"মেরা বিল্লি মেরা ছামনে মিউ মিউ করতা হায় ! চূপ রহ" !

July 2, 2020, 9:12 AM, Hits: 948

"মেরা বিল্লি মেরা ছামনে মিউ মিউ করতা হায় ! চূপ রহ" !

বশীর উদ্দীন আহমেদ, হ-বাংলা নিউজ, জর্জিয়া থেকে আটলান্টায় আমার ঘণিস্ট বন্ধু( যদিও কিছু কাল যাবত যোগাযোগ নেই) আটলান্টার প্রাচীনতম কেন্দ্রীয় আল-ফারুক মসজিদের স্বেচ্ছা সেবক গোলাম দস্তগীর ভাই(কূড়িগ্রাম) ও আমি প্রতি রমজানে ভলান্টীয়ার করতাম ,এতেকাফ ও করতাম! একদা এতেকাফের সদস্য সংখ্যা বেশী হওয়ায় কথা বার্তা বেশী হতে লাগল! ফলে ইবাদত বন্দেগীতে মন লাগানো যাচ্ছিল না! কেই না কেউ কথা বার্তায় ফোনালাপে রত আছেন সারাক্ষন! দস্তগীর ভাইকে চাপ দিলাম (তিনি আমীর) উনাদের যেন আস্তে কথা বলতে বলেন! আস্তে কথা বলতে বলায় সবাই একদম চূপ হয়ে গেলেন! এখন তারা আর খাওয়ার সময় ও কথা বলেন না! স্বভাবতই আমরা এতেকাফে বিভিন্ন দেশের লোক! বাংলাদেশী আমরা মাত্র দুই জন! খাওয়ার সময় তিনি বললেন আস্তে আস্তে কথা বলা যাবে ! কথা বলা একেবারে বন্ধ করার দরকার নেই! কি যন্ত্রণা একবার বলেন চূপ থাকতে! আবার বলেন কথা বলা যাবে! ??

দস্তগির ভাই এক মজার গল্প শুনালেন! উনাদের কূড়ী গ্রামে নাকি একটা মাজার আছে "চূপ শাহর" মাজার! চূপ শাহর আসল নাম কেউ জানেনা! তিনি ছিলেন এক মস্ত বড় পীর বুজুর্গ ওয়ালি আউলিয়ার সাগরেদ! একদা পীরের সাথে দেখা করতে আসেন কিছু লোক! পীরের সাথে কথা বার্তার এক পর্যায়ে দেখা গেল চূপ শাহ বেশী বেশী কথা বলছেন! অনেক সময় পীরের কথার উপরও তিনি কথা বলছেন! ফলে তার গুরু তার উপর রেগে গিয়ে ভর্তসনা করে বলেন ঃমেরা বিল্লি মেরা সামনে মিউ মিউ করতা হ্যাঁয়! চূপ রহ"!! তিনি একদম চূপ বনে যান! পীর যত দিন জিন্দা ছিলেন তিনি আর কথা বলেননি! কিন্তু সমস্যা দেখা দিল পীর মারা যাওয়ার পর! এখন আর কথা বলতে সমস্যা নেই তাই তিনি কথা বলতে চেস্টা করলেন কিন্তু দীর্ঘ কথা না বলায় তিনি আর চেস্টা করেও কথা বলতে পারলেন না! তার জবান চিরতরে অন্ধ হয়ে গেছে! এভাবেই বোবা অবস্থায় একদিন তিনি মৃত্যু মূখে পতিত হন! কূড়ি গ্রামে কোথাও নাকি চূপ শাহর মাজার বিরাজমান!

বলছিলাম এককালের আপোষহীন নেতৃ বেগম খালেদা জিয়ার কথা! তিনি কিছুকাল যাবত চূপ হয়ে বসে আছেন! করণাক্রান্তিতে দেশে মহামারি, তিনি চূপ! এই উপলক্ষে দেশে মহা চুরি, তিনি চূপ! দেশে একটি বাজেট ঘোষনা করা হল, তিনি চূপ! এ'বাজেট মানুষ মারার বাজেট নাক্‌ মানুষ বাচানোর বাজেট! চূপ থাকলে আমরা জানব কি করে!? এ'অবস্থা চলতে থাকলেতো চূপ শাহর মাজারে দেশ ভরে যাবে!

এমন কি, স্বচ্ছা নির্বাসিত উনার জ্যাস্ট পুত্রও চূপ মেরে বসে আছেন! সংসদে সীট কম থাকলেও তার দল দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল! তার শর্ত স্বাপেক্ষ কারামূক্তিতে তার নিজ দলের কোন ভূমিকা নেই একথা সবাই জানে! পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়রা সরকারের সাথে আলাপ আলোচনা করে তাকে হয়তো একটা সমঝোতার মাধ্ম্যে বের করে এনেছেন! কিন্তু তাই বলে এভাবে চূপ থাকলেতো এক দিন জবান বন্ধ হয়ে যাবে! চেস্টা করলেও আর কথা বলতে পারবেন না! আর বল্লেও দেশের মানুষ গুরুত্ব দেবেনা! মনে পড়ে কাজী নজরুল ইসলামের কথা ! জেলে থেকে জেলের দেয়ালে নাকি লিখে ফেলেন " এদেশ ছাড়বি কিনা বল! নইলে কিলের চটে হাড় করিব জল! " আপনার আসোষহীন নেতৃ খেতাব কি তাহলে বিফলে গেল! এ'অবস্থা চলতে থাকলে আগামিতে চূপ শাহর দরবারে দেশ ছেয়ে যাবে সন্দেহ নেই!

বর্ত্মান ক্রান্তি কালে মূখে খৈ ফুটানো অনেকেই চূপ শাহ বনে গেছেন! সরকারের সমালোচনায় অতীতে সোচ্চার তিন মাহমুহ( মান্না মাহমুদ,আমাদের দেশ মাহমুদ ও শওকত মাহমুদ) এখন চূপ শাহ বনে গেছেন! চূপ মেরে আছেন এককালের তূখোড় সাংবাদিক শফিক রেহমান! চূপ করে আছেন টক-শো কাপানো ব্যারিস্টার মঈনূল হোসেন ও আন্দালিব রমহান পার্থ ! চুপ চাপ আছেন মওদুদ সহ অনেকেই! তারা বাজেট নিয়েও কোন কথা বলছেন না! আর জামাতি ভাইজানদের কথা আর নাই বা তুললাম! তাদের জিহাদী জজবাহ শেষ! "বাচলে শহীদ মরলে গাজী ,আমরা আমরা সবাই মরতে রাজি"! এখন দেখি সবাই পাজী! ফোক্কা আওয়াজ আর নেই! এখন আর কেউ বায়তুল মোকার্মের উত্তর কিম্বা দক্ষিণ গেইট থেকে "আমরা সবাই তালেবান, বাংলা হবে আফগানিস্থান" চিৎকার দেয়ার সাহস পায়না!

শেখা হাসিনা সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য হল দেশ থেকে জ্বালাও পোড়াও ভাংচূরের রাজনীতি তিনি নির্মূল করেছেন! এক সময় এক সাথে ৬৪ জেলায় বোমা ফাটানেওলাদের তিনি কি ভাবে ঘায়েল করলেন! এ'এক মহা আশ্চর্য্য ব্যাপার! রহস্যতো বটেই!

 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ