ফলের রসের চেয়ে ফল বেশি উপকারী

September 12, 2020, 9:41 AM, Hits: 72

ফলের রসের চেয়ে ফল বেশি উপকারী

হ-বাংলা নিউজ : ফল দুভাবে আমরা খেয়ে থাকি—তাজা আস্ত ফল আর ফলের জুস। উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে ফলের জুস দুই রকম—বাণিজ্যিক ভাবে তৈরি ফলের জুস ও ঘরে হাতে বানানো ফলের জুস। ফলের রসের চেয়ে ফল অনেক স্বাস্থ্যকর। সুস্থতা রক্ষায় সবাইকে ফলের জুস না খেয়ে ফল খেতে বলা হয়। এর মূল কারণ হলো, ফলের ফাইবার বা খাদ্য আঁশ। মূলত ফল আস্ত খেলে অনেক ফাইবার বা খাদ্য আঁশ পাওয়া যায়। কিন্তু ফল থেকে জুস করা হলে তার আঁশ অনেক নষ্ট হয়। এ ছাড়া ফলে ন্যাচারাল সুগার থাকে কিন্তু বেশির ভাগ জুস বানাতে পানি দেওয়া হয়, ফলে এর স্বাদ বজায় রাখার জন্য চিনি যুক্ত করায় এর পুষ্টিগুণ অনেক নষ্ট হয়।

ফলে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম থাকে ফলের জুসের তুলনায়। অর্থাৎ, ফল খেলে ফলের ভেতরকার শর্করা ধীরে ধীরে ভাঙে, এতে রক্তে দ্রুত সুগার বৃদ্ধি পায় না। কিন্তু ফলের জুসের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি থাকায়, জুস খাওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে খুব দ্রুত এর সুগার শরীরে যায়। তাই ডায়াবেটিক রোগীর জন্য ফলের জুস স্বাস্থ্যকর নয়। 

কমার্শিয়াল ফলের জুসের সংরক্ষণের জন্য প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়, যা স্বাস্থ্যকর নয়। তবে ঘরে বানানো ফলের জুসে এই প্রিজারভেটিভ থাকে না। তাই ঘরে বানানো ফলের জুস কিছুটা হলেও বাণিজ্যিক ভাবে প্রস্তুত জুসের তুলনায় ভালো। যদিও আজকাল বড় কোম্পানিগুলো মানুষের স্বাস্থ্য বিবেচনায় অরগানিক ফলের জুস তৈরি করছে, কিন্তু তা ব্যয়বহুল।

ফল অবশ্যই সঠিক মাত্রায় খেতে হয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা, রোগ ভেদে এর পরিমাণ ভিন্ন হয়ে থাকে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিমিত ফল সঠিক সময়ে খেতে হয়। মনের রাখবেন, অতিরিক্ত ফল খেলে তা থেকে প্রাপ্ত অতিরিক্ত ক্যালরি ওজন বাড়িয়ে ফেলতে পারে। আবার ফল অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে যায় অনেকের। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাই ফল পরিমিত বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শমতো খেতে হয়। যেমন কিডনি রোগীরা সব ফল খেতে পারে না। ডায়াবেটিসের রোগীদের অতিরিক্ত মিষ্টি ফল মেপে খেতে হবে। যারা মোটা, তাদেরও ফল বুঝে পরিমিত পরিমাণে খেতে হয়। হার্টের রোগীর জন্য টক ও টক-মিষ্টি ফল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাতলা পায়খানা হলে পাকা কলা, আপেল ও নাশপাতি খুব ভালো। 

আবার যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য, তাদের জন্য পেঁপে, আম, বেল ভালো। রক্তের পটাশিয়াম কমে গেলে ডাবের পানি ও কলা ওষুধের কাজ করে। রক্তস্বল্পতায় বেদানা, কমলা, লাল আঙুর ভালো। ফলও প্রয়োজনে ওষুধের মতো কাজ করে। ফলের চেয়ে ফলের জুসের হেলথ বেনিফিট কম হলেও কিছু শারীরিক কন্ডিশনে ফলের চেয়ে ফলের জুস উপকারী, যেমন সার্জারির পর, গলায় অস্ত্রোপচার হলে বা গলানালিজনিত যেকোনো সমস্যায়। আবার ক্যানসারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি চলাকালীন অনেকের নিউট্রোফিল কাউন্ট কমে গেলে তাদের জন্য কাঁচা ফল বা ফলের জুস মানা করা হয়। তাদের বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুত ফলের রস বা অরগানিক ফলের রস দিয়ে ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা পূরণ করা হয়। বাচ্চারা নিতান্তই ফল খেতে না চাইলে তাদের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ফলের জুস দেওয়া হয়।

সুস্থ থাকার জন্য ফলের পুষ্টি খুব জরুরি। তাই নিচের বিষয়গুলো অবশ্যই মনে রাখা জরুরি।

১. ছোটবেলা থেকে বাচ্চাদের ফল খাওয়ার অভ্যাস করুন। ছোটবেলায় জুস দিলে বাচ্চা বড় হলে আর ফল খেতে চায় না।

২. একান্তই ফলের জুস খেতে হলে বাড়িতে বানানো ফলের জুসে প্রাধান্য দিন। ব্লেন্ডারে না করে হাতে কচলে বা ম্যানুয়ালি জুস বানানো হলে তাও কিছুটা উপকারী।

৩. ঘরে জুস বানালে কম পানি দিন, তাতে ফলের ন্যাচারাল স্বাদ বজায় থাকবে। আর পাল্পসহ জুস করুন অর্থাৎ না ছেঁকে, তাতে কিছুটা ফাইবার পাওয়া যাবে।

৪. ফলের জুস বানাতে চিনি বা মধু না দেওয়াই ভালো। তাতে ফলের ন্যাচারাল মিষ্টি বজায় থাকে। বাড়তি ক্যালরি যুক্ত হবে না।

৫. দেশি ও মৌসুমি ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো ও নিরাপদ। মৌসুমি ফল খেলে পুষ্টি শরীরে কাজে লাগে।

৬. ডেসার্ট হিসেবে ফলের জুড়ি নেই। ফলের কাস্টার্ড, সালাদ, স্মুদি ও ফল নিজেই মিষ্টান্ন হিসেবে কাজ করে।

৭. ফল বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ধুয়ে খেতে হয়। ফলের খোসাসহ খেলে অনেক ফাইবার বা আঁশ পাওয়া যাবে; যা কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে। 

 
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ