আহলে সুন্নাত ইউএসএ'র শানে শাহাদাতে কারবালা র‌্যালী অনুষ্ঠিত

September 2, 2020, 9:58 AM, Hits: 180

আহলে সুন্নাত ইউএসএ'র শানে শাহাদাতে কারবালা র‌্যালী অনুষ্ঠিত

হ-বাংলা নিউজ : মহান আল্লাহ তা’য়ালার সন্তুষ্টি ও মহান প্রিয়নবীর প্রেম অর্জনে পবিত্র কোরআন শরিফে উদ্ধৃত ও পবিত্র হাদিস শরিফে ঘোষিত মুসলিম মিল্লাতের শাহাদাত ৬১ হিজরীতে কারবালার  প্রান্তরে সংগঠিত “সাইয়্যিদুশ শুহাদা” ইমামে আকবর ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর পবিত্র শাহাদাত ১০ই মহররম-এর ১৩৮১তম বার্ষিকী উপলক্ষে “শানে শাহাদাতে কারবালা র‌্যালী মাহফিল” আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসএর উদ্যোগে গত ৩০শে আগষ্ট রবিবার নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজা চত্তরে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসএর কার্যকরী সভাপতি সৈয়দ হেলাল মাহমুদ। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও পবিত্র না’ত শরিফ পাঠের মাধ্যমে মাহফিল শুরু হয়। মাহফিলে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি হাফেজ মাওলানা মাহমুদ আলী, সহ-সভাপতি মাওলানা আনোয়ার কাদেরী ও যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মুহাম্মদ ওমর ফারুক প্রমূখ। র‌্যালীতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ ও শুভাকাংখী মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমান, আইনজীবি মুহাম্মদ মুশতাকুর রহমান, আবু তাহের, গোলাম খান লিপটন, সৈয়দ ফারুক, মুহাম্মদ নাজের উদ্দিন, রশিদ খান সেন্টু, আব্দুল ফয়েজ কবির, মোহাম্মদ সোহেল রেজা, মুহাম্মদ আব্দুল হালিম, বাবুল ভূঁইয়া প্রমুখ।

বক্তাগণ শাহাদাতে কারবালার প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য্য ব্যাখ্যা করে বলেন যে শাহাদাতে কারবালার শিক্ষা হক্বের পক্ষে বাতেলের বিরুদ্ধে সংগ্রামের শিক্ষা, শাহাদাতে কারবালার শিক্ষা হক্ব ও বাতেলকে বিচ্ছিন্ন রাখার শিক্ষা, শাহাদাতে কারবালার শিক্ষা অবৈধ-স্বৈরাচারী-গোত্রবাদী-জালেম ও অভিশপ্ত এজিদবাদের কাছে মাথানত না করার শক্ষা এবং শাহাদাতে কারবালার শিক্ষা সকল বাতেল ফেরকা ও সকল ধর্মদ্রোহী মতবাদের বিরুদ্ধে, শাহাদাতে কারবালার শিক্ষা ঈমানের পক্ষে ধর্মের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণের পক্ষে নবীপ্রেমকে কেন্দ্র কওে আল্লাহ তা’য়ালার সন্তুষ্টির লক্ষ্যে সর্বোচ্চ ত্যাগ ও দৃষ্টান্ত হওয়ার শক্ষা। 

সংগঠনের সভাপতি হাফেজ মাওলানা মাহমুদ আলী বলেন যে, ১০ই মহররমই “ইসলামী শহীদ দিবস” তথা “বিশ্ব মানবতার শহীদ দিবস” “মানবতা রক্ষা দিবস” এজিদবাদের স্বৈরশাসন ও জুলমের বিরুদ্ধে “সংগ্রাম সূচনা দিবস” ও এজিদী চক্রান্ত “অরাজনৈতিকতা উৎথাত দিবস”। সমাজ রাষ্ট্র বিশ্ব ব্যাবস্থা উৎখাতকারী কাফের এজিদকে কোন না কোনভাবে সমর্থনকারী, অব্যাহতি ও প্রশ্রয়দাতা যে কেউ; কোরআন সুন্নাহর নিরীখে; ধর্মদ্রোহী মুরতাদ অভিশপ্ত ও জাহান্নামী। তিনি আরো বলেন, ৬১ হিজরীর পর শাহাদাতে কারবালাই ঈমান-কুফর, কলেমা-বস্তুবাদ, ইসলাম-বাতেল ফেরকা, দ্বীন-দুনিয়া, সত্য-মিথ্যা, ইনসাফ-জুলম, মুক্তি-দাসত্ব, আস্তিকতা-নাস্তিকতা, রহমত-লা’নত ও স্বাধীনতা-পরাধীনতার পার্থক্যের মাপকাঠি। তিনি বলেন, ইসলামী সমাজ রাষ্ট্র বিশ্ব ব্যাবস্থা উৎখাতকারী কাফের এজিদকে কোন না কোনভাবে সমর্থনকারী, অব্যাহতি ও প্রশ্রয়দাতা যে কেউ; কোরআন সুন্নাহর নিরীখে; ধর্মদ্রোহী মুরতাদ অভিশপ্ত ও জাহান্নামী। মহান রাসূলের (সা.) ইসলাম তথা ঈমান কলেমা দ্বীন খেলাফত ইমামত আত্মিক আধ্যাত্মিক পারিবারিক সামাজিক রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক সর্বক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ আর তাই খন্ডিত আংশিক অপূর্ণাঙ্গ অথর্ব ধর্মের প্রবক্তা ইসলাম উৎখাতকারী কাফের ইয়াজিদ। খোলাফায়ে রাশেদীন, আহলে বায়াত ও সাহাবায়ে কেরামের  “খেলাফত” ও “ইমামত” ধর্মের আধ্যাত্মিক রাজনৈতিক পূর্ণাঙ্গতা জীবন দিয়ে রক্ষা করেছে; তাই “বেলায়েতের” নামে অরাজনৈতিক হয়ে খন্ডিত ধর্ম পালন কুফরী এজিদবাদ। হাফেজ মাহমুদ আলী বলেন, ৬১ হিজরীর পর ১০ই মহররমকে “আশুরা” বলা “শাহাদাতে কারবালা” অস্বীকার করা, “শোহাদায়ে কারবালা” বলা “দিবস” বা “উপলক্ষ” হতে বাঁধা দেয়া। ঈমান হলো “শাহাদাতে কারবালা” ও “শাহাদাতে কারবালা দিবস” বলা। কাফের ইয়াজিদ সৃষ্টির সর্ব নিকৃষ্ট কাফের ও  চির অভিশপ্ত জীব হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে অবস্হান না নেয়া তারই পক্ষাবলম্বন। মহান রাসূল (সা:) প্রদত্ত কলেমা দ্বীন খেলাফত সমাজ রাষ্ট্র বিশ্বব্যবস্থা উৎখাতকারী নরাধম ইয়াজিদ। তিনি আরো বলেন, কাফের ইয়াজিদ জন্মগত কাফের, শৈশব সে ছিল ফাজের, কৈশর ফাসেক, যুবক কালে ইমামে আকবর (রা:) ও অসংখ্য আহলে বায়াতের (রা:) হত্যাকারী, ইসলাম উৎখাতকারী, মক্কার হারাম শরীফে অগ্নি সংযোগকারী, মদীনায় মসজীদের নববীতে নামাজ বন্ধকারী ও মসজিদে নববীতে পশুচারণকারী, মদীনার মুমিন নারীদের ধর্ষণের হুকুমদাতা, জেনাকার, মদ্যপ, শরীয়তদ্রোহী ও হাজার হাজার নিরাপরাধ সাহাবী ও তাবেঈনের হত্যাকারী, বার্ধক্যকালে ইয়াজিদ রেসালত-নবুয়্যত অস্বীকারকারী। পরিশেষে  ইয়াজিদের  মৃত্যু  হয় কুষ্টরোগ, মস্তিষ্ক বিকৃতি ও কুফরভীতিতে। পবিত্র হাদিস শরীফে ঘোষিত: ইসলামী সমাজ রাষ্ট্র বিশ্বব্যাবস্থা উৎখাতকারী কাফের এজিদকে কোন না কোনভাবে সমর্থনকারী, অব্যাহতি ও প্রশ্রয়দাতা যে কেউ; কোরআন সুন্নাহর নিরীখে; ধর্মদ্রোহী মুরতাদ অভিশপ্ত ও জাহান্নামী।

বক্তাগণ সবাইকে শাহাদাতে কারবালার শিক্ষা ও চেতনায় ব্যক্তি-পরিবার ও সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। সালাতু সালাম, ক্বিয়াম ও বিশেষ মুনাজাত পাঠান্তে পবিত্র “শানে শাহাদাতে কারবালা র‌্যালী মাহফিল” সমাপ্ত হয়।

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ