কে বাংলাদেশের প্রথম জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ছিলেন?

May 29, 2020, 1:55 PM, Hits: 627

কে বাংলাদেশের প্রথম জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ছিলেন?

সামছুদ্দীন  মাহমুদ, হ-বাংলা নিউজ : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাহেবের অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে কিন্তু বর্তমানে কিছু লোক বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকার এখন তাকে যে পর্যায়ে নিয়ে গেছে তাতে মনে তো হয় বেশীদিন নেই তিনি জাতির পিতা থেকে জাতির হাসির খোরাকে পরিণত হবেন। যাহোক উনি শ্রদ্ধার ব্যক্তি তাকে নিয়ে বেশী কথা বলা ঠিক হবেনা। কিন্তু ইতিহাসকে সত্য পথে চলতে দিন। যার যা অবদান তা স্বীকার করুন দেখবেন বাংলাদেশে রাজনৈতিক কালচার, সহনশীলতা আবারো ফিরে আসছে। সমালোচনা সহ্য করার সাহস থাকতে হবে। ইতিহাসকে তার নিজস্ব পথে চলতে দিন তাহলেই ভবিষ্যতে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারবেন।  বাংলাদেশের জনগনের ভোটে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন তা নিয়ে বিতর্ক যেন থামতেই চায়না। কেউ বলছেন শেখ মুজিবুর রহমান আবার কেউ বলছেন জিয়াউর রহমান। আসলে ইতিহাসের প্রকৃত সত্য কি? 


এর জন্য আমাদের কিছুটা পিছনে ফিরে তাকাতে হবে। শুধু বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা না করে ইতিহাসকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে। “আমেরিকান স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ এশিয়া সংকট ১৯৭১” এই শিরোনামের একটি নথি । এটি পাকিস্তান ও বাংলাদেশ বিষয়ক তখনকার ২ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত  সকল কার্যক্রম এবং সকল গোপন তথ্যে উপাত্থ এ নথিতে উল্লেখ আছে। যা বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য অনেক গুরত্বপুর্ণ ।


১৯৭১ এর তৎকালীন রিচার্ড নিক্সনের শাসনামলের সকল কূটনৈতিক গোপন এ নথি প্রকাশ হলে দেখা যায়,  এতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধিনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। 


বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয় ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান নিজে স্বাধীনতা ঘোষনা করেন “ I, Major Ziaur Rahman, Provincial Head of the government, do hereby declare that Independence of the People's Republic of Bangladesh. পরে অবশ্য তিনি তার ঘোষনার সংশোধন করে বলেছেন I, Major Ziaur Rahman, do hereby declare the Independence of Bangladesh in the name of our great leader Sheikh Mujibur Rahman.


যেহেতু এক অর্থে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান  দেশের সুপ্রীম নেতা ছিলেন তাই তার পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষনা দেন। একজন পাকিস্তান আর্মীর অফিসার হিসাবে এ ঘোষনাটি অনেক সাহসের ও বীরত্বের । কেন তা আমরা স্বীকার করছিনা ? শেখ  মুজিবর রহমান ছিলেন রাজনৈতিক নেতা, তার পক্ষে দেশের আপামর জনগন ছিল।  তার পক্ষে বিষয়টি যেমন সহজ ছিল, জিয়াউর রহমানের পক্ষে তা মোটেও সহজ ছিলনা। যে কোন সময় সামরিক আদালতে তার মৃত্যদণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। 

আমরা যদি জিয়ার প্রথম ঘোষনাটি ধরে নিই তাহলে আক্ষরিক অর্থে দেশের প্রথম প্রধান অবশ্যই জিয়াউর রহমান ছিলেন। যেহেতু অফিসিয়ালি ১০ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে কোন সরকার ছিলনা। তাই এটিকে একটি Ornamental (আক্ষরিক অর্থে) সরকার ধরে এর প্রধান হিসাবে জিয়াউর রহমানকে ধরে নিলে তাতে দোষের কিছু নাই। 

কিন্ত যেহেতেু কোন সরকার ছিলনা ,তাই কাউকে অফিসিয়াল প্রধান হিসাবে আমরা মানছি না। দেশের সরকার গননা করা হয় মুজিব নগর সরকার ঘোষনা করার পর থেকেই। 


মুজিবনগর সরকার কোন অবৈধ সরকার নয়। এটা একটা অন্তবর্তীকালীন সরকার। আর ১৯৭০ সালের নির্বাচন ছিল প্রাদেশিক পরিষষদ নির্বাচন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন না। এবং তা ছিল পাকিস্তান গনপরিষদ এবং পাকিস্তান সংবিধানের অধীনে এ কথাটি মনে রাখতে হবে। তার পরও এটাকে কোনভাবে একটি নির্বাচিত সরকার বলা যায়না। এর মেয়াদ ছিল এপ্রিল ১১, ১৯৭১  থেকে জানুয়ারি ১২, ১৯৭২ পর্যন্ত। এ সরকারের আলঙ্করিক প্রধান হিসাবে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু তার অবর্তমানে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি  হিসাবে মুজিব নগর সরকার পরিচালনা করেন।  এর পর বাংলাদেশ সরকারের অফিসিয়াল কার্যক্রম শুরু হয় মুলত জানুয়ারি ১২, ১৯৭২ সালে। পাকিস্তান আমলের গণপরিষদ সদস্যদের দারা নির্বাচিত এ সরকারের মেয়াদ ছিল ডিসেম্বর ২৪,  ১৯৭৩ পর্যন্ত । এ সময় পর্যন্ত আবু সাঈদ চৌধুরী ছিলেন রাষ্ট্রপতি। দেশের প্রথম সংসদ নির্বাচন হয় ৭ মার্চ ১৯৭৩। দেশে সংসদীয় পদ্ধতি থাকায় বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী হন রাষ্ট্রপতি নন। এবং রাষ্ট্রপতি হন মোহাম্মদউল্লাহ। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী ৪র্থ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থায় ফিরে গেলে শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি হন কিন্তু জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে নন। এর পর  ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে খন্দকার মোশতাক ক্ষমতা গ্রহন করলে এর ধারবাহিকতা বজায় থাকে  এবং ৬ নভেম্বর ১৯৭৫ যখন আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম  রাষ্ট্রপতি হন এবং তিনি এ পদে বহাল থাকেন এপ্রিল ২১ ১৯৭৭ পর্যন্ত । ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ সালে আবু সাদাত অসুস্থ অবস্থায় পদত্যাগ করলে জিয়াউর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব  গ্রহন করেন।   ৩ জুন ১৯৭৮ সালে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হলে ৭৭% জনগনের ম্যান্ডেড পেয়ে জিয়াউর রহমান দেশের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হন। উক্ত নির্বাচনে উপস্থিতির হার ৫৫% এর বেশী ছিল।  সুতরাং জিয়াউর রহমানই নিঃসন্দেহে দেশের প্রথম জনগনের ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। 


কে কিভাবে নির্বাচন করেছে বা হয়েছে তার ইতিহাস ঘাটলে কিন্তু অনেকের অন্ধকার দিকগুলি বের হয়ে আসবে। স্বাধীনতার আগে ও পরে কোন সরকারের আমলে স্বচ্ছ নির্বাচন হয়েছে তার ইতিহাস ঘাটলে অনেক কিছু বেরিয়ে আসবে। 

দেশের ইতিহাসে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। আওয়ামী লীগসহ মোট ১৪টি রাজনৈতিক দল ও সংগঠন এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এই নির্বাচনে প্রদত্ত বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮৮ লাখের বেশি। এটা ছিল মোট ভোটার সংখ্যার ৫৫.৬২%। ১২০ জন নির্দলীয় প্রার্থীসহ মোট ১০৭৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আওয়ামী লীগ ২৮৯টি আসনের মধ্যে ২৮২টি লাভ করে। অবশিষ্ট ৭টি আসনের মধ্যে জাসদ ১টি, জাতীয় লীগ ১টি এবং নির্দলীয় প্রার্থীগণ ৫টি আসন লাভ করেন। উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদে ৩০০টি আসনের মধ্যে ১১টি আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা ৭ মার্চ ভোট গ্রহণের পূর্বেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনের সবক’টিই আওয়ামী লীগ লাভ করে। এভাবে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে মোট ৩১৫টি আসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৩০৮টি আসন যায়। তবে ১৯৭৩ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত পাঁচটি উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুটি আসন হারায়।

স্বাধীন দেশে প্রথম সংসদীয় পদ্ধতির নির্বাচনেই ১৯৭৩ সালে ভোট কারচুপির নজির ব্যাপক প্রকৃতি লাভ করেছিল। তাতে এ দেশে গণতন্ত্রের বিকাশ শুরুতেই মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ জন্মের পরে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন যদি নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হতো, তাহলে এ দেশের গণতন্ত্রচর্চার ইতিহাসও অন্যরকম হতো। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মোকাবেলা করার মতো কোনো প্রার্থী না থাকা সত্ত্বেও দলটি নির্বাচনে অসদুপায়ে সর্বশক্তি নিয়োগ করে। কমপক্ষে ১৫টি নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ মারদাঙ্গা, এজেন্ট হাইজ্যাক ও ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায়। এ প্রবণতাই পরে নির্বাচনগুলোতে ঘটতে থাকে।

এই নির্বাচনের মূল্যায়ন করে প্রবীণ রাজনীতিবিদ অলি আহাদ তাঁর ‘জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫-৭৫’ শীর্ষক গ্রন্থে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। এতে তিনি ‘কলঙ্কময় অধ্যায় : ব্যক্তি শাসন প্রতিষ্ঠা’ শিরোনামে উল্লেখ করেন, ‘.... ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরিতাপের বিষয় নির্বাচন অবাধও হয় নাই; সুষ্ঠও হয় নাই। ১৯৭৩ সালের মার্চের এই সাধারণ নির্বাচনে প্রশাসনিক ক্ষমতার মারাত্মক অপব্যবহার হয়, চরম দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ ও দলীয় বাহিনীর যথেচ্ছ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ও ঢালাও হুমকির সহায়তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবর রহমান তিন শতটি আসনের মধ্যে দুই শত তিরানব্বইটি আসন দখল করেন। ইহা তাহার দ্বারা সাংবিধানিক গণতন্ত্র, নীতি ও আদর্শ তথা ঘোষিত রাষ্ট্রীয় আদর্শসমূহ লঙ্ঘনের জলন্ত উদাহরণ। ইহার ফলে সাংবিধানিক নিয়মতান্ত্রিক পথে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা সমন্ধে মারাত্মক সন্দেহের উদ্রেক হয়। বস্তুতঃ  প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মীদের সর্বগ্রাসী উৎকট ক্ষমতালোভ ও তজ্জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জঘন্য অপব্যবহারের মানসিকতা দেশ ও জাতিকে এক চরম বিপর্যয়ের মুখে নিক্ষেপ করে। এই সব পরিদৃষ্টে দেশী পত্রিকাগুলোতে তো বটেই ১৯৭১ সালে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে মরণপণ যুদ্ধকালীন অবস্থায় যেসব বিদেশী পত্র-পত্রিকা বাংলাদেশের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন ছিল, তাহারাও মুজিব সরকারের নিন্দা ও সমলোচনামুখর তথ্যপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করিতে থাকে। এবং এই সব শাসকগোষ্ঠীর নাভিশ্বাসের কারণ হয়।’

বাকী নির্বাচিনগুলির ইতিহাস না্ হয় আরেকদিন লিখব। তবে এ কথা  নির্দ্বিধায় বলা যেতে পারে বাংলাদেশের ইতিহাসে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনে হারার কোন ইতিহাস নাই কেবল তত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া। এ সত্যটি বুঝতে পেরে ২০০৮ সালে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে শেখ হাসিনা সরকার আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান তুলে দেয়। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন শুরু করে। যে আন্দোলন ১৯৯৩-’৯৬ সালে শেখ হাসিনা করেছিলেন। কিন্তু এই আন্দোলনের কাছে মাথানত না করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে শেখ হাসিনা সরকার। বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। এরশাদও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কৌশল নেন। নির্বাচনে অংশ নেয়ার উপকারিতা ও সাহস জোগাতে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং ঢাকা এসে সাবেক সেনাপ্রধান এরশাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। তিনি রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন হাসপাতালে ভর্তি করেন। অন্য দিকে জাতিসঙ্ঘের মধ্যস্থতায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ফর্মুলা নিয়ে আলোচনা হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে দলীয় সরকারের অধীনে এই নির্বাচনে ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে এরশাদও ছিলেন। তিনি হাসপাতাল থেকে সরাসরি এমপি হিসেবে শপথ নিতে সংসদ ভবনে যান। তার দল জাতীয় পার্টি হয় বিরোধী দল। কিন্তু তিনজন এমপি আবার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। সরকারে থেকে বিরোধী দলের এমন নজির গণতন্ত্রের ইতিহাসে বিরল। নির্বাচনে বাকি আসনে ৫ শতাংশের কম মানুষ ভোট প্রদান করে। 

এই সরকারের অধীনেই পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে ৩০ ডিসেম্বর  ২০১৮ একাদশ সংসদ নির্বাচন  হয়েছে।  নির্বাচনের আগেই শেখ হাসিনার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠান। খালেদা নির্বাচনে অংশ নেয়ার আবেদন করলেও আদালত মঞ্জর করেননি। পরিস্থিতি এমন যে আদালত, পুলিশ ও মিডিয়া ক্ষমতাসীনদের রঙিন চশমায় দেখা গণতন্ত্রের রূপ দেখতে চায়। দেশে কার্যত কোন নির্বাচন হয়নি। রাতের আধারে আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরা হয়েছে। 

এ নির্বাচন কেমন হয়েছে তার ইতিহাস যেহেতু খুব বেশী দিনের নয় তাই তা্ এ বিষয়ে বেশী কিছু বলতে চাইনা। শুধু বলবো উপরে থুতু ছিটালে নিজের গায়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। 

১৯৭৮ সালে সামরিক শাসন থেকে সংবিধানসম্মত রাষ্ট্রপতি পদে উত্তরণের জন্য জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের হয়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করেন।  জিয়াউর রহমানের নির্বাচন স্বচ্ছ ছিল এ কথা আমি বলবো না। ১৯৭০ , ১৯৭৩ এর নির্বাচন কি স্বচ্ছ হয়েছিল?  ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন ? জনগনের এমন কোন মেন্ডেড ছিল কি  যে ২৫ জানুয়ারী  ১৯৭৫ সালে ১ দিনে একদলীয় শাসন কায়েমের। ধরে নিলাম জিয়ার আমলে নির্বাচন স্বচ্ছ ছিলনা। কিন্তু কোন আমলে নির্বাচন স্বচ্ছ ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে। আর বর্তমানে তো  পুর্ববর্তী রাতের অন্ধকারে ব্যালট বাক্স ভরা হয়। গনতন্ত্রের বুলি আওরকরা এসব নিয়ে কথা বলেনা কেন?  রাজনীতিতে কাউকে আমি অপছন্দ করতে পারি, তাই বলে লাগামহীন কারো বিরুদ্ধে বলা উচিৎ বলে আমি মনে করিনা। দোষ ক্রটিতে মানুষ। শেখ মুজিব যেমন অনেক গুনের অধিকারী ছিলেন,  ৬৯ এর গণঅভ্যূত্থান, আগরতলা হয়ে  ১৯৭১ সালের দেশের স্বাধীনতা এমনকি ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষেও জনগণ তাকে সাপোর্ট দিয়েছে। বাকশাল করে একদলীয় শাসন করার আগ পর্যন্ত তার তেমন কোন সমালোচক মেরুডন্ড সোজা করে দাড়াতে পারিনি। যদিও তার সাড়ে তিন বছরের শাসনামল নিয়ে জনগনের অভিযোগের অন্ত ছিলনা। তবু দোষে গুনে মানুষ। বাংলাদেশের স্বাধীনতায় তার অবদান তার ঔ দোষগুলিকে ঢেকে দেয়। তিনি একজন সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। ইতিহাস তাকে একটি  অবস্থায় স্থান করে দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার তাকে নিয়ে যে ইতরামী শুরু করছে তা কোনভাবেই কাম্য নয়। দেশের স্বাধীনতায় তার অবদানকে এমন ফুলে ফেপে তুলে ধরছে আর অন্যদের যেভাবে ইতিহাস থেকে ছুড়ে ফেলছে তা আদৌ ঠিক নয়।  মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা কেবল ৯ মাসের যুদ্ধে হয়নি এবং কেবল একজন ব্যক্তির অবদানএ নয়। 

১৭৫৭ সালের জুন ২৩ তারিখে পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ে যে বাংলার স্বাধীনতা ইংরেজদের হাতে অর্পিত হয়। তা পুণরুদ্ধারে যুগে যুগে অনেক কালপুরুষ এসেছিলেন সাম্প্রতিক সময়ের শহীদ শোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা ভাষাণীকে বাদ দিয়ে তো কোন ইতিহাস রচিত হতে পারে না।  এদের মতো তেমনি একজন ছিলেন  মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। এখন কেউ যদি বলে ১৯৭১ এর আগে কে চিনত একজন অখ্যাত মেজরকে, তা হয়না। মানুষ জন্ম থেকে পরিচিতি নিয়ে আসেনা। কর্মতে পরিচিত হয়। একসময় শহীদ শোহরাওয়ার্দী, ভাষানী,শেখ মুজিব কে ও কেউ চিনতনা। তারা  তাদের কর্মের মাধ্যমে স্মরণীয় হয়ে আছেন। তাই সমালোচনা বাদ দিয়ে প্রকৃত সত্য ও ইতিহাস তুলে ধরুন  না হলে নিজেরা আস্থাকুড়ে নিক্ষেপ হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন না। 


সমালোচনা করার আগে ইতিহাস ঘেটে সত্যটা বের করুন। আর সত্যটা হলো মরহুম জিয়াউর রহমানই জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক। তিনি অসীম সাহসী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা যিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মপক্ষ ত্যাগকারী প্রথম সেনানী যিনি ৯ মাস কেবল যুদ্ধ করেননি, সাথে ১১টি সেক্টরের ১টির কমান্ডার, তিনটি ফোর্সের মধ্যে একটি ফোর্সের নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছেন।  তিনি ইতিহাসে নিজের অবস্থানে স্বকীয়।

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ