণে এতসব যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। জাতির বর্তমান ক্রান্তিকালে জিয়াউর রহমানের মতো একজন কালজয়ী বহুদলীয় গণতন্ত্রের কাণ্ডারির খুব বেশি প্রয়োজন। 

বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী নেতা নেত্রী কিংবা সরকার প্রধান অথবা রাষ্ট্র প্রধান জীবিত থাকাকালে কোন কোন স্বার্থান্বেষী মহল কিংবা সুবিধাবাদীরা তাদের স্বার্থ হাসিলের কারণে প্রশংসার নামে চাটুকারিতা করে থাকে। কেউ কেউ হয়ত  প্রভাবশালী ওই নেতা নেত্রীকে ভয়ে সমর্থন দিতেও পারে। বলতে দ্বিধা নেই আজকাল নেতারাও চাটুকারদেরকেই গুরুত্ব দিয়ে থাকেন, আপন লোক ভাবেন। এসব কারণে ওইসব নেতাদের জনপ্রিয়তার সঠিক ধারণা পাওয়া কঠিন। কিন্তু কোন মানুষ মারা যাওয়ার পরে তার সম্পর্কে অন্য মানুষের ধারণা, প্রতিক্রিয়া কিংবা মূল্যায়ন বিবেচনা করলে ওই মারা যাওয়া  ব্যক্তির জনপ্রিয়তার পরিমাপ পাওয়া যায়।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম মারা যাওয়ার পর তাঁর জানাযায় যেভাবে মানুষের ঢল নেমেছিল এবং তাঁকে নিয়ে দেশ - বিদেশের মানুষ এবং মিডিয়া যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল তাতে এযাবতকালে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় মানুষ, জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট বলা যায়, তাতে কোন সন্দেহ নেই। অনেকেই বলে থাকেন এই ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়কের মৃত্যুতে বিশ্বের ইতিহাসে বৃহত্তম শবযাত্রা হয়েছিল। শুধু ঢাকার রাস্তায় ৩৫ লক্ষাধিক মানুষের ঢল নেমেছিল।

১ জুন বিকেলে বিমান বাহিনীর একটি বিমানে চট্টগ্রাম থেকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ ঢাকায় আনা হয়। এসময় শহর জুড়ে এক বেদনাঘন শোকার্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাঁর মৃতদেহ একনজর দেখার জন্য শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। মহিলা,গৃহিণী এমনকি শিশুরা পর্যন্ত জিয়াউর রহমানের লাশ একনজর দেখার জন্য ভিড় জমায়। ২ জুন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এসব খবর ওই সময়ের  দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা, দৈনিক আজাদসহ বিভিন্ন পত্রিকা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে। একই সঙ্গে পত্রিকাগুলো স্বাধীনতা সংগ্রামে জিয়াউর রহমানের অসামান্য অবদান, একটি নৈরাজ্যকর অবস্থা থেকে রাষ্ট্রের স্থিতিশীল অবস্থা ফিরিয়ে আনা, একদলীয় বাকশালের পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্টা,দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জিয়াউর রহমানের সাফল্য ইত্যাদি উল্লেখ করে সম্পাদকীয় প্রকাশ করে। ২ জুন দৈনিক আজাদ পত্রিকায় খবরের শিরোনাম ছিল, ' একটি  কফিনের পাশে বাংলাদেশ।' আর দৈনিক ইত্তেফাক ঐদিন ' ঢাকায় প্রেসিডেন্ট জিয়ার মৃতদেহঃ অগণিত মানুষের শ্রদ্ধাঞ্জলি ' এবং 'রাঙ্গুনিয়া পাহাড়ের পাদদেশে জিয়ার লাশ চাপা দেওয়া হয়' শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে। ৩ জুন দৈনিক আজাদ পত্রিকার প্রধান খবরের শিরোনাম ছিল ' এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ, মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান।'

নির্মম হত্যাকান্ডের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান পৃথিবী নামক গ্রহ থেকে বিদায় নিলেও তাঁর জনপ্রিয়তা এতটুকু কমেনি। মহৎ কর্মের কারণেই মানুষের অন্তরে তিনি আজো বেঁচে আছেন।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অল্প সময়ে যা করে গেছেন তা এই জাতি কোনদিনই শোধ করতে পারবেনা। তিনি দেখিয়ে গেছেন একটা মানুষ ইচ্ছা করলেই দেশ ও জাতির জন্য অনেক ভালো কিছু করতে পারে। শুধু প্রয়োজন দেশপ্রেম, সততা, আদর্শ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল সঠিক নেতৃত্ব। 

 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ