লস এঞ্জেলেসে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন

August 15, 2020, 2:46 PM, Hits: 1338

লস এঞ্জেলেসে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন

হ-বাংলা নিউজ, হলিউড থেকে : লস এঞ্জেলেস এর  বাংলাদেশ কনস্যুলেট যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালন করেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। চলমান বৈশ্বিক করোনা মহামারী বিশেষ করে লস এঞ্জেলেসে করোনা পরিস্থিতি অবনতির কারণে স্থানীয় সরকারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি প্রতিপালন করে কনস্যুলেটের বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

কনসাল জেনারেল কর্তৃক জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করনের মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি সূচনা করা হয়। 

অতঃপর চ্যান্সেরীর বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে স্থাপিত জাতির পিতার ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে সম্মান জানানো হয়। ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করার পর জাতির পিতা, বঙ্গমাতা, তাদের পরিবার নিহত সকল সদস্য ও অন্যান্য শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে প্রেরিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীএবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতির পিতার জীবন কাহিনীর উপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র "বঙ্গবন্ধু-বজ্রে তোমার বাজে বাঁশি" প্রদর্শিত হয়। শোক দিবসের তাৎপর্য এর ওপর আলোচনা শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সকল সদস্য ও অন্যান্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কনস্যুলেটের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রচারিত দৈনিক "Los Angeles Time" -এ মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী প্রকাশিত হয়।

লস এঞ্জেলেসে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল জনাব তারেক মোহাম্মদ তার বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর দূরদর্শী ও সাহসী নেতৃত্ব এবং অবিস্মরণীয় অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বঙ্গবন্ধু তার নিজস্ব স্বকীয়তায় আজ বিশ্বের দরবারে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে সম্মানিত। তিনি বলেন যে, স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্র ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করলেও তার আদর্শ ও নীতি কে মুছে ফেলতে পারেনি। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডে জড়িত ঘাতকচক্র কে বিচারের আওতায় এনে বাঙালি জাতিকে এই অপরাধের গ্লানি থেকে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বিদেশে পলাতক বাকি সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের কে শীঘ্রই দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের বিচারের রায় কার্যকরের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।  কনসাল জেনারেল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্তৃক গৃহীত উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলকে যার যার অবস্থান থেকে সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানান।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সহ তাদের পরিবারের শাহাদাত বরণকারী সকল সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের রুহের মাগফেরাত এবং দেশের শান্তি মঙ্গল ও উন্নয়ন কামনা করে বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়। 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ