গ্রেটা থুনবার্গের বাংলাদেশ–ভারতে বন্যার্তদের জন্য ১ লাখ ইউরো সহায়তা

July 29, 2020, 9:36 AM, Hits: 96

গ্রেটা থুনবার্গের বাংলাদেশ–ভারতে বন্যার্তদের জন্য  ১ লাখ ইউরো সহায়তা

হ-বাংলা নিউজ : বাংলাদেশ ও ভারতে বন্যার্তদের জন্য এক লাখ ইউরো অর্থসহায়তা দিয়েছে সুইডিশ কিশোরী ও জলবায়ু পরিবর্তনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। এই অর্থ থেকে বাংলাদেশে বন্যার্তদের সাহায্য করতে ব্র্যাক পাবে ২৫ হাজার ইউরো। আজ বুধবার বেসরকারি সংগঠন ব্র্যাকের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।


২০ জুলাই গ্রেটা ‘গুলবেনক্যিয়া প্রাইজ ফর হিউম্যানিটি’ পুরস্কারে ভূষিত হয়, যার অর্থমূল্য এক মিলিয়ন ইউরো। এই অর্থ পুরোটাই গ্রেটা থুনবার্গ ফাউন্ডেশন জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কাজ করা দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে, বিশেষ করে ‘গ্লোবাল সাউথে’ ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ব্যয় করবে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য এই সাহায্য ঘোষণা।

অর্থসহায়তার ঘোষণা দিতে গিয়ে গ্রেটা বলে, জলবায়ু সমস্যা খুবই জরুরি একটি বিষয়। বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথে বসবাসকারী মানুষেরা ইতিমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিধ্বংসী প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

গ্রেটা বলে, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রতিক বন্যায় লাখ লাখ মানুষ গুরুতরভাবে ভুগছে। কোভিড-১৯ মহামারি ও সাইক্লোন আমফানে যখন তারা বিপর্যস্ত, তখনই যুক্ত হয়েছে এই দুর্ভোগ। বিশ্ব সংবাদমাধ্যম এই বন্যাকে উপেক্ষা করে চললেও দুর্গত এই মানুষগুলোকে সাহায্য করতে আমাদের সম্ভাব্য সবকিছুই করতে হবে। আমি সৌভাগ্যবান যে তাদের সাহায্য করতে নিজের পুরস্কারের অর্থগুলো এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে দিতে পারছি। এই প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা পৌঁছে দিতে পারে।’


ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গ্রেটার এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী।


আসিফ সালেহ বলেন, ‘এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তহবিলের খুবই প্রয়োজন। দেশ যখন সাইক্লোন আমফানের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে এবং যখন কোভিড-১৯ মহামারির কারণে লাখ লাখ মানুষের উপার্জন ও খাদ্যনিরাপত্তা–ঝুঁকির মুখে, তখন এই অস্বাভাবিক দীর্ঘ বন্যা তাদের নতুন করে বিপদের মুখে ফেলেছে। এই তহবিলের মাধ্যমে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা পৌঁছে দিতে পারব।’


চলমান বন্যা বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা প্লাবিত করেছে এবং প্রায় ২৮ লাখ মানুষ এখন ক্ষতিগ্রস্ত। মৌসুমি বন্যায় ভারতে এ পর্যন্ত ১১৩ জন মারা গেছে এবং প্রায় ৬৮ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত।


এই ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ব্র্যাক ছাড়াও একশনএইড বাংলাদেশ, একশনএইড ইন্ডিয়া ও পরিবেশবাদী সংগঠন গুঞ্জ সমপরিমাণ অর্থ পাবে। 

 
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ