কুয়েতী ব্যাংকার সুইজারল্যান্ডে গেলেই গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হবে

July 27, 2020, 5:07 AM, Hits: 165

কুয়েতী ব্যাংকার সুইজারল্যান্ডে গেলেই গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হবে

হ-বাংলা নিউজ : ধীরে ধীরে কুয়েত সরকারের আমলাতন্ত্র দুর্নীতির অনেক থলের বিড়াল বের হয়ে আসছে। একজন কুয়েতী সাবেক ব্যাংকার যিনি ৭৯৫ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ বা ৮৫০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের প্রতারণা করেছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে, এখন তদন্তে শেষে সুইজারল্যান্ডে গ্রেপ্তারের অপেক্ষায় আছেন।


তিন দশক ধরে অপকর্মের সঙ্গে জড়িত লন্ডনে অবস্থানরত ধনী কুয়েতী ব্যবসায়ী ফাহাদ মজিয়াদ আল রাজন একজন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা। তিনি কুয়েতী জনগণের পেনশন তহবিল থেকে প্রায় ৭৯৫ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ বা ৮৫০ মিলিয়ন ডলার (৩.১২ বিলিয়ন কুয়েতী দিরহাম) চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত এবং সুইস কর্তৃপক্ষ অপেক্ষায় আছে যদি তিনি সুইজারল্যান্ডে ভ্রমণ করেন তবে তাকে গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হতে হবে। ৭১ বছর বয়স্ক ফাহাদ মজিয়াদ আল রাজন ১৯৯২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত, আহলি ইউনাইটেড ব্যাংক পিএলসির পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

জনসাধারণের পেনশন তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাৎ করা এবং বিদেশের অ্যাকাউন্টে লুকিয়ে রাখার অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে এই সাবেক কুয়েতী ব্যাংকার বর্তমানে লন্ডনে বসবাস করছেন। আল রাজন ছয় বছর আগে কুয়েত থেকে লন্ডনে পালিয়েছিলেন এবং ২০১৭ সালে সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। ২০১৬ সালে তাকে এবং তাঁর স্ত্রী মোনা আল-ওয়াজ্জান কুয়েতে তাঁদের অনুপস্থিতিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।


গত মাসে বিচারিক আদালত বলেন, ফাহাদ মজিয়াদ আল রাজন গত ৩০ বছর ধরে কমপক্ষে ২১০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে বিলাস বহুল জীবনযাপন করে চলেছেন। ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করার অভিযোগে অভিযুক্ত আল রাজনের সুইজারল্যান্ড, বাহরাইন, লেবানন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর এবং লিচটেনস্টাইনের মতো দেশে সম্পদ রয়েছে বলে জানা গেছে।


কুয়েতী পেনশন ফান্ড যুক্তরাজ্যের লন্ডনে আল রাজন, তার স্ত্রী মোনা আল-ওয়াজ্জান, বেশ কয়েকটি সুইস প্রাইভেট ব্যাংক এবং কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করে, যাদের মাধ্যমে আল রাজন পেনশন তহবিলের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। লন্ডনে সাতটি বিভিন্ন মামলার বিরুদ্ধে যে আইনি লড়াই চলছে তার কেন্দ্রে আছেন রাজন, যিনি বছরের পর বছর কিকব্যাকস এবং গোপন কমিশনের মাধ্যমে পেনশন ফান্ড থেকে কয়েক শ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন। আল রাজন মামলার ৩৭ জন আসামির মধ্যে অন্যতম।


আল রাজন তাঁর ক্ষমতা খাঁটিয়ে কয়েক কোটি কোটি ডলার কুয়েত পেনশন তহবিলের পক্ষে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ছত্র ছায়ায় অফশোর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরিয়ে নেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ব্যবহার করে কমিশনের এক বিরাট অংশ নিজের পকেটে পুরেন। দায়ের করা মামলায় বলা হয়, ব্যাংকগুলো গোপন কমিশন প্রদান করে এবং এই অবৈধ অর্থ কোথায় যাচ্ছে তা গোপন রাখে। কার্যত ভুয়া নাম ও নথি ব্যবহার করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।


কুয়েতী পেনশন ফান্ড, পাবলিক ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল সিকিউরিটি, লন্ডনে এই মামলার শুনানি চায়, যেখানে এই তহবিলের সাবেক মহাপরিচালক আল রাজনের অপকর্মের ব্যাপক সাক্ষী প্রমাণ মিলবে। তবে যে দু'টি ব্যাংক এই অপকর্মের সঙ্গে লিপ্ত, তারা বলেছে যুক্তরাজ্যে নয় সুইজারল্যান্ডে এই মামলার শুনানি করা উচিত, যেখানে বেশির ভাগ চুক্তি হয়েছিল। তবে গ্রেপ্তারের ঝুঁকির কারণে ফাহাদ মজিয়াদ আল রাজন সুইজারল্যান্ডে হাজির হবেন না।


সুইস ব্যাংক পিকটে এবং মীরাবাউ এই অন্যায় কাজ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে যে সুইস ব্যাংকিং গোপনীয়তার নিয়মের কারণে আইনি লড়াইয়ে তারা লন্ডনে যথাযথভাবে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে অক্ষম।


সুইজারল্যান্ডে এই মামলার শুনানি হওয়া উচিত বলে মনে করে ব্যাংক পিকটে। কারণ লন্ডনে একমাত্র সাক্ষী হলেন আল রাজন এবং তাঁর স্ত্রী এবং বেশির ভাগ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং সংশ্লিষ্ট নথি সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে। ব্যাংক পিকটে বলেছে, সুইজারল্যান্ডে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে ফান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে।


ব্যাংক মীরাবাউর মুখপাত্র বলেন, ‘জোরালোভাবে’ ব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো থেকে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবে। তিনি বলেন ফান্ডের তথাকথিত গোপন কমিশন সম্পর্কে ব্যাংক অবগত ছিল। কুয়েতী ফান্ড বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ম্যান গ্রুপ, সুইস প্রাইভেট ব্যাংক ইএফজি ইন্টারন্যাশনাল এবং ইউ বি পি (ইউনিয়ন ব্যাংকার প্রিভে) বিরুদ্ধেও মামলা করছে। আল রাজন তহবিল প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেছেন, তবে অন্যায় কাজকে অস্বীকার করেছেন। অভিযোগগুলো রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত বলে তিনি মনে করেন। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ